হযরত মূসা (আঃ) ও মিশরের দক্ষ যাদুকর – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত মূসা (আঃ) ও মিশরের দক্ষ যাদুকর – শেষ পর্ব

coSam ১৯৫


হযরত মূসা (আঃ) ও মিশরের দক্ষ যাদুকর – পর্ব ৪ ড়তে এখানে ক্লিক করতে এখানে ক্লিক করুন

যারা শক্তিধর, ক্ষমতামদে মত্ত তারা চিরকালই যুক্তির কাছে হেরে গিয়ে ক্ষমতায় ভাষায় কথা বলে। শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস বা স্তব্ধ করে দিয়ে তারা তারা নিজেদের শেষ রক্ষার চেষ্টায় ব্রতী হয়। ফেরাউনের বেলায়ও তাই হয়েছে। সে প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে মূসা (আঃ)-এর প্রতি ঈমান আনয়নকারী জাদুকর দলকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করলেও তার অনুসারী অনুগতদের মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক লোক মূসা (আঃ)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করায় স্বীয় ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্যদের উপর নিজের পরাজয়ের প্রতিরোধ নিলেও মূসা (আঃ)-কে কিছুই বলার হিম্মত তার হয়নি। সে এবং তার পরিষদের লোকদের কেউই ঈমান আনে নি।

ময়দানে যখন মূসা (আঃ)-এর সাথে ফেরাউন কর্তৃক আহূত জাদুকরদের প্রতিযোগিতা চলছিল, তখন হযরত মূসা (আঃ) -কে শৈশবকালে প্রতিপালককারিনী ফেরাউন পত্নী আছিয়া এ প্রতিযোগিতায় ফলাফল তাঁকে জানানোর জন্য লোক নিয়োগ করে রেখেছিল তার নিয়োগকৃত লোক এসে মূসা (আঃ) -এর বিজয়ী হবার সংবাদ দিলে আছিয়া মূসা ও হারুন (আঃ)-এর প্রতি ঈমান আনে।

প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ঈমান আনয়নের খবর পেয়ে পাষণ্ড ফেরাউন পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার নির্দেশ জারি করে। আছিয়া ফেরাউনের এ নির্মম নির্দেশের কথা অবগত হয়ে আকাশের প্রতি দৃষ্টি তুলে ফেরাউন থেকে মুক্তির আবেদন করেন। আল্লাহ তার এ আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর প্রাণ নিয়ে নেন। ফেরাউনের লোকেরা পাথর নিক্ষেপ করতে এসে আছিয়ার মৃতদেহ দেখে ফেরত যায়।

ফেরাউন পত্নী মূসা (আঃ)-এর শৈশবকালে লালন-পালনকারী আছিয়ার ঈমান গ্রহণ এবং মৃত সম্পর্কে আরেকটি ঘটনাও কথিত আছে। তা হল একদিন তিনি মাথা আছরানোর সময় তার হাত ফসকে চিরুনি ভূতলে পতিত হলে তিনি ফেরাউনকে অভিশাপ দিয়ে বলেন- আল্লাহ! আপনি হতভাগা ফেরাউনের ধ্বংস সাধন করুন। ঘটনাচক্রে এ বদদোয়া ফেরাউন শুনে ফেলে। সে বলল হে আছিয়া! মনে হয় তুমি মূসার প্রতি ঈমান এনেছি তো চল্লিশ বছর পূর্বেই। এতদিন তাতো প্রকাশ করিনি। ফেরাউন এ কথা শুনে মূসা (আঃ)-এর প্রতি ঈমান ত্যাগের জন্য তাঁকে প্রলুব্ধ করতে থাকে। কোন প্রলোভনই আছিয়াকে কাবু করতে না পেরে অভিশপ্ত পাষণ্ড ফেরাউনের নির্দেশে তাঁর সারা দেহের কাপড় চোপড় খুলে ভূমিতে শুইয়ে হাত পায়ে পেরেক মেরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ কঠিন সময়ও নরাধম তার কাছে এসে তাঁকে ঈমান পরিত্যাগ করার জন্য প্রলুব্ধ করছিল।

আছিয়া বলেন, হে ফেরাউন! তোমার যত শক্তি প্রয়োগ হচ্ছি সবই আমার দেহের ছায়ার উপর। আমার হৃদয়ের উপর তোমার কোন শক্তি নেই। দেহের উপর তোমার যত ইচ্ছা তুমি শক্তি প্রয়োগ করতে পার। সর্বপ্রয়াসেও আছিয়াকে যখন ঈমান ত্যাগে করাতে পারল না তখন ফেরাউন স্থান ত্যাগ করে চলে গেলে হযরত মূসা (আঃ) এসে বলেন আছিয়া! আপনার জন্য সপ্তাকাশের দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। ফেরেশতাকুল আপনাকে দেখছে। সুতরাং যা ইচ্ছা হয়

এখনই আপনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করুন। তখন হযরত আছিয়া বলেন, হে আমার রব! আমার জন্য আপনার কাছে বেহেশতে একখানা ঘর নির্মান করুন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম হতে এবং জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে মুক্তি দিন। তাঁর এ দোয়া কবুল হয় এবং সাথে সাথে ইনতিকাল করেন।

হযরত মূসা (আঃ) ও মিশরের দক্ষ যাদুকর – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করতে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত মূসা (আঃ) ও মিশরের দক্ষ যাদুকর – পর্ব ৪

ক্যাটেগরী