হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – পর্ব ২

coSam ১১২


হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একজন আহমদ হারব আর অন্যজন মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ)। তাঁদের না আসার কারণ তিনি জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এরা বিশিষ্ট সাধক। কখনও কোন বাদশাহর দরবারে সালাম জানাতে যান না।

এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনে তাহের বললেন, তাঁরা যদি আমাকে সালাম জানাতে না আসেন তবে আমি নিজেই তাঁদের সালাম জানাতে যাব। তিনি ঠিক করলেন, প্রথমে সালাম জানাবেন আহমদ হারব (রঃ)-কে। আহমদ হারব (রঃ)- এর কাছে আগাম খবর চলে গেল। তিনি বললেন, এখন দেখছি লোকটির সঙ্গে দেখা না করে উপাই নেই।

আবদুল্লাহ এলেন তাঁর দরবারে। হযরত হারব (রঃ) অনেকক্ষণ বসে রইলেন মাথা নিচু করে। তারপর চোখ তুলে তাকালেন শাসকের দিকে। বললেন, আমি শুনেছি, আপনি রূপবান ব্যক্তি। এখন দেখছি তা সত্য। আপনার নিকট আমার বক্তব্য হল, এই সুন্দর চেহারাকে কোন পাপ দ্বারা কলুষিত করবেন না।

এরপর শাসক গেলেন হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম (রঃ)-এর দরবারে। কিন্তু তিনি তাঁকে ভেতরে যাবার অনুমতি দিলেন না। আবদুল্লাহ কী করবেন ভাবছেন, হঠাৎ তাঁর মনে হল, আজ শুক্রুবার। আর জুমা আদায়ের জন্য তিনি অবশ্যই মসজিদে যাবেন। তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হবে।

তখন তিনি হযরত তুসী (রঃ) এর বাড়ির দরজায় ঘোড়ার পিঠেই বসে রইলেন তাঁর প্রতীক্ষায়।

কিছুক্ষন পর সত্যিই তিনি বেরিয়ে এলেন বাড়ী থেকে। আর আবদুল্লাহ ঘোড়া থেকে নেমে দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে কদমবুসি করলেন আর বললেন, হে প্রভু! আমি গুণাহগার বান্দা বলে ইনি আমাকে শত্রু মনে করেন। অতএব হে প্রভু! আপনি আপনার রহমতের দ্বারা এ অধমকে ঐ মহাপুরুষের উসিলায় পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

কিছুদিন পরে ইবনে আসলাম (রঃ) নিশাপুর থেকে তুস শহরে গিয়ে স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। তিনি যে মসজিদে নামাজ পড়তেন স্থানীয় লোকেরা সেটিকে খুবই বরকতময় মনে করত। কিছুদিন তিনি আরবেও কাটান।

রোমের এক তরিকত-পন্থী সাধক একবার স্বপ্ন দেখলেন ইবলীস শূন্য থেকে আছড়ে পড়ল মাটির ওপর। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার এরূপ দশা হল কেন? শয়তান বলল, এখন ওযু করতে বসে হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম এমন গলা খাঁকার দিলেন যে, তার শব্দে আমি ভয়ে কেঁপে ওঠে ছিটকে মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ে যাই। মাটিতে প্রায় সেঁধিয়েই গিয়েছিলাম আর কী!

কথিত আছে, তাঁর বাড়ীর সামনেই একটি ঝর্ণা ছিল। কিন্তু যেহেতু সেটি সাধারণের সম্পত্তি, অতএব পানির একান্ত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি জীবনে কোনদিন ঐ ঝর্ণার পানি ব্যবহার করেননি। বরং শোনা যায়, একবার ঝর্ণার পানির উৎস বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ইন্দিরা থেকে বালতি ভর্তি পানি উঠিয়ে সেটি পুনরায় চালু করেন।  

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তুসী (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী