হযরত মুছা (আঃ) কে অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন-পর্ব ৪

হযরত মুছা (আঃ) কে অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন-পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

 আপনি এখন বিদায় গ্রহন করুন। হযরত মুছা (আঃ) তখন বললেন ভাই সাহেব! আপনি কি কারনে কোন কাজ টি করলেন আমাকে একটু বুঝিয়ে দিন। তখন খেজের (আঃ) বললেন, প্রথমে যে নৌকা টা আমি ভেঙ্গে দিয়েছিলাম তার রহস্য ছিল এই, ঐ এলাকার বাদশা একজন জালেম অত্যচারী। সে কার ভাল জিনিস দেখলে ছিনিয়ে নেয়। এমন কি ভাল মহিলা দেখলেও সে ছেড়ে দেয় না। এমতা অবস্থায় ঐ নৌকা টা ছিল একজন ইয়াতিমের জিবন-যাপন এর সম্বল। কিছু সময় পরে বাদশার লোকেরা এখানে আসবে। তারা যদি নৌকা টা দেখে তাহলে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। তখন এতীম ছেলেটার আর রুজি রোজগার করার মত আর কোন সম্বল থাকবে না। তখন ছেলেটি না খেয়ে মারা যাবে। তাই আমি নৌকার তলদেশে একটি ছিদ্র করে দিলাম যাতে বাদশার লোকেরা এসে এটা ভাঙ্গা নৌকা বলে চলে যাবে। এতীম ছেলেটি অল্প মেরামত করে পুনারায় চালিয়ে রুজি রোজগার করে খেতে পারবে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি হল, যে ছেলেটাকে আমি হত্যা করেছি।

সে একটি ভাল লোকের সন্তান। কিন্তু ছেলেটি বড় হয়ে  দুধুর্ষ ডাকাত হবে। তার পিতা মাতা কে শাস্তি দিবে।  অন্যের মাল হরণ  করবে।

মেয়েদের ধর্ষন করবে ইত্যাদি নানা রকম গর্হিত কাজে লিপ্ত হবে। তাই তাকে হত্যা করে দেশ ও জাতিকে এক মহা বিপদ থেকে রক্ষা করলাম।  

তৃতীয় ঘটনা হল। যে দেয়াল টি আমি সংস্কার করে দিয়েছি । সে দেয়ালের নিচে ওখানের বাসিন্দা ছেলে দের পূর্ব পুরুষের  রক্ষিত কিছু গুপ্তধন রয়েছে। এখন দেয়াল ভেঙ্গে সে গুপ্তধন বের হয়ে গেলে ছেলেরা তা রক্ষা করে ভোগ করতে পারবে না। দুষ্ট লোকেরা তা নিয়ে যাবে। তাই ওরা একটু বড় হওয়া পর্যন্ত গুপ্ত ধন ওখানে অজানা থাকাই  নিরাপদজনক। তাই আমি দেয়ালটি তুলে দিয়ে আরও কয়েক বছরের জন্য গুপ্তধন নিরাপদ করে দিলাম। হযরত মুছা (আঃ) খেজের (আঃ) এর কথা শুনে তার নিকট থেকে বিদায় গ্রহন করলেন।

তিনি ফিরে এসে দেখলেন ইউসা (আঃ) যে পাথরের উপর বসে ছিলেন সেখানেই আছেন। হযরত মুছা (আঃ) ইউসা (আঃ) কে বললেন, তুমি এত দিন যাবত এখানেই বসে ছিলে। হযরত ইউসা (আঃ) বললেন, এই মাত্র আপনি লোকটির সাথে বাইরে গেলেন আবার ক্ষনিকের মধ্যেই তো ফিরে আসলেন। তাতে এত দিন বলে কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন। হযরত মুছা (আঃ) নিস্তব হয়ে দাড়িয়ে রইলেন। আর কোন কথা না বলে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেন। 

বিদ্যা ও জ্ঞানের গৌরব সম্বন্ধে তার যা অবগত হওয়ার প্রয়োজন ছিল তা এ ছফরের মাধ্যমে সমধা হয়েছে।

তিনি পরবর্তী সময়ে সর্বত্র বলে বেড়াতেন আল্লাহ তায়ালা আমাকে অত্যন্ত সীমিত জ্ঞান ও সীমিত দায়িত্ব দিয়ে বনি ইসরাইল কওমের হেদায়াতের জন্য প্রেরণ করেছেন।

 আনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি আল্লাহর আমলে  রয়েছে। যাদের সাক্ষাৎ সচারাচার কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তাকে তা দান করেন।    

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে এক নজির সৃষ্টির লক্ষ্যে একমাত্র খেজের (আঃ)-কেই অধিক পরিমানে গায়েবী এলেম দান করে ছিলেন যা পৃথিবীতে নজীর বিহীন। শুধুমাত্র গায়েবী এলেমের অধিকারি হয়ে তিনি হযরত মুছা (আঃ) এর চেয়ে অধিক মর্যদাসম্পন্ন হয়েছে বলা যাব না। হযরত মুছা (আঃ) নবুয়তী লাভ, মো’জেযার অধিকারি লাভ এবং আল্লাহর দীদার লাভ গায়েবী এলেম হাসিলের যোগ্যতা বিরাট মর্যাদার দাবি রাখে। 

হযরত মুছা (আঃ) কে কিছু সময় খেজের (আঃ) এর ছোহবতে রাখার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যা ও আল্লাহ তায়ালার দীদার লাভ করায়  যদি তার মধ্যে সামান্য অহমিকার সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে সমূলে নির্মূল করে তার জীবনকে পবিত্রতম মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা। দ্বিতীয়, এক এক বিষয় এক জনকে পারদর্শী বানিয়ে তার কুদরতের অসীম নির্দশন মানব মনে প্রতিষ্ঠা করা। এক কথায় আল্লাহর অসীম সৃষ্টি রহস্য ভেদ করা কোন জীবের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই পৃথিবীতে যা ঘটছে, ঘটবে  তা বিচিত্র রহস্য লীলা।  

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী       

হযরত মুছা (আঃ) কে অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন-পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।