হযরত মুছা ও হারুন (আঃ) এর পরলোকগমন-৩য় পর্ব

 হযরত মুছা ও হারুন (আঃ) এর পরলোকগমন-২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

 আজরাইল এই অবস্থায় সরাসরি আল্লাহার দরবারে চলে গেলেন এবং আল্লাহা নিকট তিনি সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন, আল্লাহ তায়ালা আজরাইল এর চক্ষু ঠিক  করে দিয়ে বললেন, আমার নবীদের মধ্যে হযরত মুছা (আঃ) এর ন্যায় এত গরম মেজাজ ও জালালী তরবিতের নবী দ্বিতীয়  কেউ নেই। অতএব তার জান কবজের বিষয় আমি দেখব। তোমার আর তার কাছে যেতে হবে না। কয়েক দিন পর অহি মারফত হযরত মুছা (আঃ) কে বললেন, হে মুছা! যদি তুমি মেষের পশমের সংখ্যা পরিমান বছর হায়াতের আরজু কর তবে আমি তোমার জন্য পূরন করে দিব। তুমি তত বছর পৃথিবীতে বসবাস করতে পারবে। হযরত মুছা (আঃ) এ কথা শুনে ভাবলেন তারপরে তো অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে। আর এ দীর্ঘ বছরগুলো পৃথিবীতে কষ্ট করে কাটাতে হবে, যেমন টি ইতি পূর্বে কাটানো হয়েছে। অতএব সবচাইতে নিরাপদ স্থান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ।  আমি তোমাকে ভাল বাসি। তোমার নৈকট্য আমার কামনা। তবে হে প্রভু! আমাকে পৃথিবীতে বিদায় গ্রহনের পূর্বে আর একবার তুর পাহাড়ে তোমার দর্শন দাও। আমার এই শেষ আবেদন টুকু তুমি কবুল কর।

আল্লাহ তায়ালা হযরত মুছা (আঃ) এর আবেদন মঞ্জুর করে তুর পাহাড়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। হযরত মুছা (আঃ) কাল বিলম্ব না করে সোজা তুর পাহাড়ে অবস্থান করলেন, সেখানে আল্লাহা তায়ালার নুরের তাজাল্লী দর্শন করলেন এবং আল্লাহর সাথে কথোপকথন করলেন। সর্বশেষ হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহর দরবারে আরজ করে বললেন, হে মহান প্রভু! আপনি আমার অবাধ্য কওমের প্রতি কোন গজব নাজিল না করে তাদেরকে রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দিন এবং তাদের রুজি দানের ব্যবস্থা করুণ। তারা যেন অনাহারে মৃত্যু বরণ না করে।

 আল্লাহ তায়ালা তখন হযরত মুছা (আঃ) এর আবেদনের প্রেক্ষিত বললেন, আমি আল্লাহ ঈমানদার নাফরমান, কাফের ও জীবজানোয়ারের প্রতিপালক ও রিজিক দাতা, আমি কাউকে উপবাশ রাখি না। যে যেখানে আছে আমি তাদের রিজিক সেখানে পৌঁছে দেই। এ কথার পরে আল্লাহ তায়ালার হযরত মুছা (আঃ) কে তার হাতের লাঠি দ্বারা পাহড়ের উপর আঘাত করতে বললেন, হযরত মুছা (আঃ) পাহাড়ের উপর আঘাত করলেন,তখন সেখানে একটি নদি বয়ে গেল নদির উপর পুনারায় আঘাত করতে বললেন, তিনি আঘাত করার পর দেখলেন একখানা পাথর পানির উপর দিয়ে ভেসে আসছে।  

আল্লাহতালা পাথরের উপর আঘাত করতে বললেন। তিনি আঘাত করলেন, তখন দেখা গেল পাথরের ভিতর থেকে একটি ফড়িং বের হয়েছে। আর মুখে এক টুকরা কাচা ঘাস। এ দৃশ্য দেখে হযরত মুছা (আঃ) সেখানে সেজদায় পড়ে গেলেন। ক্ষনিক পরে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নবীকে ছলাম প্রদান করে বিদায়  দেওয়া হল।  হযরত মুছা (আঃ) তুর পাহাড় থেকে নেমে একটু অগ্রসর হয়ে দেখলেন সাতজন লোকে একটি কবর খুড়ছে।  তখন নবী তাদের কে জিজ্ঞেস করলেন, ভাইয়েরা তোমরা এই নির্জন যায়গায় কার কবর খুড়ছ।  তারা বললেন আপনার ন্যায় একজন মহৎ ব্যক্তির কবর খুড়ছি। আপনিও আমাদের সাথে এ ছওয়াবের কাজে শরিক হতে পারেন। তখন হযরত মুছা (আঃ) তাদের সাথে কিছু কবর খোঁড়ার কাজ করলেন, অতপর তারা একজনে বললেন, হে নবী! যার জন্য এ কবর খুড়ছি সে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আপনার ন্যায়। অতএব আপনি একবার কবরটি মাপার জন্য ওখানে শুয়ে একটু পরিক্ষা করে দেখুন। হযরত মুছা (আঃ) তাদের কথায় কবরে নেমে শুইলেন এবং বললেন, হে খোদা!নির্ঝাট এ জায়গাটি, তুমি আমার জন্য কবুল কর। হযরত মুছা (আঃ) এর আবেদনের সাথে সাথে একজন ফেরেস্তা এসে তাকে একটি আপেল খেতে দিল। বিসমিল্লাহ বলে যখন তিনি আপেল টি খেতে শুরু করে দিলেন তখন তার জান কবজ হয়ে গেল। ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন।  তখন উপস্থিত ফেরেস্তারা হযরত মুছা (আঃ) কে উঠিয়ে অজু গোছল করালেন, জানাজা পড়লেন এবং তাকে পুরারায় সে কবরে দাফন করলেন। কোন মানুষ জানতে পারল না হযরত মুছা (আঃ) এর দাফন কোথায় হয়েছে।  বনি ইসরাইলরা হন্নে হয়ে তার  কবরের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে বিফল হয়েছে। মানুষ জাতির জন্য তার কবরের অস্তিত্ব আজো অজানা রয়েছে। তিনি পৃথিবীতে দেড়শ  বছর বেঁচে থেকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন।

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী

হযরত মুছা ও হারুন (আঃ) এর পরলোকগমন-১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।