হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – পর্ব ৩

coSam ১১৯


হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন   

বিখ্যাত তাপস হযরত আবু হাফস (রঃ) হযরত শাহ গুজা (রঃ)-কে এক পত্রে লেখেন, আমার প্রবৃত্তি ও পাপের অবস্থা লক্ষ্য করে আমি একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছি, হযরত শাহ গুজা (রঃ) পত্রের জবাবে লেখেন, আপনার চিঠির কথাকে আমি আমার অন্তরের আয়না স্বরূপ বানিয়ে রেখেছি। কেননা, নফস থেকে যদি নৈরাশ্যই সৃষ্টি হয়, তাহলে আল্লাহর প্রতি আশা, নির্ভরতা আরোও বেশী শক্ত এবং খাঁটি হবে। আল্লাহর প্রতিই বিশুদ্ধ আশা-ভরসা উদয় হলে মনের মধ্যে আল্লাহ-ভীতিও দেখা দেয়।

আর প্রকৃতই যখন আল্লাহর ভয় জন্মে, তখন নফস থেকে নিরাশ হয়ে নিজেকে আল্লাহর ধ্যানে বিলীন করা সম্ভব নয়। এভাবে, ধ্যানের মাধ্যমে আল্লাহ যখন অন্তরের ধ্যান-ধারণায় পরিণত হয়, তখন তার বিনিময়ে আল্লাহও তাঁর দাসকে স্মরণ করেন। যার ফলে দাস তখন সমগ্র জগত থেকে বিমুখ হতে একমাত্র আল্লাহতেই নিজেকে ন্যস্ত করতে পারে। আর এ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েই বান্দা আল্লাহর প্রিয় দাসগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উচ্চতার আসন লাভ করে।

হযরত শাহ গুজা (রঃ) তাঁর শিষ্যদের বলতেন, মিথ্যা বলা, আমানতে খিয়ানত করা ও পরনিন্দা থেকে অবশ্যই বিরত হও। আর এগুলো বাদে যা ইচ্ছা করে যাও।

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মাআয (রঃ) ও হযরত শাহ গুজা (রঃ) পরস্পর বন্ধু ছিলেন।

দু’বন্ধু একবার একই শহরে বসবাস করতেন। হযরত ইয়াহইয়া (রঃ) একদিন বন্ধুকে তাঁর বক্তৃতা সভায় হাজির থাকতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু শাহ গুজা (রঃ) সে অনুরোধ রক্ষা করলেন না। কিন্তু অন্য একদিন বিনা দাওয়াতে বন্ধুবর ইয়াহইয়া (রঃ) মাহফিলে শামিল হলেন। এক কোণে গিয়ে বসলেন চোখের আড়ালে।

হযরত ইয়াহইয়া (রঃ) তখন বক্তৃতা দিচ্ছেন। একটু পরেই তাঁর কণ্ঠস্বর হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না দেখে তিনি ইশারায় জানালেন, সম্ভবতঃ তাঁর চেয়েও কোন উত্তম বক্তা সভায় উপস্থিত আছেন। এই অবস্থায় কিছুক্ষণ পরে হযরত শাহ গুজা (রঃ) বের হয়ে হযরত ইয়াহইয়া (রঃ)-এর কাছে বললেন, এ ঘটনার জন্যই আমি আপনার বক্তৃতা সভায় আসতে চাই না।

হযরত শাহ গুজা (রঃ) বলতেন, মর্যাদাশালীর মর্যাদা ও তাপসগণের সাফল্য ততক্ষণই স্থায়ী হয়, যতক্ষণ তাঁরা মর্যাদা ও সাফল্য সম্পর্কে গর্বিত না হন। তিনি আরও বলতেনঃ

সজ্জনের নিদর্শন তিনটি।

যথা ১- দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও শান শওকত তাঁর মনে স্থান পায় না।

২। তিনি লোক সংসর্গ থেকে দূরে থাকেন।

৩। প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষাকে তিনি তাঁর ওপর জয়ী হতে দেন না।

আল্লাহ-ভীতির অর্থ হল, মনে সব সময় ভয় থাকা। আর সবচেয়ে বড় ভীরু সে ব্যক্তি যে লোক-দেখানো উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাজ না করে।

ধর্যের তিনটি স্তর রয়েছে।

১। বিপর্যয়ে পড়ে কোনরূপ উৎকণ্ঠা প্রকাশ না করা।

২। বিপদ-আপদ স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বরণ করা।

৩। বিপদ-আপদকে আল্লাহ প্রদত্ত বলে- মনে প্রাণে মেনে নেওয়া।  

৪। যে দুনিয়া তরফ করেছে, তার তওবা তো হয়েই গেছে। এখন সে কাম রিপুকে দমন করতে পারলেই মনে করবে যে, তার বাসনা পূর্ণ হয়েছে।   

হযরত শাহ গুজা (রঃ) – এর মৃত্যুর পর হযরত সিরজানী (রঃ) একদিন তাঁর কবরের কাছে গেলেন গরীব-দুঃখীর মধ্যে খাবার বিলি করতে। কিন্তু সেদিন একটি লোকও পাওয়া গেল না।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত শাহ গুজা কেরমানী (রঃ) – পর্ব ২

ক্যাটেগরী