হিজরতের পর মদিনায় সাহাবাদের (রাঃ) দের কষ্ট সহ্য করা | আমার কথা
×

 

 

হিজরতের পর মদিনায় সাহাবাদের (রাঃ) দের কষ্ট সহ্য করা

coSam ১৫৪


হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) বলেন, নবী কারীম (সাঃ) ও তাঁহার সাহাবীগণ যখন মদীনায় আসিলেন এবং আনসারগণ তাহাদিগকে আশ্রয় দিলেন তখন সমগ্র আরব তাহাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হইয়া আক্রমণ চালাইল যেন সকলে মিলিয়া তাহাদিগকে এক ধনুকে তীর নিক্ষেপ করিল। সাহাবা (রাঃ)দের দিবারাত্র সর্বক্ষণ সশস্ত্র থাকিতে হইত। মুসলমানগণ পরস্পর বলাবলি করিতেন, আমাদের জীবনে কি এমন সময়ও আসিবে যে, আমরা শান্তিতে ও নিরাপদে রাত কাটাইব এবং আমাদের অন্তরে আল্লাহ ছাড়া আর কাহারো ভয় থাকিবে না? এই প্রসঙ্গে নিম্নের আয়াত নাযিল হইল-

অর্থঃ তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনয়ন করিয়াছে এবং নেক আমল করিয়াছে, আল্লাহ তাহাদেরকে দিয়াছেন যে, তাহাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করিবেন।

তাবারানীর রেওয়াতে হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হইতে বর্ণিত হইয়াছে যে, নবী কারীম (সাঃ) ও সাহাবা (রাঃ) যখন মদীনায় আগমন করিলেন এবং আনসারগণ তাহাদিগকে আশ্রয় দিলেন তখন আরব তাহাদিগকে এক ধনুকে তীর নিক্ষেপ করিল। অর্থাৎ তাহাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে শত্রুতা আরম্ভ করিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হইল- অর্থঃ তাহাদিগকে পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করিবেন।

হযরত আবু মূসা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (সাঃ)-এর সহিত এক যুদ্ধে রওয়ানা হইলাম। বাহনের অভাবে আমাদের ছয়জনের জন্য একটি উট ছিল। আমরা পালাক্রমে উহাতে আরোহণ করিতাম। পাথরের জমিনে খালি পায়ে হাঁটার দরুন আমাদের পায়ের চামড়া পাতলা হইয়া উহাতে ফোসকা পড়িয়া গেল এবং আমার নখগুলি ঝরিয়া গেল। অবশেষে আমরা পায়ে ন্যকড়া জড়াইয়া লইলাম। পায়ে ন্যকড়া জড়াইবার দরুন এই সফরের নাম ন্যকড়ার সফর রাখা হইয়াছিল।

উক্ত রেওয়াত বর্ণনাকারী আবু বুরদা বলেন, হযরত আবু মূসা (রাঃ) এই হাদিস বর্ণনা করিয়া বলিয়াছেন যে, আমি এই হাদিস বর্ণনা করিতে চাহিয়াছিলাম না। অর্থাৎ তিনি এই নেক আমলকে প্রকাশ করিতে চাহেন নাই। অতঃপর তিনি বলিয়াছেন, আল্লাহই উহার প্রতিদান দান করিবেন। (কোন দ্বীনী ফায়দা উদ্দেশ্য না হইলে নিজের নেক আমল গোপন রাখাই উত্তম বলিয়া তিনি এই কথা বলিয়াছেন।) 


পরবর্তী গল্প
হযরত ওমর (রাঃ) এর কষ্ট সহ্য করা - প্রথম পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হোযাফা সাহমী (রাঃ) এর কষ্ট সহ্য করা

ক্যাটেগরী