হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২০ | আমার কথা
×

 

 

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২০

coSam ১২১


হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ১৯ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

২৭. পরোপকারী ও সমব্যথী ব্যক্তি পৃথিবীর যে কোন মানুষের চেয়ে আল্লাহ্‌র অধিকতর নিকটবর্তী।

২৮. আল্লাহকে স্মরণ করার নামই হল নফসকে ভুলে যাওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহকে নিজের মতো করে চেনে, সে মৃত, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে আল্লাহ্‌র মতো করে চেনে, সে জীবিত।

২৯. আল্লাহ্‌র সঙ্গে সহাবস্থান করা ফরজ আর দুনিয়ার কাজ করা সুন্নত।

৩০. কেউ কিছু দান করলে প্রথমতঃ আল্লাহ্‌র শোকর আদায় কর। পরে দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

৩১. কোন অসৎ ব্যক্তি তোমার কাছে এলে তুমি তার প্রতি অসদাচরণ না করে উত্তম আচরণ কর। তাতে তার স্বভাবের পরিবর্তন হবে।

৩২. জান, এ কার সৃষ্টি? তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে ভয় করে চল। যেহেতু তিনি তোমার সব কিছুই জানেন।

৩৩. যিনি পীড়িতদের সেবা করেন, মানুষের দোষ-ত্রুটি মাফ করেন, আর সত্য ঘটনা গোপন করেন না- এমন লোকের সংসর্গ অবলম্বন কর।

৩৪. আল্লাহ্‌র প্রতিটি কাজ পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক। তিনি যদি কোন মানুষকে অবনতি ও দুর্গতির চরম সীমায় পৌঁছে দেন, তবুও তা পরম পুলকে বরণ করা চাই।

৩৫. আল্লাহকে কিভাবে পাওয়া যায়?

উত্তরঃ অন্ধ, বধির ও মূর্খ হয়ে যাও।

৩৬. দুনিয়াদারের জন্য দুনিয়া এক গৌরবের স্থান। পুণ্যবানদের জন্য পরকাল এক আনন্দের স্থান। আর আল্লাহ্‌র সঙ্গে বন্ধুত্ব স্তাপন করা সাধকগণের জন্য এক নূর ছাড়া আর কিছূ নয়।

৩৭. হজ্জযাত্রীরা স্বশরীরে মক্কায় গিয়ে কাবাঘর তওয়াফ করতে আর সেখানে থাকতে চান। আর আল্লাহ্‌র প্রেমাস্পদ্গণ আত্মিক ভ্রমনে যান জান্নাতে আর আল্লাহ্‌র সাক্ষাত লাভ করতে চান।

৩৮. আল্লাহ্‌র দীদার লাভের আগে যত কিছু বাকবিতন্ডা, দীদার ঘটে গেলে যাবতীয় তর্ক-বিতর্কের অবসান ঘটে।

৩৯. এমন এক বিদ্যা আছে যা আলেমগণের জ্ঞানের বাইরে। আর এমন এক ত্যাগ রয়েছে, যা বিরাগীদের জ্ঞানের বাইরে।

৪০. যে নিজেকে নিজে আরেফ বলে, সে মূর্খ। আর যে নিজেকে মূর্খ বলে ঘোষণা করে সে আরেফ বটে।

৪১. যে মানুষের সম্মান রক্ষা করে, সে আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী। আর যে মানুষের সম্মান নষ্ট করে, সে আল্লাহ্‌র দূরবর্তী।

৪২. জ্ঞান মানুষের জীবনী-শক্তি। মারেফত তার হৃদয়ের শান্তি। আর এবাদাত এক আস্বাদপূর্ণ বস্তু।

৪৩. নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী নিজের প্রচার করা উচিত। অথবা যেমন প্রচার করে তেমনি হয়ে যাওয়া।

৪৪. মানুষের কুপ্রবৃত্তি প্রবল হলে অন্তর দুর্বল হয়। আর অন্তর সবল হলে কুপ্রবৃত্তি দুর্বল হয়।

৪৫. আল্লাহ্‌ তাআলার একত্ব ছাড়া অন্য বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে যে মতভেদ দেখা যায়, তা আল্লাহরই বৈকি।

৪৬. আপনি রাতে নফল নামাজ পড়েন না কেন?

উত্তরঃ আমি প্রতি রাতে আত্মিক জগতে ভ্রমণ করি।

৪৭. তবলীগ করার গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ সেটি উত্তম কাজ। তবে তুমি এমন জায়গায় বসবাস কর, যেখানে তার দরকার নেই।

৪৮. যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে সে কথা বন্ধ করেছে।

৪৯. আল্লাহ্‌র দীদারের অবস্থা কিরূপ?

উত্তরঃ মানুষকে পানিতে ডুবতে দেখেছ কি? সাগরে ডুবে সে মারা গেলে আর এ জগতে ফিরে আসে না। তেমনি কেউ যদি আল্লাহ্‌র দীদার লাভ করে, তাহলে তাতেই ডুবে থাকে চিরদিন।

৫০. দরবেশ কে?

উত্তরঃ যে ব্যক্তি অন্তরের অন্তস্থলে প্রবেশ করে একটি গুপ্ত কক্ষের সন্ধান পায়, মোতির সিন্দুক লাভ করে সেই দরবেশ।

৫১. মানুষের উত্তম কাজ কি?

উত্তরঃ একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোন দিকে ধাবিত না হওয়া।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ২১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) – পর্ব ১৯

ক্যাটেগরী