হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১০ | আমার কথা
×

 

 

হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১০

coSam ২০৭


হযরত হাসান বসরী (রঃ) - ৯ম পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিনটি অমূল্য উপদেশঃ

সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে তিনি তিনটি উপদেশ দেন-

১. সুলতান, বাদশাহ ও সভাসদবর্গের দরবারে যাতায়াত করো না।

২. তাপসী রাবেয়া (রঃ)-এর মতো পূত-চরিত্রা নারী হলেও কখনই তুমি তার সঙ্গে একাকী নির্জনে বসো না। এমনকি কোরআন তেলাওয়াতও শিক্ষা দিও না।

৩. কোনও গীত-বাদ্যের আসরে যোগদান করো না। কেননা, এগুলো নিবির্ঘ্ন নয়। ‘একজন আলেমের বিপদ কিভাবে আসতে পারে’- মালেক ইবনে দীনার (রঃ) একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বললেন, মনের মৃত্যু হলে আলেমগণও বিপন্ন হন।

‘মনের মৃত্যু কিভাবে হয়?

তার উত্তর- দুনিয়ার প্রতি আসক্তি এলেই হৃদয়-মনের মৃত্যু ঘটে।

জ্বিন সম্প্রদায়েরও গুরু ছিলেন তিনি। অবশ্য জ্বিনদের সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শের বিষয়টি খুবই গোপনীয় ছিল। এক রাত্রি শেষে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে সেটি জেনে ফেললেন হযরত আবদুল্লাহ। মসজিদের দরজায় হাজির হয়ে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তিনি মোনাজাত করেছেন, আর অনেকে তাঁকে অনুসরণ করে ‘আমীন, আমীন’ বলেছেন।

আবদুল্লাহর মনে হল, হয়তো তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে মোনাজাত করেছেন। বাইরে থেকে তিনি আওয়াজ দিলেন। খুট করে খুলে গেল দরজা। কিন্তু ভেতরে ঢুকে আবদুল্লাহ হযরত হাসান (রঃ) ছাড়া একটি প্রানীকেও দেখতে পেলেন না। পরে তিনি গোপনে আবদুল্লাহকে জানান, এরা হলেন জ্বিন। প্রতি জুমআর রাত্রে কিছু জ্বিন তাঁর কাছে আসেন দ্বীনী শিক্ষার আগ্রহে। দ্বীনী বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার পর তিনি তাদের নিয়ে মোনাজাত করেন। আসলে, যারা অনুচ্চঃস্বরে আমীন বলেছিলেন তারা তাঁর শিষ্য জ্বিন সম্প্রদায়।

কিংবদন্তীর মানুষঃ

হযরত হাসান (রঃ)-কে ঘিরে কত ঘটনার চুমকি বসানো। হীরক-কণার মতো উজ্জ্বল এক একটি ঘটনা।

একবার চলেছেন হজ্জে, সঙ্গে বেশ কিছু জ্ঞানী মানুষ। রাস্তার ওপর একটি কূপ থেকে পানি তুলতে গিয়ে সবাই দেখেন, পানি রয়েছে কূপের তলায়। কিন্তু দড়ি-বালতি নেই। তারা হযরত হাসান (রঃ)-কে সে কথা বললেন। তিনি বললেন, আমি যখন নামায পড়তে দাঁড়াব, তখন তোমরা কুয়ার কাছে যেও।

কিছুক্ষণ পর তিনি নামাজ পড়ার জন্য যেই দাঁড়িয়েছেন, নির্দেশ মতো সবাই কূপের কাছে গিয়ে স্ববিস্ময়ে দেখেন, সেটি কানায় কানায় পূর্ণ। টইটুম্বুর! তারা ইচ্ছে মতো পানি পান করে পিপাসা নিবারণ করলেন। তাদের মধ্যে একজন এক পাত্র পানি তুলে রাখলেন। প্রয়োজনে পরে পান করা যাবে, এই তাঁর ইচ্ছা কিন্তু, কী কাণ্ড! সঙ্গে সঙ্গে কিনারাস্পর্শী পানি একেবারে নেমে গেল কূপের তলায়- যেমনটি ছিল আগে। তারা একথাও হযরত হাসান (রঃ-কে জানালেন। তিনি বললেন, তোমরা আল্লাহ্‌র ওপর নির্ভরশীল নও বলেই এমনটি ঘটেছে।]

হযরত হাসান বসরী (রঃ) -১১তম পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

পরবর্তী গল্প
হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ১১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত হাসান বসরী (রঃ) - পর্ব ৯

ক্যাটেগরী