হযরত লোকমান হাকীম সম্পর্কে কোরআনুল কারীম

পবিত্র কোরআনে হযরত হাকীম সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে এবং আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কোরআনে সূরা লোকমান নামে একটি সূরাও সন্নিবেশিত করেছেন। যদিও পবিত্র কোরআনে তাঁর বংশ ও গোত্র সম্পর্কে কোন বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি, তবে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তিসমূহ যে ভজ্ঞিতে আলোচনা করেছে, তাতে একটা সীমারেখা পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়ে গেছে।

তাই লোকমান হাকীম-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যথাসম্ভব সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কোরআনে উদ্ধৃত তাঁর উপদেশ পূর্ণ উক্তিসমূহ উদ্ধৃত করাই সমীচীন মনে হয়। কোরআনুল করীম তাঁর উপদেশপূর্ণ বাণীসমূহ সূরা লোকমানে সন্নিবেশিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

অর্থঃ সে সময়ের কথা স্মরণযোগ্য, যখন লোকমান তাঁর ছেলেকে উপদেশাচ্ছলে বলেন-হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না, নিঃসন্দেহে শিরক সর্বাপেক্ষা বড় জুলুম। আর নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে তার মাতাপিতা সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছি, তার মা কষ্টের উপর কষ্ট করে তাকে উঠরে ধারণ করেছেন এবং দু বছরে তার দুধ ছাড়ানো হয়, যেন তুমি শোকর কর আমার ও তোমার মাতা পিতারঃ তোমাকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে।

আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কোন বস্তুকে শরীক করতে চাপ সৃষ্টি করে, যার পক্ষে তোমার কাছে কোন দলীল প্রমাণ নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না এবং ইহজাগতিক বিষয়ে সদ্ভাবে তাদের সহযোগিতা করে যাবে, আর সে ব্যক্তির পথ অনুসরণ করো যে আমার প্রতি রুজু হয়, অনন্তুর আমার প্রতিই তোমাদের ফিরে আসতে হবে, অতঃপর আমি তোমাদেরকে অবহিত করব সে সম্পর্কে, যা তোমরা করতে। হে বৎস!

যদি কোন বিষয় সরিষা বীজের পরিমাণও হয়, অনন্তর তা পাথরের মধ্যে থাকে, কিংবা আসমান সমূহের বা যমীনের অভ্যন্তরে থাকে, আল্লাহ তাআলা তা এনে উপস্থাপন করবেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী সর্ববিষয়ে অবহিত। হে বৎস! নামায আদায় করবে, সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে এবং ধৈর্যধারণ করবে সে বিপদে, যা তোমার উপর আপতিত হবে, নিশ্চয় এটা সুদৃঢ় সাহসিকতার অন্তর্ভুক্ত।

এবং মানুষ হতে গর্বভরে মুখ ফিরিয়ে রেখ না আর যমীনের উপর গর্ব ভরে চলো না; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা কোন গর্বিত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আর নিজের চলনে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে এবং নিজের স্বর নিন্মগামী রাখবে; নিঃসন্দেহে স্বরসমূহের মধ্যে গাধার স্বরই নিতান্ত ঘৃণ্য।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।