হযরত লোকমান হাকীম সম্পর্কে কোরআনুল কারীম | আমার কথা
×

 

 

হযরত লোকমান হাকীম সম্পর্কে কোরআনুল কারীম

coSam ১২১


পবিত্র কোরআনে হযরত লোকমান হাকীম সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে এবং আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কোরআনে সূরা লোকমান নামে একটি সূরাও সন্নিবেশিত করেছেন। যদিও পবিত্র কোরআনে তাঁর বংশ ও গোত্র সম্পর্কে কোন বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। তবে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়ে গেছে। তাই লোকমান হাকীম -এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যথাসম্ভব সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে কোরআনে উদ্ধৃত তাঁর উপদেশপূর্ণ উক্তিসমূহ উদ্ধৃত করাই সমীচীন মনে হয়। কোরআনুল কারীম তাঁর উপদেশপূর্ণ বাণীসমূহ সূরা লোকমানে সন্নিবেশিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَىٰ وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ ۖ إِنَّ ذَ‌ٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ

অর্থঃ সে সময়ের কথা স্মরণযোগ্য, যখন লোকমান তাঁর ছেলেকে উপদেশাচ্ছলে বলেন- হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না, নিঃসন্দেহে শিরক বড় জুলুম। আর নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে তাঁর পিতামাতা সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছি, তাঁর মা কষ্টের উপর কষ্ট করে তাকে জঠরে ধারণ করেছেন এবং দু বছরে তার দুধ ছাড়ান হয়, যেন তুমি শোকর কর আমার ও তোমার মাতা পিতার; তোমাকে আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে। আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে

এমন কোন বস্তকে শরীক করতে চাপ সৃষ্টি করে, যার পক্ষে তোমার কাছে কোন দলীল প্রমাণ নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না এবং ইহজাগতিক বিষয়ে সদ্ভাবে তাদের সহযোগিতা করে যাবে, আর সে ব্যক্তির পথ অনুসরণ করো যে আমার প্রতি রুজু হয়, অনন্তর আমার প্রতিই তোমাদের ফিরে আসতে হবে, অতঃপর আমি তোমাদেরকে অবহিত করব সে সম্পর্কে, যা তোমরা করতে। হে বৎস! যদি কোন বিষয় সরিষা বীজের পরিমাণও হয়, অনন্তর তা পাথরের মধ্যে থাকে, কিংবা আসমানসমূহের বা জমিনের অভ্যন্তরে থাকে, আল্লাহ তায়ালা তা এনে উপস্থাপন করবেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী সর্ববিষয়ে অবহিত। হে বৎস! নামায আদায় করবে, সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে এবং ধৈর্যধারণ করবে সে বিপদে যা তোমার উপর আপতিত হবে, নিশ্চয় এটা সুদৃঢ় সাহসিকতার অন্তর্ভুক্ত। এবং মানুষ হতে (গর্ভভরে) মুখ ফিরিয়ে রেখ না আর যমীনের উপর গর্ভ ভরে চলো না না; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা কোন গর্বিত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আর নিজের চলনে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে এবং নিজের স্বর নিন্মগামী রাখবে; নিঃসন্দেহে স্বরসমূহের মধ্যে গাধার স্বরই নিতান্ত ঘৃণ্য। (সূরা লোকমানঃ আয়াত- ১৩-১৯)

পরবর্তী গল্প
রিসালাত – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
তালুত ও জালুত যুদ্ধ –শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী