হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ৩

coSam ১৬৮


হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একদিন হযরত জাফর (রঃ) তাঁকে তাক থেকে একখানি বই আনতে বললেন। কিন্তু বইখানি কোন তাঁকে রয়েছে তিনি জানতেন না। জিজ্ঞেস করলে হযরত জাফর (রঃ) বললেন, তুমি কতদিন ধরে এখানে আছো, অথচ কোন তাকে বই আছে জানো না?

বায়েজীদ (রঃ) বললেন, আপনার সামনে মাথা উঁচু করে এদিকে-ওদিকে তাকাবার তো আমার প্রয়োজন ছিল না। কোন কিছু দেখার জন্য আমি এ দরবারে আসিনি। হযরত বুঝলেন, তাঁর এ শিষ্যের এবাদাত ও ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। তিনি তাঁকে তাঁর শহরে ফিরে যেতে বললেন।

পীরের নির্দেশ তিনি ফিরে এলেন মায়ের কাছে, বোস্তম শহরে। পুত্র বিরহে বিরহাতুরা জননী তখন আল্লাহ্‌র কাছে মোনাজাত করছিলেন, প্রভু গো, আমার পুত্রের মঙ্গল করুন। আপনার ওলীগণ যেন তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। তাদের দোয়া যেন ফলপ্রসূ হয়। তাঁকে ধর্মবলে বলীয়ান করুন। হে আল্লাহ্‌! তাঁর পবিত্র ইচ্ছা পূর্ণ করুণ।

মা তখন বৃদ্ধা। অতি দুর্বল। কণ্ঠস্বর অতি ক্ষীণ। কিন্তু বাড়ীর দরজায় দাঁড়িয়ে বায়েজীদ (রঃ) এই মায়ের মর্মস্পর্শী প্রার্থনা শুনলেন। বুক ঠেলে কান্না এল তাঁর। তিনি এবার দরজায় করাঘাত করে ডেকে ওঠলেন, মা গো! আপনার অধম সন্তান আপনার কোলে ফিরে এসেছে।

মমতাময়ী মা দরজা খুলে দিয়ে আকুল কান্নায় ভেঙে পড়লেন, বাছা আমার! এত দেরী করে এলে? কেঁদে কেঁদে আমি যে অন্ধ হয়ে গেছি। আমার পিঠ বেঁকে গেল।

মা ও ছেলের এই আনন্দ-বিধুর মিলনে আকাশ ও পৃথিবী নড়ে উঠল।

হযরত বায়েজীদ (রঃ) মার্জিত রুচির শিষ্টাচার-সম্পন্ন পুরুষ ছিলেন। তাঁর বাড়ী থেকে মসজিদের দূরত্ব ছিল চল্লিশ কদমের মতো। কিন্তু নামাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে তিনি রাস্তায় কোনদিন থুথু নিক্ষেপ করেননি। এক সিদ্ধ-পুরুষকে তিনি কেবলার দিকে থুথু ফেলতে দেখেন। তা দেখে তাঁর মন এত অপ্রসন্ন হয়ে ওঠে যে, তিনি তাঁর সাথে দেখা করতে গিয়েও তাঁর দরবার থেকে ফিরে আসেন।

কাবা শরীফ কোন সুলতান বাদশাহর দরবার নয়, আল্লাহ্‌র ঘর। অতএব সেখানে যথাসাধ্য দ্রুত যেতে হবে এমন কোন কথা নয়। হযরত বায়েজীদ (রঃ) বলেন, বরং আল্লাহ্‌র পবিত্র ঘরের মর্যাদা ও সম্মানের প্রশ্ন সামনে রেখে সেখানে অন্যভাবে যাওয়া উচিত। তিনি তাই ধীরে-সুস্থে, নফল নামাজ আদায় করতে করতে দীর্ঘ বারো বছর ধরে পথ চলতে চলতে মক্কা মোয়াজ্জামায় উপস্থিত হন।

মক্কায় হজ্জ সম্পন্ন করে তিনি মদীনা গমন করেন। তিনি আলাদা করে মদীনায় পাক রওজা ভূমি জিয়ারত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। কেননা, তাঁর মনে হল, মক্কায় হজ্জের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়ে ঔ সঙ্গে রওজা ভূমি জিয়ারত করা রওজার জন্য অমর্যাদাকর। সেখানে স্বতন্ত্র-ভাবে যাওয়া চাই। যাই হোক। তাঁর সহযাত্রী হওয়ার জন্য প্রচুর লোক প্রস্তুত হয়। তিনি কিন্তু এত ভিড় পছন্দ করলেন না। কিন্তু তাদের নিবৃত্ত করাও সম্ভব হল না। অগত্যা দলবল নিয়েই তাঁকে যেতে হল। অবশেষে একদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তিনি সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি যে তোমাদের প্রভু। তোমরা আমার সামনে উপাসনা করছ না কেন? তাঁর কথায় লোকজন অবাক। তারা ভাবল, নিশ্চয়ই তাঁর মাথা খারাপ হয়েছে। তাই নিজেরাই তাঁর কাছ থেকে কেটে পড়ল।

হযরত বায়েজীদ (রঃ) যে ঐ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তা তাঁর নিজের নয়। আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা জানানোর ফলে ঐ কথা তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হয়।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ৪

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২

ক্যাটেগরী