হুদাইবিয়ার সন্ধির সুফল | আমার কথা
×

 

 

হুদাইবিয়ার সন্ধির সুফল

coSam ১৪০


সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে একমাত্র হযরত আবূ বকর (রাঃ) ছাড়া সবাই হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তসমূহকে অপমানজনক বলে মনে করে ছিলেন। অথচ পবিত্র কোরআনে মানবীয় দৃষ্টিতে এ অপমান আর হেয় প্রতিপন্নতা স্বীকারকেই ফাতহুম মুবীন-সুষ্পষ্ট বিজয়, ফাওযুন আযীম-মহাবিজয়, মহাসাফল্য বলে ঘোষনা করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘটনাবলী পবিত্র কোরআনে এ ঘোষনা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রামাণিত করেছে। কেননা, হুদাইবিয়ার সন্ধির মধ্যে দিয়ে কুরাইশ ও তাঁদের সহযোগী গোত্রসমূহের হিংসা বিদ্বেষ অমানবিকতা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ক্ষমা ও শান্তিপ্রিয়তাঁর কাছে সম্পূর্ণরুপে পরাস্ত হয়েছে। কুরাইশের বাইরের কাছের মুশরিকদের অনেকেই চিন্তা করতে শুরু করল, এ যাবতকাল তাঁরা কুরাইশের প্ররোচনায় যা করে আসছে তা খুবই খারাপ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠ বা প্রতিশোধ গ্রহণের যথেষ্ট শক্তি তাঁর হয়েছে তা সত্ত্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি হেয়জনক শর্তে প্রতিপক্ষের সাথে সন্ধিচুক্তিতে উপনীত হতে কুণ্ঠবোধ করেন নি।

এটাই প্রকৃতপক্ষে মানবতাবাদী, শান্তিকামী কল্যাণকামি মানুষের প্রকৃত লক্ষণ। এতে অলক্ষ্যে কুরাইশ ও তাঁদের সহযোগী আরব গোত্রসমূহের অন্তরজগতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুপম দয়া মহত্ত্ব, উদারতা ও ক্ষমাশীলতার সদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। অধিকন্তু কুরাইশ নেতৃবৃন্দ মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে যেসব কদর্য প্রচার প্রাপাগাণ্ডা চালিয়ে আসছে, তাঁর মূলে কোন সত্যতা নেই। প্রকৃতপক্ষেই তিনি শান্তিকামী। যত নাটের গুরু কুরাইশরাই। তাঁরা এ পর্যন্ত আরবময় জনগণের মাঝে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসছে। জেহ, হঠকারিতা, অন্ধ বিদ্বেষেই আরা সমগ্র আরবে অশান্তি, হানাহানি আর যুদ্ধবিগ্রহ জিয়িয়ে রেখেছে। সমগ্র আরব জনগণ হুদাইবিয়ার সন্ধির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছে।

পক্ষান্তরে হুদাইবিয়ার সন্ধির সুবাধে মুসলমানরা সারা আরবের লোকদের সাথে খোলামেলাভাবে মেলামেশা করে ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ লাভ করে। ফলে ইসলাম, ইসলামের নবী ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশ নেতৃবৃন্ধ এ যাবত যে অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করে আসছিল, আরব জনগণের নিকট তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হতে শুরু করে। এ সুযোগ ইসলামের শিক্ষাও, মুসলমানদের জীবনধারা সম্পর্কে আরবের সর্বসাধারণ মানুষ অবগত হতে থাকে। তাঁদের চরিত্রমাধুর্য ও মহত্ত্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে মানুষ ধীরে ধীরে তাঁদের অনুগামী অনুসারী হতে শুরু কর।

এভাবে হুদাইবিয়ার সন্ধির পরবর্তী দু বছরের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্য দ্বিগুণ হয়ে যায়। হুদাইবিয়ার সন্ধি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলাম প্রসারে এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ থাকার যুযোগ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দূত মারফত পত্র পাঠিয়ে পার্শ্ববর্তী রোম, পারস্য, সিরিয়া, ইস্কান্দারিয়া প্রভৃতি দেশের শাসকদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছান। এ সন্ধির কল্যাণে ইসলাম আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করে। এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুফল হচ্ছে, মুসলমানরা ইসলাম প্রচার করে জনশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবর্তীর্ণ হবার শক্তি লাভ করে।

পরবর্তী গল্প
ওতবার ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
ক্বাযা ওমরাহ আদায়

ক্যাটেগরী