হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৭ | আমার কথা
×

 

 

হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৭

coSam ১১৯


হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৬ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

মালেক দীনার (রঃ) বললেন, প্রভু গো! আপনার দরবারে আমি হাজির। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার ভয় হল, যদি আমার কথা শুনে আল্লাহ বলে বসেন, না, এবাদতের ইচ্ছা নিয়ে তুমি আমার দরবারে হাজির হওনি, তাহলে আমার অবস্থা কেমন হবে? একথা মনে আসা মাত্রই আমি মূর্ছা যাই। এ থেকে বোঝা যায়, পূত চরিত্রের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর ভয়ে তিনি কতখানি ভীত ছিলেন। তাঁর আল্লাহ-ভীতির আরও প্রমাণ এই যে, তিনি যখন নামাজে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহার ইয়্যাকা নাবুদ ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন (আমি কেবল তোমারই এবাদত করি ও তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি) অংশটি উচ্চারণ করতেন তখন বিপুল কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। তার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, এটি যদি কোরআনের আয়াত না হত, আর পাঠ করার নির্দেশ না থাকত, তাহলে আমি কিছুতেই এটি উচ্চারণ করতাম না। কেননা, এ এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। আমি মুখে বলি, হে আল্লাহ! আমি আপনারই এবাদত করি। কিন্তু কাজে আমার প্রবৃত্তিরই দাসত্ব করি। মুখে উচ্চারণ করছি, আল্লাহ গো! আমি তোমারই সাহায্য-প্রার্থী। কিন্তু আসলে আমি মানুষের সাহায্যের প্রত্যাশা রাখি। আল্লাহ যদি মুখের ওপর বলে দেন, তুমি মিথ্যা শপথ করো না, তাহলে আমার অবস্থা কেমন হবে- এ ভয়ে কাঁদছি।

তিনি যেমন ছিলেন ধর্ম-ভীরু তেমনি কঠোর তাপস্বী। কঠিন অভ্যাস গড়ে উঠেছিল তাঁর। কোন রাতেই ঘুমাতে যেতেন না। সারারাতে জেগে এবাদত বন্দেগী করতেন। এক রাতে তাঁর মেয়ে  বললেন, আব্বা আজ একটু শুয়ে বিশ্রাম নিন। তিনি বললেন, মা গো! কিভাবে বিশ্রাম নেব বল। আমার মন সব সময় আল্লাহর ভয়ে-ভীত। তাছাড়া আমার আরও চিন্তা, আল্লাহর রহমত হয়ত নেমে আসছে আমার ওপর। কিন্তু আমাকে ঘুমাতে দেখে তা আবার ফিরে যাচ্ছে তাঁর কাছে। পাচ্ছে আমি বঞ্চিত হই, তাই আমি ঘুমাতে পারি না মা।

এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করে, আপনার দিনগুলো কিভাবে কাটছে? তিনি বললেন, আর কেমন! আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করছি আর শয়তানের দাসত্ব করছি। যদি কেউ মসজিদের দরজায় বসে ডেকে বলে, যারা মসজিদের ভেতরে আছে, তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি বের হয়ে এস দেখি, তাহলে সে অধ্ম লোকটি বেরিয়ে আসবে, সে হল এই মালেক। আর কেউ নন।

মানুষের মহত্তম গুন হল বিনয়। এ গুনে তিনি কিরূপ ভূষিত ছিলেন, এটি তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

এক মহিলা কোন কারণ বশতঃ তাঁকে কপট বা মোনাফেক বলে সম্বোধন করে। তিনি বললেন, মা গো অন্ততঃ বিশ বছরের মধ্যে কোন লোক আমাকে আমার আসল নাম ধরে সম্বোধন করেননি। এতদিন পরে আপনিই আমাকে ঐ নাম ধরে ডাকলেন। মনে হয়, আমি কি ধরণের লোক একমাত্র আপনিই তা জানতে পেরেছেন। আমার এতদিনের অভিজ্ঞতায় আমি বুঝতে পেরেছি যে, লোকজন নিন্দা আর স্তুতি দুটোই করবে। নিন্দুকরা অতিরিক্ত কুৎসা রটনা করে আর প্রশংসাকারীরা অতিমাত্রায় প্রশংসা করে নিজেদের উদ্দেশ্যে হাসিল করে। তিনি আরও বলেন, যে বন্ধুর দ্বারা উপকার হয় না, তার বন্ধুত্ব ত্যাগ করা উত্তম।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৮ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

পরবর্তী গল্প
হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৮

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৬

ক্যাটেগরী