হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ২

coSam ৮৮


হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বাদশাহ বললেন, আরও কিছু বলুন।

ফোজায়েল (রঃ) বললেন, ওমর ইবনে আবদুল আযীয খলীফা পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সলীম ইবনে আবদুল্লাহ, রাওয়াহা ইবনে হাইয়্যান (রঃ) প্রমুখ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে ডেকে বললেন, আমার ওপর যে দায়িত্ব ন্যস্ত হল তা পালনের জন্য কিভাবে কি করতে হবে আপনারাই তা ঠিক করে দিন। তাদের মধ্য থেকে একজন বললেন, বিচার দিবসে যদি শাস্তির হাত থেকে অব্যাহতি চান, তাহলে বৃদ্ধ মুসলিমগণকে পিতৃতুল্য, তরুণদের ভ্রাতৃতুল্য, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সন্তানতূল্য, স্ত্রীলোকদের জননী ও ভগিনীতূল্য জ্ঞান করবেন।

খলীফা হারুন বললেন, আরও কিছু বলুন।

ফোজায়েল (রঃ) আরও বললেন, আমার আশঙ্কা, আপনার এই দেহ-সুষমা ও কোমল শরীর জাহান্নামের আগুনে ঝলছে কদাকার হয়ে না যায়। কেননা, অনেক আমীর-বাদশাহ সেদিন জাহান্নামের আগুনের শিকার হবে।

দারুণ ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেলেন খলীফা হারুনুর রশীদ। বুক ঠেলে কান্না উথলে উঠল।

ইবনে ইয়াজ (রঃ) বলে চললেন, আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। পরকালের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত থাকুন। শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌ আপনাকে আপনার প্রতিটি প্রজা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। সে জন্য তৈরী থাকুন। একটি বৃদ্ধাও যদি রাত্রে অভুক্ত থেকে পরদিন সকালে আপনার বিরুদ্ধে আল্লাহ্‌র কাছে অভিযোগ জানায়, তাহলে আপনার অবস্থা মারাত্মক হবে।

ফোজায়েল (রঃ)-এর কথায় খলীফা প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়েন। সে কান্না সহ্য করতে পারলেন না ফজল বারমাকী। ফোজায়েল (রঃ)-কে বললেন, এবার ক্ষান্ত হন তাপস আপনি যে বাদশাহকে মেরে ফেলার জোগাড় করেছেন। ফজলকে রীতিমত ধমক দিলেন ফোজায়েল (রঃ)। তুমি চুপ কর হামান। তুমি আর তোমার দলের লোকেরাই খলীফার সর্বনাশ করেছো, আমি নই।

খলীফার কান্না আরও বেড়ে যায়। অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি তাঁর সঙ্গীকে বললেন, উনি আপনাকে হামান বলেছেন, তাঁর মানে আমাকে ফিরাউন বলে মনে করছেন। পরে তাপস- ফোজায়েলকে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি কি ঋণী?

হ্যাঁ, আমি আল্লাহ্‌র কাছে ঋণী। তাঁর নির্দেশ পালন ও এবাদতেই আমার ঋণ। এ ঋণের জন্য তিনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন তাহলে তা আমার জন্য পরম পরিতাপ ও বিপদের কারণ হবে। কোন লোকের কাছে আপনি ঋণী কিনা, আমি তাই জানতে চাইছি, খলীফা বললেন।

ফোজায়েল (রঃ) বললেন, আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমি তাঁর কাছ থেকে প্রভূত সম্পদ লাভ করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে আমার কিছু বলবার নেই। আর অন্যের কাছে ঋণী হওয়ার প্রশ্নও নেই।

অতঃপর খলীফা হারুন তাঁর পায়ের কাছে এক হাজার দিনারের একটি থলে রেখে বললেন, এ মুদ্রাগুলো সম্পূর্ণ হালাল। এগুলো আমি আমার মায়ের সম্পত্তি থেকে পেয়েছি। দয়া করে নির্দিধায় গ্রহণ করুন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ফোজায়েল (রঃ) - পর্ব ১

ক্যাটেগরী