হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৬ | আমার কথা
×

 

 

হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৬

coSam ১৯৪


হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

৮। হযরত রাবেয়া (রঃ) গভীর অরণ্যে ধ্যানমগ্না। বনের পশুরা এসে তাঁর চারপাশে ঘিরে দাঁড়ায়। আজও তারা ঘিরে রয়েছে তাঁকে। হঠাৎ দেখা গেল, পশুরা যে যেদিকে পারল, দৌড়ে পালিয়ে গেল। কারণ, ওখানে তখন এসে পড়েছেন সাধককুল তিলক হযরত হাসান বসরী (রঃ)। তাঁকে দেখেই বুনো প্রাণীরা লুকিয়ে গেল। তিনি তাপসীকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। হযরত রাবেয়া (রঃ) তাঁকেই পালটা প্রশ্ন করেন, আপনি আজ কি খেয়েছেন? হযরত হাসান (রঃ) জবাব দেন, গোশত রুটি।

তাপসী বললেন, তবে আর কী! আপনি যাদের গোশত খেয়েছেন, তারা আপনার ভয়ে ছুটি পালাবে বৈ কি?

অন্য একদিন হযরত রাবেয়া (রঃ) এসেছেন হযরত হাসান (রঃ)-এর বাড়ীতে। তিনি তখন কাঁদছেন; প্রবল কান্না। রাবেয়া (রঃ) বললেন, এ কান্না যদি অকৃত্রিম হয়, খুব ভালো কথা। কিন্তু যদি কৃত্রিমতা থাকে, তাহলে কান্নার অতলে আপনি হারিয়ে যাবেন। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তাপসীর কথায় হযরত হাসান (রঃ) আহত হলেন। কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলেন।

আর একদিন হযরত রাবেয়া (রঃ) ফোরাত নদীকূলে ধ্যানরতা। হযরত হাসান (রঃ) গিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। তাপসীর ধ্যান ভাঙলে দুজনের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হল। এক সময় হযরত হাসান (রঃ) নদীর পানির ওপর তাঁর জায়নামাজ বিছিয়ে বললেন, এসো, নামাজ পড়ি।

তাপসী বললেন, হযরত! এটা যদি আপনার লোক দেখানো হয় তো খুব ভালো কথা। আর তা যদি না হয়, তাহলে আসুন, আমরা শূন্যে নামাজ পড়ি। এই বলে তিনি শূন্যে তাঁর জায়নামাজ পেতে দিলেন।

হযরত হাসান (রঃ) মনে মনে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে করলেন। হযরত রাবেয়া (রঃ) তাঁর অবস্থা অনুধাবন করে বললেন, হযরত, আপনি যা দেখালেন, তা এমন কিছু নয়। অসামান্য মাছও তা পারে। আর আমি যা দেখালাম, তা তুচ্ছ মাছিও পারে। আসল কাজ কিন্তু এর অনেক ওপরে।

তাঁর সম্বন্ধে হযরত হাসান (রঃ) বলেন, একবার অধ্যাত্ন সাধনায় নানা জটিল তত্ত্ব নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার অহোরাত্র আলোচনা হয়। কিন্তু মুহূর্তের জন্যেও আমার যেমন মনে হয়নি যে, আমি একজন পুরুষ, তেমনি তারও মনে হয়নি, সে একজন মহিলা। বিদায় নেবার সময় মনে হল, আমি অতি তুচ্ছ একটি লোক আর সে বিশুদ্ধ এক তাপসী।

তাঁর বিশুদ্ধতা সম্বন্ধে হযরত হাসান (রঃ)-এর মনে কোন সংশয় ছিল না। এক রাতে তিনি একদল অনুগামীসহ হযরত রাবেয়া (রঃ)-এর বাসভবনে যান। তাঁর বাড়ীতে আলোর ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু রাবেয়া (রঃ) জানতেন, হযরত হাসান (রঃ)-এর আলোর দরকার। তাই তিনি তার একটি আঙুলে দম দিলেন। আর আঙুলটি আলো দিতে লাগল। হাসান বসরী (রঃ)-এর শিষ্যগণ স্ববিষ্ময়ে বলে উঠলেন, এটা কি করে সম্ভব হল? তাপসী তার উত্তর দিতে গেলেন। কিন্তু তার আগেই হযরত হাসান (রঃ) বললেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর একান্ত অনুগত, তাঁর পক্ষে এসব কাজ কিছুই নয়। আল্লাহর নবীগণের দ্বারা যদি মোজেযা প্রকাশ পায়, তাহলে আল্লাহর আওলিয়াগণের দ্বারা অলৌকিক কান্ড হতে পারে। তাতে অবাক হওয়ার কি আছে?

একবার হযরত রাবেয়া (রঃ) হযরত হাসান বসরী (রঃ)-এর কাছে তিনটি উপহার পাঠিয়ে সেগুলোর প্রতীকী তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। উপহার তিনটি হল- মোম, সূচ ও একগাছি চুল। তাঁর কথা ছিল, মোমের মত আলো দিয়ে বিগলিত হতে হবে। সূচের মত সব সময় মানুষের কাজে লাগতে হবে আর এসব করতে করতে নিজেকে চুলের চেয়েও ক্ষীনতর করে তুলতে হবে। তবেই উদ্দেশ্য সফল হবে।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৭ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

পরবর্তী গল্প
হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৭

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৫

ক্যাটেগরী