হযরত শায়খ আবুল খায়ের আকতা (রঃ) | আমার কথা
×

 

 

হযরত শায়খ আবুল খায়ের আকতা (রঃ)

coSam ১১১


হযরত শায়খ আবুল খায়ের (রঃ) সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও সাধক ছিলেন, তাঁর গুণ-বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনায়াসে একখানি গ্রন্থ রচিত হতে পারে। ছিল তাঁর আশ্চর্য বন্ধুত্ব। এমনকি হিংস্র প্রাণীরাও তাঁর কাছে নিয়মিত আসত। তিনি ছিলেন পাশ্চাত্যের লোক। হযরত জাল্লা (রঃ)-এর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল।

হযরত শায়খ আবু খায়ের (রঃ) একবার তাঁর সূফী শিষ্যদের নিয়ে কয়েকদিন লুবনান পাহাড় এলাকায় অবস্থান করেন। সে অঞ্চলের বাদশাহ তাদের প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট নজরানা দিয়ে সম্মানিত করেন। হযরত আবুল খায়ের (রঃ) যা পেলেন, তা দিয়ে দিলেন সহচরদের। তারপর সদলে ফিরে এলেন শহরে। ঐ দিন কি করে যেন ওযুবিহীন অবস্থায় তিনি কুরআন শরীফ ছুঁয়ে ফেললেন। আর সেটি মনে করা মাত্র দারুণভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। এ অবস্থায় তিনি যখন দলবল নিয়ে শহরে ঢুকছেন, তখন কোন এক চুরির ঘটনায় শহরে ধরপাকড় চলছিল। তাঁর চিন্তাক্লিষ্ট বিষণ্ণ চেহারা দেখে সরকারী কর্মচারীরা তাঁকেই চোর বলে সন্দেহ করল এবং তাঁকে গ্রেফতারও করা হল। গ্রেফতার বরণ করে তিনি প্রশাসনকে বললেন, আমিই অপরাধী। আপনারা আর যাদের ধরেছেন তাদের ছেড়ে দিন। যা শাস্তি দেবার আমাকে দিন।

আর সেই মতো কাজ হল। শাস্তিস্বরূপ তাঁর হাত কেটে নেয়া হল। কিন্তু পরে যখন জানা গেল ইনি আদৌ চোর নন, খোদ আবুল খায়ের আকতা (রঃ), তখন সবাই অত্যন্ত লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করল। তিনি সবাইকে ক্ষমা করলেন। তাঁর মনে আর কোন ক্ষোভ রইল না।

বাড়ী ফিরে এলে তাঁর ডান হাত কাটা দেখে পরিবার-পরিজনরা কান্নাকাটি শুরু করে দিল। তিনি তাদের বোঝালেন, বিলাপ না করে বরং আনন্দ প্রকাশ কর। কেননা, আমি যে অপরাধ করেছি তাতে হাত কাটার বদলে অন্তরই কেটে যেতে পারত। এই বলে বিনা ওযুতে তিনি যে কুরআন স্পর্শ করেছিলেন তার কথা উল্লেখ করলেন।

আকতা কথাটি আরবী। অর্থ কাটা হাত। মিথ্যা অভিযোগে তাঁর হাত কাটা হয়েছিল বলে তাঁর নামের সঙ্গে আকতা যুক্ত হয়ে যায়।

একবার তাঁর হাতে এক বিষাক্ত ফোঁড়া হয়। চিকিৎসকেরা হাতের ঐ অংশটি কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। তাঁর শিষ্যবর্গ যুক্তি করে চিকিৎসকদের বললেন, উনি যখন নামাজ পড়বেন তখন নির্দিষ্ট স্থানটি কেটে দেবেন। উনি কিছুই জানতে পারবেন না। আর তাই করা হল। নামাজ পড়াকালীনই তাঁর হাতে বিষাক্ত অংশটি কেটে ফেলা হল। আর তিনি তা টের পেলেন না। নামাজ শেষে দেখলেন, ফোঁড়ার স্থানটি কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলতেন-

১. আল্লাহর সঙ্গে নিয়ত ঠিক না করা পর্যন্ত হৃদয়-মন পরিষ্কার হয় না। আর তাপসগণের সেবায় আত্মনিয়োগ না করা পর্যন্ত শরীর পবিত্র হয় না।

২. অন্তর হল দুপ্রকারের। একটি হল ঈমানের কেন্দ্র। মুসলমানদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার ও সহৃদয়তা প্রদর্শন তার লক্ষণ। দ্বিতীয় শ্রেণীর অন্তর হল কপটতার কেন্দ্র। হিংসা, দ্বেষ প্রবঞ্চনা ও ছলনা প্রভৃতি তার নিদর্শন।

৩. আত্মভিমান আল্লাহর নির্দেশ পালন ও দাসের উপযোগী রীতি-নীতি পালন করে, আল্লাহর ফরজসমূহ যথারীতি আদায় করে, সৎসঙ্গ অবলম্বন ও অসৎ সঙ্গ বর্জন করে, উচ্চ মর্যাদা সে-ই লাভ করে থাকে।

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু আবদুল্লাহ জাল্লা (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন (রঃ)

ক্যাটেগরী