হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ২

coSam ১৪৩


হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সর্দার চলিয়া যাওয়ার পর হযরত ঈসা আঃ একটি টবে এক প্রকার রং খুব সুন্দর করে পাক করলেন। অতঃপর সবগুলো বস্ত্র উক্ত টবে ভিজিয়ে রাখলেন আর বলেন- হে বস্ত্র সকল। আমি তোমাদেরকে টবে হতে বের আনার সময় যে রংঙে রঙ্গীন হতে বলি সে রঙ্গে রঙ্গীন হয়ে যেও। সর্দার ফিরে আসল। দেখল সবগুলো বস্ত্র একই টবে ভিজান হয়েছে।

সে হযরত ঈসা আঃ কে ডেকে বলল, হে ঈসা! আপনি কি কাজ শেষ করেছেন? হযরত ঈসা আঃ বলেন হ্যাঁ, করেছি। চলুন আমার সাথে। সর্দারকে টবের কাছে নিয়ে গেলেন। সর্দার বলল- আপনি এটা কি করেছেন। আপনি তো সব বস্ত্রই নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন- চুপ করুন। একটি বস্ত্রও নষ্ট হয়নি। দেখুন আমি কি করছি। অবশেষে টবের কাছে দাঁড়িয়ে একটা একটা করে বস্ত্র তুললেন। একেক বস্ত্র একেক রং এ রঙ্গীন। সর্দার যতটা যে রঙয়ের চেয়েছিল ঠিক তার চাহিদা মোতাবেক রঙ্গীন হয়ে বের হয়ে আসল। এটা দেখে সর্দার আশ্চর্য হয়ে পড়ল।

অন্যান্যদেরকে ডেকে এনে এ অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শ্ন করালো। সে বুঝতে পারল যে, তিনি নিশ্চয়ই এক অসাধারণ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই এ ঘটনাটি আল্লাহর পক্ষ ব্যতীত অন্য কোনভাবে সম্ভব নয়। তাই সে তার সাথীদেরসহ হযরত ঈসা আঃ এর প্রতি ঈমান আনল। যেহেতু তারা বস্ত্র ধৌত করে সাদা করত তাই তাদেরকে হাওয়ারীয়ীন বলা হয়েছে।

কেউ কেউ বলেন যে, তাদের অন্তর অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল বিধায় তাদেরকে হাওয়ারীয়ীন বলা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, তাদের অন্তর স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল বিধায় তাদেরকে হাওয়ারীয়ান বলা হয়েছে।

তারা হযরত ঈসা আঃ এর ডাকে সাড়া দিয়ে তার সাথে থেকে দ্বীন প্রচারের কার্যে নিজেদেরকে নিয়োজিত করল। তাদের অধিকাংশই ছিল গরীব। কিন্তু তাদের অন্তর অত্যন্ত সাদাসিধা। যেহেতু দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে সর্বদা লিপ্ত থাকায় তাদের জীবিকা উপার্জনের সুযোগ খুব কম হত। তাই তারা একদিন হযরত ঈসা আঃ এর কাছে আবেদনের সুরে বলল যে, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর মালিক। তিনি সবকিছুই করতে পারেন।

কিন্তু আমরা কিছুলোক খাদ্য সংগ্রহের জন্য খুব কষ্ট করছি। যদি হিকমতের পরিপন্থী না হয় তা হলে কি আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য আসমান হতে তৈরী খাদ্য পাঠাইতে পারেন না? পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- যখন হাওয়ারীরা ঈসা ইবন মারইয়ামকে বলল, তবে কি আপনার প্রভু আসমান হতে আমদের প্রতি খাদ্য ভান্ডার নাযিল করতে পারবেন। সূরা-মায়িদাঃ আয়াত- ১১২

হযরত ঈসা আঃ বলেন – তোমরা যে আবেদন করতে আমাকে বলছ তা আদবের খেলাফ যে কোন ফরমায়েশই আদবের খেলাফ হয়ে থাকে।

এটার অহংকারী ও ঔদ্ধত্য লোকদের তরীকা। তোমরা যা বলছ তাতে বুঝা যায় যে, আমার নবূয়তের প্রতি তোমরা সন্দেহমুক্ত নও। আমর ভয় হচ্ছে যে, আসমান হতে তোমাদের প্রতি খাদ্য নাযিল হলে তা তোমাদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদের জন্ম দিবে।

আল্লাহকে ভয় কর। আর এমন কোন আবেদন করো না যা তোমাদের মধ্যে ফেতনা ফাসাদের জন্ম দিবে। আমার প্রতি সন্দেহ প্রবন হয়ে নিজেদের ঈমান ধ্বংস করে দিও না। হাওয়ারীয়ীরা জবাব দিল হে নবী! আপনার প্রতি আমাদের কোন সন্দেহ নেই।

আপনার প্রতি আমাদের পরিপূর্ণ ঈমান রয়েছে। কোরআনের ভাষায়- অর্থঃ হাওয়ারীরা বলল- আমরা চাচ্ছি যে এটা হতে আমরা আহার করি আর আমাদের অন্তর স্থিরতা লাভ করে এবং আমরা একীনীভাবে জেনে নিবে যে, আপনি আমাদের কাছে সত্য বলেছেন আর আমরা এটার উপর সাক্ষ্য হয়ে যাব। সূরা-মায়িদাঃ আয়াত-১১৩

হাওয়ারীরা নাছাড় হয়ে বারবার এক কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। তাদের বার বার অনুরোধে তিনি নরম হয়ে পড়লেন। তিনি দোয়া করলেন- ঈসা ইবনে মারইয়াম বলেন- হে আল্লাহ! হে আমাদের রব আসমান হতে আমাদের প্রতি একটি খাদ্য ভান্ডার অবতীর্ণ করুন। যা আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লোকদের জন্য খুশী ও আনন্দের কারণ হয়। আপনার পক্ষ হতে একটি নিদর্শন প্রদান করুন। আর আমাদেরকে রিযক প্রদান করুন। নিঃসন্দেহে আপনি উত্তম রিযক প্রদানকারী। সূরা- মায়িদাঃ আয়াত- ১১৪।

হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হাওয়ারীদের সহযোগিতা - পর্ব ১

ক্যাটেগরী