হযরত হামযা (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ | আমার কথা
×

 

 

হযরত হামযা (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ

coSam ৮৯৯


নবুয়তের ষষ্ঠ বছরে হযরত হামযা (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন। একবার আবূ জাহেল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাঁর সাথে অমানবিক ব্যবহার করে। নবীজী (সাঃ) এর সাথে আবূ জাহেলের এ আচরণ দেখে হযরত হামজার দাসী অত্যন্ত মর্মাহত হল।

হামযা তখনও মুসলমান হয় নি। আবূ জাহেল যখন মহানবী (সাঃ) এর প্রতি জঘন্য উৎপীড়ন চালিয়েছিল তখন তিনি শিকারে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পর, তাঁর দাসী অশ্রুভরাক্রান্ত নয়নে সেই মর্ম বিদারক কাহিনী শুনালেন।


হামযা ছিলেন আরবের মহাশক্তিশালী প্রখ্যাত বীর। এতীম প্রানাধিক ভাতিজা মুহাম্মদের প্রতি পাষণ্ড আবূ জাহেলের অমানবিক আচরণের সংবাদ পেয়ে তাঁর শোণিত ধারায় সীমাহীন উত্তাপ সৃষ্টি হয়। তাঁর মনে একই প্রশ্ন-কি অপরাধ আমার ভাতিজার। ও তো কেবল আল্লাহর ইবাদতের কথাই বলে। এ জন্য তো আর তারা এধরনের অমানবিক আচরণ করতে পারে না।


হামযা এসব ভাবতে ভাবতে পথ চলছিলেন। এ সময় আবূ জাহেল কাবায় বসে কোরাইশ দলনেতাদের সাথে পরামর্শ আঁটছিল। হামযা তথায় উপস্থিত হয়ে হুংকার ছেড়ে বলেন- হে নরাধম তুই কেন মুহাম্মদের উপর অত্যাচার করেছিস। এ বলে আচ্ছা করে পেটালেন। মারখেয়ে আবূ জেহেলের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। হামযা বলেন- দ্বীনের জন্য তুই মুহাম্মদের উপর অত্যাচার করছিস। ঠিক আছে আজ হতে আমিও মুহাম্মদের দ্বীন গ্রহণ করলাম।


হযরত হামজার ইসলাম গ্রহণে মুসলমানদের বাহু পূর্বাপেক্ষা অনেক মজবুত হয়ে গেল। হযরত হামজার ইসলাম গ্রহণে কোরাইশরা ভীত হয়ে গেল। মুসলমান যদিও সংখ্যায় নগণ্য কিন্তু তাদের একতা, শৃংখলা ও দলবৃদ্ধি দেখে মুশরিকরা সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছিল। এখন প্রকাশ্য মুকাবিলা না করে ভিন্ন কৌশলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দমন করার উদ্যোগ গ্রহণ করল।


এ উদ্দেশ্যে ওতবা (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বলল, আপনি মহান, আপনি গৌরবান্বিত কিন্তু আপনি যাহা বলছেন। এতে কুরাইশ বংশের বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ মর্যাদা সম্পন্ন বংশটি সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হতে চলেছে তাই আপনি এ দাবীর পরিবর্তে যে কোন সম্পদ গ্রহণ করতে সম্মত হন, আমরা তার ব্যবস্থা করব।

ধনসম্পদ দান অথবা সাম্রাজ্যের প্রত্যাশী হন কিংবা সুন্দরী রমণীর পাণি গ্রহণ করতে চান আমরা আপনার চাহিদা পূরণ করে দিব। ওতবার বাক্য শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) চুপ হয়ে রইলেন।

তারপর ওতবার প্রস্তাব সমূহের জবাবে আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করে শুনালেনঃ
অর্থঃ হা-মীম, পরম করুণাময়ের তরফ থেকে নাযিলকৃত। এই কিতাবের আয়াত সমূহ জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে- (সূরা - হা-মীম সিজদাহঃ আয়াত - ১-৩)


এভাবে সূরায়ে হামীম সেজদার কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়ে দিলেন। ওতবা বিমুখ হয়ে ফিরে গেল।


পরবর্তী গল্প
কাফেরদের ষড়যন্ত্র সভায় ইবলীসের উপস্থিতি

পূর্ববর্তী গল্প
ওলীদ বিন মুগীরা কে দ্বীন কবূলের আহ্বান

ক্যাটেগরী