হাদিসের আলোকে আউলিয়ায়ে কেরামের ফজিলত | আমার কথা
×

 

 

হাদিসের আলোকে আউলিয়ায়ে কেরামের ফজিলত

coSam ৮৭


অসংখ্য হাদিসে আউলিয়ায়ে কেরামের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আলোচনা করেছেন। এখানে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হল। যেমন- তাফসীরে ইবনে কাসীরে আল্লামা ইবনে কাসীর (রহঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর একটি উল্লেখ করে লিখেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর ওলী সে সমস্ত মহাপুরুষ যারা সদা সর্বদা আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত থাকেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর ওলী কারা? রাসূল (সাঃ) বললেন, الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ আল্লাহর ওলী তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়।

বুখারী শরীফের এক হাদিসে কুদসীতে আছে-

অনুবাদঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি আমার বন্ধুদের (ওলী) সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমার পক্ষ হতে তার সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি। আমার বান্দা যে ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য সন্ধান করে, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হল ঐ সব ইবাদত যা আমি তাদের উপর ফরজ করেছি এবং বান্দা যখন সর্বদা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য খোঁজ করতে থাকে তখন আমি তাঁকে ভালোবাসি। আমার ভালোবাসা যখন বৃদ্ধি পায় তখন আমি তার কর্ণ হয়ে যাই, যা দ্বারা সে শুনতে পায়। আমি তার চোখ হয়ে যাই যা মাধ্যমে সে দর্শন করে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, তা দ্বারাই সে হাঁটে। সে যদি আমার নিকট কিছু চায় আমি তার চাওয়া পুরণ করি, যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে আমি তাকে আশ্রয় দেই। (বুখারী)

অন্য হাদিসে বয়াল হয়েছে-

অর্থঃ হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, একদা নবী কারীম (সাঃ) আমার দু কাঁধের উপর উপর হাত রেখে বললেন, দুনিয়াতে একজন মুসাফির বা পথচারীর মত দি যাপন করবে।

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, তুমি সকাল বেলা সন্ধ্যার জন্য এবং সন্ধ্যা বেলা সকালের জন্য অপেক্ষা করো না। (অর্থাৎ সদাসর্বদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থেকো) এবং সুস্থ অবস্থায় অসুস্থ অবস্থার জন্য, আর হায়াত থাকাকালে পরকালের জন্য সামান সংগ্রহ করে নাও।

অন্য হাদিসে আছে-

অনুবাদঃ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী কারীম (সাঃ)এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কোন ব্যক্তি? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। আগুন্তক পুনরায় জিজ্ঞেস করল, অতঃপর কোন ব্যক্তি? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পুনরায় বললেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে কোন নির্জন গুহায় আল্লাহর ইবাদত করে। অন্য রেওয়াতে আছে, সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে ভয় করে ও নিজের অনিষ্ট হতে সকলকে রক্ষা করে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, এমন কিছু লোক আছে যাদের মাথার চুল রুক্ষ্ম, ধূলামলিন ও অবিন্যস্ত, মানুষের দ্বার হতে তাঁরা অবজ্ঞায় প্রত্যাখ্যাত হয়। মানুষের নিকট তাদের কোন মূল্য নেই। কিন্তু আল্লাহর নিকট তাদের মরতবা এত অধিক যে, তারা যদি কোন বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করে বসে তবে আল্লাহ পাক তা পূরণ করেন। (মুসলিম শরীফ)

উল্লেখিত হাদিস ছাড়া আরো বহু হাদিস এ বিষয়ের উপর রয়েছে।

পরবর্তী গল্প
হযরত হিজকীল (আঃ) এর মু’যিযা

পূর্ববর্তী গল্প
নীল দরিয়ার রাস্তা

ক্যাটেগরী