হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১৮ | আমার কথা
×

 

 

হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১৮

coSam ১৫৬


হযরত হাসান বসরী (রঃ) - ১৭ তম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

অন্য যেকোন কামনা-বাসনা সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা মনে রাখাকেই ইখলাস বলে। হযরত হাসান (রঃ) বলেন, মানুষের জন্য পরিপূর্ণ ইখলাস, বিশুদ্ধ নিবিষ্টতা, স্বল্পে তুষ্টি ও সংযম এই চারটি বস্তু একান্ত প্রয়োজন। যার মধ্যে এই চার বস্তুর অস্তিত্ব বর্তমান, পরকালের সাফল্য সম্বন্ধে তার কোন চিন্তা বা সন্দেহ নেই।

এক লোক নামাজ পড়ত ঠিকই, কিন্তু এক একা। তাকে কখনও জামাতে নামাজ পড়তে দেখা যেত না। হযরত হাসান (রঃ) একদিন তাকে জামাতে নামায না পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। সে কোন লোকের সঙ্গে মেলামেশা না করার কথা বলল। হযরত তারও কারণ জানতে চাইলেন।

সে বলল, মাফ করবেন জনাব। আমি কঠিন এবাদাতে মগ্ন।

কেমন সে এবাদাত?

আমার এমন কোন নিঃশ্বাস সঞ্চালিত হয় না, যা সঙ্গে আল্লাহ্‌র রহমত নেই। আর আমি আল্লাহ্‌র নির্দেশের বিরোধিতা করি না। আমি আল্লাহ্‌র সেই রহমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনার কাজে প্রতি মুহুর্তে মশগুল থাকি। কাজেই আর কিছু করার সময় পাইনা। হযরত বললেন, দেখা যাচ্ছে তুমি আমার চেয়ে উত্তম কাজে লিপ্ত।

একজনের একটি প্রশ্নঃ

আপনার মনে কি কখনও খুশীর উদয় হয়েছে?

হযরতের উত্তরঃ হ্যাঁ। একদিন আমি আমার ঘরে বসে রয়েছি। বাইরে এক মহিলার গলার আওয়াজ শোনা গেল। সে তার স্বামীকে বলছে, পঞ্চাশ বছর ধরে আমি আপনার সঙ্গে রয়েছি। যখন যা দিয়েছেন তাতেই আমি সরব করেছি। শীতে কিংবা গরমে আলাদা আলাদা পোশাক চাইনি। আপনার অভাব ও অক্ষমতার প্রতি সহানুভূতি পোষণ করেছি। কখনও কোন অভিযোগ করিনি। কোন অপবাদ দিইনি। তবে আমার শুধু একটিই বলার কথা- দ্বিতীয়বার বিবাহ করার জন্য আমি আপনাকে অনুমতি দিতে প্রস্তুত নই। আমি দীর্ঘ দিন ধরে বহু কষ্ট সহ্য করেছি শুধু এই জন্য যে, আমি আপনার সব দিক দেখব। আপনি আর কারোর দিকে নজর দেবেন না। অন্য কোনদিকে আপনার মন যাবে না। এরপরও যদি আপনি দ্বিতীয়বার দার পরিগ্রহণ করেন, তাহলে আমীরুল মুমেনীনের কাছে আমি আপনার বিরুদ্ধে নালিশ জানাব।

হযরত হাসান (রঃ) বললেন, মহিলার এ কথা শুনে আমার চোখে পানি গড়াল। আমি এর দৃষ্টান্ত খুঁজতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত কোরআনের একটি আয়াত মনে পড়ে গেল। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। কিন্তু যারা তার সাথে অন্যকে শরীক করে, তাদের তিনি ক্ষমা করবেন না।

অর্থাৎ কুরআনের আয়াতটির সঙ্গে স্ত্রীলোকটির বক্তব্যের রয়েছে গভীর সামঞ্জস্য।

আর একটি প্রশ্নঃ আপনার অবস্থা কি?

হযরত হাসান (রঃ) উত্তম দিলেন, সমুদ্রে যাদের জাহাজ ভেঙে পড়ে ডুবে যাচ্ছে, আর যারা সামান্য এক খণ্ড কাঠ ধরে ভেসে আছে, তাদের আবার অবস্থা! তাদের অবস্থা তো দুঃখজনক। আমারও অবস্থা তাই।

এক ঈদের দিনে তিনি কোথায়ও যাচ্ছেন। দেখলেন, রাস্তার পাশে একদল তরুণ বেশ আমোদ-আহলাদ করছে। তাঁর মন্তব্যঃ এরা নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না। সে সম্পর্কে না কিছু জেনে এরা কিভাবে আমোদ-ফুর্তি করতে পারে?

হযরত হাসান বসরী (রঃ) - ১৯ তম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

পরবর্তী গল্প
হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১৯

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১৭

ক্যাটেগরী