হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৫ | আমার কথা
×

 

 

হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৫

coSam ৫৩৪


হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

৫। পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করেছেন হযরত ফারমাদী (রঃ)। তিনি বলেন, এবার বসরার এক বনাঞ্চাল থেকে হামাগুড়ি দিয়ে তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। আর দীর্ঘ সাত বছর কৃচ্ছ্রতা সাধনার পর আরাফাত ময়দানে পৌঁছেন। তখন এক দৈববাণী হয়-তুমি যদি চাও, তবে তোমার কৃচ্ছ্রতা সাধনের পুরষ্কারস্বরূপ আমি এখনই আমার নূরের এক ঝলক দেখাই। হযরত রাবেয়া (রঃ) বলেন, না প্রভু, আমি নূরের তাজাল্লী দেখার যোগ্য নই। আমি দারিদ্র্যতা চাই। আসমানী স্বর তরঙ্গায়িত হয়, অবশ্য যদি ঐ প্রেমিক ও আমার মধ্যে এক চুলও ব্যবধান না থাক, তবে সে কথা আলাদা।

আল্লাহর প্রতি তাঁর কী অবিচল আস্থা ছিল, একটি ঘটনার বিবরণ থেকে তা স্পষ্ট হয়।

একদিন দুজন দরবেশ এলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। দুজনেই ক্ষুধার্ত। কিন্তু ঘরে মাত্র দুখানা রুটি। হযরত রাবেয়া (রঃ)-তাই এনে দিলেন অতিথিদের সামনে। ঠিক তখনই দরজায় এক ভিক্ষুক। সেও কিছু খেতে চায়। তাপসী রুটি দুখানা তুলে এনে তাকেই দিলেন। বলা বাহুল্য, এতে অতিথিরা অসন্তুষ্ট হলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে অন্য বাড়ির এক দাসী এক গোছা রুটি ও মাংস এনে রাবেয়া (রঃ)-কে দিলেন। তিনি গুণে দেখলেন, রুটি রয়েছে আঠারখানা। দাসীকে বললেন, তোমার ভুল হয়েছে। উনি অন্য কারোর জন্য রুটি পাঠিয়েছেন, আমার জন্য নয়।

দাসী বলল, না, আমার ভুল হয়নি। এগুলো আপনার জন্যই। কিন্তু রাবেয়া (রঃ) তা মানলেন না। রুটি ফিরিয়ে দিলেন। যে গৃহকর্ত্রী রুটি দিয়েছিলেন তিনি দাসীর মুখে বিবরণ শুনে আরও দুখানি রুটি দিয়ে আবারও তাকে পাঠালেন। এবারে রুটির সংখ্যা বিশ। আর আপত্তি উঠল না। প্রসন্ন চিত্তে হযরত রাবেয়া (রঃ) অতিথিদের আপ্যায়িত করলেন।

তাঁর এই আচরণের রহস্য কোথায়?

অতিথিরা কৌতূহলী হয়ে উঠলেন।

রহস্য উদঘাটন করে তিনি জানালেন, মাত্র দুখানা রুটিতে দুজন দরবেশের হত না। এজন্য তিনি বড় অস্বস্তিতে ছিলেন। হয়ত আল্লাহ তাঁর অন্তরের অস্বস্তি উপলব্ধি করে ঐ ভিক্ষুককে পাঠান। আর তিনি রুটি দুখানা তাকেই দান করেন। একটি দানের বদলে, আল্লাহ দশ গুণ দেন। আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আস্থা রেখে অতিথি আপ্যায়নের পুরো দায়িত্ব তিনি আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত করেন। দাসী যখন প্রথমে আঠারখানা রুটি এনে দিল, তখন তিনি বুঝলেন-এ তাঁর জন্য নয়। কেননা, তিনি দুখানা রুটি দিয়েছেন, তখন তিনি পাবেন তার দশ গুণ, অর্থাৎ দুশ দুগুনে কুড়িখানা। তাই যখন তা গ্রহণ করলেন নিশ্চিন্তে।

বিষ্ময়-বিমূঢ় দরবেশ-অতিথিরা নির্বাক হয়ে গেলেন।

৬। প্রিয়জনের রক্ষণাবেক্ষণে আল্লাহ অতন্দ্র প্রহরী।

একদিন এক চোর এল তাপসী রাবেয়া (রঃ)-এর ঘরে। আল্লাহর ধ্যান করতে করতে তিনি তখন তন্দ্রাতুর। চোর তাঁর চাদরখানা তুলে নিয়ে চম্পট দেয় আর কি! কিন্তু আশ্চর্য, বহু চেষ্টা করেও সে ঘরের দরজা খুঁজে পায় না। তখন ঘরের কোণ থেকে এক অদৃশ্য কন্ঠ বেজে ওঠেঃ কার ঘরে তুই ঢুকেছিস হতভাগা। গৃহকর্ত্রী আমাকে গত একবছর ধরে তাঁর ঘরের পাহারায় নিযুক্ত রেখেছেন। তিনি যদিও নিদ্রাচ্ছন্ন, তাঁর প্রহরী কিন্তু জাগ্রত। এখানে কোন কিছু চুরি করা সম্ভব নয়। আওয়াজ শুনে চোর চমকে ওঠে। হাত থেকে চাদর ফেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের দরজাও খুঁজে পায়। তারপর চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

৭। রান্নার সময় দেখা গেল পেঁয়াজ নেই। পরিচারিকার ইচ্ছা, কোন প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে আনে। কিন্তু বিগত চল্লিশ বছর ধরে সাধ্বী রাবেয়া (রঃ) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আল্লাহ ছাড়া আর কারোর কাছে তিনি কিছু প্রত্যাশা করবেন না। অতএব তাঁর নির্দেশ, পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না হোক। কিন্তু তা আর করতে হল না। একটা কাক কোথা কয়েকটা পেঁয়াজ এনে ফেলে দিল। পরিচারিকা খুশী। কিন্তু রাবেয়া বসরী (রঃ) তরাকারি ছাড়াই রুটি খেলেন। কারণ পেঁয়াজ সম্বন্ধে তিনি সন্দেহমুক্ত হতে পারেননি।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৬ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

পরবর্তী গল্প
হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৬

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত রাবেয়া বসরী (রঃ)- পর্ব ৪

ক্যাটেগরী