হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে তীব্র বিতন্ডা | আমার কথা
×

 

 

হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে তীব্র বিতন্ডা

coSam ১২২


কুরাইশ বংশের সকল গোত্রের লোক সম্মিলিতভাবে আপন মনে কাবা ঘর পুনঃনির্মানের কাজ করে চলেছে। কোথাও পারস্পরিক বিভেদ বিরোধ পরিলক্ষিত হয়নি। যার যার কাজ সে তা করে চলছে। কিন্তু গন্ডগোল শুরু হল হাজরে আসওয়াদ কালো পাথর স্থাপন নিয়ে। প্রত্যেক গোত্রই হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

এ নিয়ে বাক বিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করল। কেননা, সব গোত্রের লোকদের দৃষ্টিতেই স্ব স্ব ধারণা অনুযায়ী এ বিরল মর্যাদা লাভের দাবী করতে লাগল। প্রত্যেকেরই দাবী-আমরাই এ পাথর স্থাপনের মর্যাদা লাভের অধিকারী। এ দাবী নিয়ে বিতণ্ডা শেষ পর্যন্ত বিরাট আকার ধারণ করে। এ বিরোধ সকল গোত্রেরই উগ্র রণমূর্তি দেখে মক্কা নগরীর লোকেরা আতংকে শিউরে উঠল।

এহেন বাকবিতণ্ডার ভিতর চার দিন অতিবাহিত হয়। মীমাংসার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের দাবীদার গোত্রগুলো তৎকালীন দেশ প্রথানুসারে রক্তপূর্ণ পাত্রে হাত ডুবিয়ে তারা মৃত্যুর প্রতিজ্ঞা করে। এটি আরবদের জন্য ভীষণ প্রতিজ্ঞা। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়ে গেল।

এ সময় জলদগম্ভীর স্বরে উচ্চারিত হল-স্থির হও, স্থির হও-আমার কথা শোন-এই বলে দীর্ঘ শুভ্র শ্মাশ্রুবিষিষ্ট বৃদ্ধ আবূ উমাইয়া উভয় বাহু ঊর্দ্ধে তুলে বলেন- স্থির হও। এ বৃদ্ধের স্বর শুনে সবাই ঘুরে দাঁড়াল। তখন তিনি সকলকে বুঝিয়ে বলেন- একটা ভাল কাজ ভালোয় ভালোয় সমাধানের পর তোমরা মন্দের অশুভ সূচনা করো না। যে আগামীকাল ভোরে সর্বাগ্রে কাবা চত্বরে প্রবেশ করবে, এ বিবাদের মীমাংসার দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করে তোমরা তোমাদের এ কলোহের অবসান ঘটাও।

 

পরবর্তী গল্প
হযরত তোফাইল (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত খাদীজার বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্বে আল আমিন

ক্যাটেগরী