হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৪ | আমার কথা
×

 

 

হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৪

coSam ১৪৪


হাওয়ারীদের সহযোগিতা - শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

খাদ্যভান্ডারটি উন্মুক্ত করে তাতে পাঁচটি রুটি ও ভুনা মাছ দেখতে পেলেন কিন্তু এ মাছে কোন কাঁটা নেই। এর মাথার কাছে লবণ ও লেজের কাছে সিরকা আর এর চতুর্পার্শ্বে রং বেরং এর শাক-সব্জি রয়েছে আর এক রুটির উপর যয়তুন, দ্বিতীয় রুটিতে মধু, তৃতীয় রুটিতে ঘি, চতুর্থ রুটিতে পনীর আর পঞ্চম রুটিতে রয়েছে শুষ্ক গোশত।

এটা দেখে শামউন বলল হে আল্লাহর নবী! এটা কি দুনিয়ার খাদ্য না বেহেশতের খাদ্য। হযরত ঈসা আঃ বলেন – তোমাদের সামনে উপস্থাপিত খাবারের একটিও দুনিয়ার খাদ্য আর না বেহেশতের খাদ্য। বরং এ খাদ্যই আল্লাহ পাক স্বীয় কুদরতের দ্বারা তোমাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। তোমরা এটা হতে আহার কর এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর।

আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দিবেন। তারা বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি প্রথমে আহার করুন। হযরত ঈসা আঃ বলেন আমি কিভাবে এটা হতে খেতে পারি? বরং যারা এখাদ্য চেয়েছিল তারা খাবে। বনী ইসরাঈলরা ঐতিহ্যগত ভাবেই সন্দেহ প্রবণ। তাই হযরত ঈসা আঃ এর খাদ্য আহার না করায় তাদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেগ হল। তারা আহারে সম্মত হল না।

তিনি তাদের মনভাব বুঝতে পেরে ফকীর মিসকীন ও রোগীদের ডেকে এনে আহার করায়ে দিলেন। তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা এ খাদ্য খাও আল্লাহ পাক তোমাদের সুস্থ করে দিবেন এবং তোমাদের অভাব মোচন করবেন। প্রায় আঠার শত ফকীর মিসকীন ও অসুস্থ নর-নারী আহার করল। সকলেই তৃপ্তির সাথে আহার করার পরও যেমন মাছ তেমনই রইল। অতঃপর খাদ্য ভান্ডার আকাশের দিকে উড়ে গেল আর সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

অবশেষে এটা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। যেসব রোগী আহার করেছিল তারা সকলেই রোগমুক্ত হয়ে গেল। আর যে সব ফকীর মিসকীন আহার করেছিল তারা বিত্তশালী হয়ে গিয়েছিল। যারা এটা হতে আহার করতে অস্বীকার করছিল তারা এটা দেখে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলল। কথিত আছে যে, প্রতিদিন দুপুরের পূর্বক্ষণে এখাদ্য নাযিল হত।

এভাবে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। অবশেষে একদিন খাদ্য ভান্ডার নাযিল হলে ধনী, গরীব, ছোট বড় ও নারী পুরুষ সকলেই এটা হতে খেল। আল্লাহ পাক এতে অসুন্তষ্ট হলেন এবং প্রতিদিন খাদ্য নাযিল না করে একদিন অন্তর অন্তর নাযিল করা শুরু করলেন। এতেও তাদের হুশ হল না। বিত্তশালী লোকেরা বিনা প্রয়োজনে আসমান হতে অবতীর্ণ খাদ্য ভক্ষণে লিপ্ত রইল। আল্লাহ পাক তাদেরকে সতর্ক করার জন্য হযরত ঈসা আঃ এর কাছে ওহী পাঠালেন।

হে ঈসা! আমার নাযিলকৃত খাদ্য শুধু ফকীর মিসকীন খেতে পারবে। এতে শুধু তাদেরই হক রয়েছে। বিত্তশালীদের কোন হক নেই। তারা যেন এটা হতে আহার না করে। হযরত ঈসা আঃ বিত্তশালীদেরকে আল্লাহ পাকের নির্দেশ জানিয়ে দিলেন।

হাওয়ারীদের সহযোগিতা - শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হাওয়ারীদের সহযোগিতা - শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৩

ক্যাটেগরী