হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ২

coSam ১০১


হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরদিন সকালে মসজিদের মুসল্লিগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, বিভিন্ন কাজের শৃঙ্খলার জন্য মসজিদে একজন মুতাওয়াল্লী নিয়োগ করা দরকার। এ বিষয়ে সকলেই একমত হলেন। অতএব কাকে এ কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও কথা উঠল। আলোচনার পর হযরত মালেক (রঃ) – কেই তারা উপযুক্ত বিবেচনা করলেন আর তাঁকে এ পদ গ্রহনের প্রস্তাব দিলেন।  

মালেক (রঃ) মনে মনে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বললেন, প্রভু গো! আমি এক বছর ধরে এতেকাফে রইলাম, নামাজ ও তাসবীহ পাঠ করলাম, তাতে কিছু হল না। আর মনের গোপন উদ্দেশ্যে বর্জন করে শুদ্ধ অন্তকরণে একটি রাত মাত্র এবাদত করলাম, আর এতেই মুতাওয়াল্লী পদটি চলে এল আপনা থেকে। কিন্তু এ পদ আমি গ্রহন করতে পারি না। আমি আপনার এবাদত আর মসজিদ ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না।

তাই হল। যে মুতাওয়াল্লা পদের জন্য তিনি কপটতার আশ্রয় নিয়েছিলেন, কারায়ত্ত হওয়া সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় সে পদ গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে তিনি গভীর সাধনায় মগ্ন হলেন। আল্লাহ কখন কাকে কী করেন, একমাত্র তিনিই তা ভালো জানেন।

এক বিত্তশালিনী ধর্মপরায়ণা, বিদূষী, রূপসী তরুণীর বিবাহের প্রস্তাবও তিনি নাকচ করেন এই বলে যে, আমি দুনিয়াকে তিন তালাক দিয়েছি। অতএব তালাক-প্রাপ্ত পৃথিবীর সঙ্গে আর সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না। তাই বিবাহের মাধ্যমে হলেও কোন নারীকে জীবন সঙ্গিনী করা সম্ভব নয়। কেননা, তাও দুনিয়াদারীর আওতায় পড়ে। বিবাহের প্রস্তাবটি আনেন মহামান্য হযরত সাবেত বানানী (রঃ)। তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলেন।

পার্থিব জীবনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি যে গভীর অধ্যাত্ন-জীবনের শরীক হন, তাঁর পরিচয় জড়িয়ে আছে বিচিত্র ঘটনামালায়। আর তা অলৌকিকও বটে। গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। দেখা গেল,

এক বিষধর সাপ নারগিস ফুলের পাত্রযুক্ত শাখা নিয়ে তাঁকে বাতাস দিচ্ছে। অন্য নিগূঢ় ঘটনাও আছে।

তাঁর বহু দিনের ইচ্ছা, জেহাদে অংশ নেবেন। সুযোগও এসে গেল এক সময়। ইসলাম বিরোধীদের সঙ্গে জেহাদ আসন্ন হয়ে উঠল। হযরত মালেক (রঃ) জেহাদের খবর পেয়ে খুব খুশী। আল্লাহ এতদিনে হয়ত তাঁর ইচ্ছা পূরণের সুযোগ এনে দিয়েছেন। কিন্তু না, সুযোগ হয়েও হল না। ঠিক এ সময়েই তিনি কঠিন অসুখে পড়লেন। যুদ্ধে যোগদান করতে পারলেন না। দুঃখে হৃদয় ভারাক্রান্ত হল তাঁর। তিনি তাঁর শরীরকেই এর জন্য দায়ী করলেন।

হতভাগা আল্লাহর দরবারে তোমার যদি এতটুকু দাম থাকত, তাহলে যুদ্ধের মুহূর্তে তুমি এভাবে রোগাক্রান্ত হতে না। তিনি তাঁর শরীরকে ভৎর্সনা করতে লাগলেন। আর হঠাৎ আকাশবাণী এল কানে, ওহে মালেক! বৃথা অস্থির হয়ো না। তুমি এর গোপন রহস্য বুঝতে পারনি। জেনে রেখো, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে, তুমি শত্রুর হাতে বন্দী হতে। বন্দী অবস্থায় তারা তোমাকে শূকরের মাংস ভক্ষণ করাতো আর তা হত ধর্ম নাশের কারণ। সেই চরম বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তোমাকে যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে অসুস্থ করে তোলেন।

হযরত মালেক দীনার (রঃ) এই অপূর্ব সৌভাগ্যে পুলকিত হলেন।

একদা এক নাস্তিকের সঙ্গে তুমুল তর্ক। তর্ক ধর্ম নিয়ে। নাস্তিক বলে, তাঁর পথই উত্তম। মালেক দীনার (রঃ) বলেন, তাঁর পথই শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম।

তর্কের ফয়সালা হবে কিভাবে? ঠিক হল, দু’জনেই এক সঙ্গে নিজ নিজ হাত আগুনে স্থাপন করবেন। যার হাত অক্ষত থাকবে তার পথই ঠিক। আর যার আগুনে পুড়বে তিনি ভ্রান্ত বলে সাব্যস্ত হবেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

পরবর্তী গল্প
হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত মালেক দীনার (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী