হযরত নূহ (আঃ)- এর জাহাজ তৈরি -৪র্থ অংশ

হযরত নূহ আঃ এর জাহাজ তৈরী- ৩য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

উজের উঠানো কাঠগুলো হযরত নূহ (আঃ) সঙ্গীদের দ্বারা যথাস্থানে নিয়ে এলেন এবং অতি সত্তর তক্তা করে জাহাজের অসমাপ্ত কাজ আরম্ভ করে দিলেন। সপ্তাহ খানিকের মধ্যে তিনি জাহাজের সম্পূর্ণ কাজ সমধা করে ফেললেন। দেশে হাজার হাজার মানুষ জাহাজ নির্মানের খবর শুনে প্রতিদিন দেখতে আসে এবং বিদ্রূপের হাসি হসে। কারণ মরুভূমির মধ্যে জাহাজ তৈরির কাজটা একটা হাস্যকর ব্যাপার ছাড়া আর কি হতে পারে।  

জাহাজ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করে হযরত নূহ (আঃ) আল্লাহ তা’য়ালার পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করতে থাকেন। এভাবে কয়েক দিন পার হয়ে গেল। হঠাৎ একদিন দেখা গেল কারা যেন রাতের অন্ধকারে জাহাজের মধ্যে পায়খানা প্রস্রাব করে সর্বনাশ করেছে। হযরত নূহ (আঃ)- এর আর বুঝতে বাকি রইল না, এটা কাদের কাজ। তিনি দুর্বল, ওদের সাথে মোকাবেলায় অগ্রসর হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে নালিশ করে রাখলেন।

ওদিকে বিধর্মীরা উল্লাস করে জাহাজে পায়খানা করতে লাগল। দিন দিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এখন শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও দলে দলে মানুষ এসে জাহাজে পায়খানা প্রস্রাব করে যেতে থাকে। একাধারে পনের দিন যাবত এভাবে চলার পরে দেখা গেল পায়খালা ও প্রস্রাবে জাহাজ প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে। হযরত নূহ (আঃ) মাঝে মাঝে এসে দূর থেকে দৃশ্য দেখে যান এবং বুক ভাসিতে কাঁদতে থাকেন। তাঁর উম্মতগণের অবস্থাও একই রূপ।

এর মধ্যে এক অন্ধ ব্যক্তি জাহাজে পায়খানা করার সময় পা ফসকে জাহাজের মধ্যে পড়ে যায় এবং মল মূত্রের মধ্যে একেবারে ডুবে যায়। তারপর সে কোন রকমে সাতরে উপরে উঠে দেখ, তার চোখের অন্ধত্ব দূর হয়ে গেছে। শস্য-শ্যামল ধরণী তার রূপ নিয়ে অন্ধের সম্মুখে হাজির হয়েছে। গোত্রের মানুষেরা প্রথমে তাকে বিশ্বাস করতে পারে নি। পরে নানা রকম পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে তারা মহা ভাবনায় পতিত হল। এ খবর ক্রময়ান্বয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে লাগল।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একদল লোক রাত্রি বেলায় একজন অন্ধকে নিয়ে জাহাজের মধ্যে ফেলে দিল। অন্ধ সেখানে চুব খেয়ে উপরে উঠে আসলে সাথে সাথে তার অন্ধত্বও দূর হল। অন্ধ ব্যক্তি পৃথিবীর সব কিছু পরিস্কারভাবে দেখতে পাচ্ছে। পর পর দুটি অন্ধ দৃষ্টিশক্তি ফিরে ফেল। এবার দেশে এক ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি হল। এখন আর কেউ সেখানে পায়খানা করার জন্য যায় না। এখন সেখানে অন্ধদের যাতায়াত আরম্ভ হয়। যে জাহাজে ডুব দিয়ে আসে তার অন্ধত্ব দূর হয়ে যায়। প্রতিদিন শত শত অন্ধ ব্যক্তিরা আরোগ্য লাভ করার পরে পঙ্গু, অচল, লুলা জাতীয় আক্রান্ত ব্যক্তিরা গিয়ে জাহাজের মল মূত্রের মধ্যে ডুব দিতে আরম্ভ করল। আল্লাহর মহিমায় তারাও আরোগ্য লাভ করল। এরপর আরম্ভ হয় অন্যান্য ব্যাধিগ্রস্ত লোকেদের যাতায়াত। তারাও ক্ষণিকের মধ্যে আরোগ্য লাভ করতে লাগল। তখন দেশ বিদেশ থেকে মানুষের ঢল নেমে আসতে আরম্ভ হল। শুধু মল মূত্র ব্যবহারেই তারা ফিরত না, বরং পাত্র ভরে ভরে মল মূত্র নিয়ে যেতে আরম্ভ হল। সপ্তাহখানেকের মধ্যে জাহাজের ভিতরের সব মল মত্র শেষ হয়ে গেল। এরপরে যারা দেশ বিদেশ থেকে আসল তারা জাহাজ ধুয়ে পানি নিতে আরম্ভ করল। শেষের দিকে ধুয়ে মুছে নেবার ক্ষেত্রে ভীষণ প্রতিযোগিতা ও কাড়াকাড়ি আরম্ভ হল।

হযরত নূহ (আঃ) এর জাহাজ তৈরীর ঘটনা-শেষ অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।