হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে তীব্র বিতণ্ডা

কুরাইশ বংশের সকল গোত্রের লোক সম্মিলিতভাবে আপন মনে কাবা ঘর পুনঃনির্মানের কাজ করে চলছে। কোথাও পারস্পরিক বিভেদ পরিলক্ষিত হয়নি। যার যার কাজ সে তা করে চলেছে। কিন্তু গন্ডগোল শুরু হল হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) স্থাপন নিয়ে।


প্রত্যেক গোত্রই হাজরে আসওয়াদ পুনঃ স্থাপনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বদ্ধ পরিকর। এ নিয়ে বাক বিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করল। কেননা, সব গোত্রের লোকদের দৃষ্টিতেই হাজরে আসওয়াদ স্থাপনই প্রকৃত প্রাধান্যের নিদর্শন। অতএব, প্রত্যেক গোত্রের লোকেরাই স্ব স্ব ধারণা অনুযায়ী এ বিরল মর্যাদা লাভের দাবী করতে লাগল।


প্রত্যেকেরই দাবী-আমরাই এ পাথর স্থাপনের মর্যাদা লাভের অধিকারী। এ দাবী নিয়ে বিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত বিরাট আকার ধারণ করে। এ বিরোধে সকল গোত্রেরই উগ্র রণমূর্তি দেখে মক্কা নগরীর লোকেরা আতংকে শিউরে উঠল।


এহেন বাকবিতণ্ডার ভিতরে চার দিন অতিবাহিত হয়। মীমাংসার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের দাবীদার গোত্রগুলো তৎকালীন দেশ প্রথানুসারে রক্তপূর্ণ পাত্রে হাত ডুবিয়ে তারা মৃত্যুর প্রতিজ্ঞা করে। এটি আরবদের ভীষণ প্রতিজ্ঞা।


মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়ে গেল। এ সময় জলদগম্ভীর স্বরে উচ্চারিত হল -স্থির হও, স্তির হও- আমার কথা শোন-এই বলে দীর্ঘ শুদ্র শ্মশ্রুবিশিষ্ট বৃদ্ধ আবূ উমাইয়া উভয় বাহু উর্ধ্বে তুলে বলেন-স্থির হও। এ বৃদ্ধের স্বর শুনে সবাই ঘুরে দাঁড়াল।


তখন তিনি সকলকে বুঝিয়ে বলেন- একটা ভাল কাজ ভালোয় ভালোয় সমাধানের পর তোমরা মন্দের অশুভ সূচনা করো না। যে আগামীকাল ভোরে সর্বাগ্রে কাবা চত্বরে প্রবেশ করবে, এ বিবাদের মীমাংসার দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করে তোমরা তোমাদের এ কলোহের অবসান ঘটাও।


বৃদ্ধ আবূ উমাইয়ার প্রস্তাবে সকলেই সম্মত হয়ে রুদ্ধ শ্বাসে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে-পর দিন ভোরে কে সর্বপ্রথম কাবা চত্বরে প্রবেশ করে। সকল পক্ষই নানাবিধ চিন্তা-ভাবনায় অস্থির।


কে সর্বাগ্রে কাবা চত্বরে প্রবেশ করবে আর হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের গৌরব, মর্যাদা কার পক্ষে যাবে। সবাই অপলক নেত্রে পথের দিকে চেয়ে আছে। এমন সময় হঠাৎ? অজস্র কণ্ঠধ্বনি উঠল- এ যে আমাদের আল আমীন আমরা এঁর ফয়সালায় সম্মত আছি।


আল আমীন সবার বক্তব্য শুনে বলেন, যেসব গোত্র হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের মর্যাদা লাভে আগ্রহী, তারা স্ব স্ব গোত্রের একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত করুন। পরামর্শ মোতাবেক প্রতি গোত্রই নিজ নিজ প্রতিনিধি নিযুক্ত করল।


আল আমিন একখানা চাদর এনে হাজারে আসওয়াদ নিজহাতে তাতে স্থাপন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিবর্গকে হাজরে আসওয়াদসহ চাদরখানা যথাস্থানে নিয়ে যেতে বলেন।


তাঁর উপদেশ মোতাবেক হাজরে আসওয়াদ যথাস্থানে নিয়ে রাখা হলে তিনি সেটি তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিলেন। এভাবেই আমেনার এতীম দুলালের দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা সমগ্র আরব আসন্ন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে রক্ষা পেল।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।