হযরত ফাতেহ মুসেলী (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ফাতেহ মুসেলী (রঃ) – পর্ব ১

coSam ৯৬


ইরানের মুসেল নামক এক স্থানে হযরত ফতেহ জন্মগ্রহণ করেন। এই জন্য তাঁর নামের সঙ্গে মুসেলী শব্দ যুক্ত হয়েছে। কঠোর তপস্যাবলে তিনি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন তাপস হিসাবে পরিগণিত হন। তাঁর সম্বন্ধে এক দরবেশ বলেছিলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যিনি সংসার ত্যাগ করতে পারেন, তার চেয়ে বড় আলেম আর কে?

তিনি কিন্তু নিজে চাইতেন না যে, লোকে তাঁকে দরবেশ বলে চিহ্নিত করুক। এই জন্য সব সময়ে তিনি এক গোছা চাবি সঙ্গে রাখতেন। নামাজ পড়ার সময় চাবিগোছা জায়নামাজের ওপর রাখতেন। আপনি এতগুলো চাবি দিয়ে কী করেন? এ প্রশ্নের তিনি কোন জবাব দেননি।

একবার সততা সম্বন্ধে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি তপ্ত উনুন থেকে হাত দিয়ে এক খন্ড জ্বলন্ত কয়লা বের করে এনে তা হাতের তালুতে রেখে বলেন, একেই বলে সততা।

একবার স্বপ্নের মাধ্যমে হযরত আলী (রাঃ) এর কাছ থেকে হযরত ফতেহ (রঃ) উপদেশ পান যে, যদি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ধনবান ব্যক্তি গরীব-দুঃখীরা যদি বিত্তশালীদের প্রতি অবহেলা দেখাতে পারেন, তবে সেটি আরও উত্তম।

একবার তিনি প্রবল কান্নায় অশ্রু বিসর্জন করছিলেন। কিন্তু অশ্রুর বদলে তাঁর চোখ থেকে নেমে এসেছিল রুধির স্রোত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি এত বেশী কাঁদেন কেন? তিনি বলেন, পাপের কথা মনে এলেই আমার এমন কান্না পায়। আবার পাছে সেটি লোক দেখানো কান্না হয়ে যায়, সেই ভয়ে আমার এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, তাতে আরও বেশী কান্না বুক ঠেলে বেরিয়ে আসে। আর সেই কাঁন্নার সাথে, অশ্রুর বদলে রক্ত-স্রোতে প্রবাহিত হয়।

একবার এক ব্যক্তি উপহার স্বরুপ পঞ্চাশ হাজার টাকা তাঁর সামনে রেখে বলেন, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, কেউ কাউকে কোন কিছু অযাচিত ভাবে দান করলে সে যদি তা গ্রহণ না করে, তবে তা তার জন্য আল্লাহর নেয়ামত অগ্রাহ্য করার তুল্য অপরাধজনক কার্যক্রমে গণ্য হয়। তার কথা শুনে হযরত ফাতেহ (রঃ) মাত্র একটি মুদ্রা তুলে নিয়ে বাকীগুলো রেখে দিতে বলেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ফাতেহ মুসেলী (রঃ) – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ফাতেহ মুসেলী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত দাউদ তায়ী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী