হযরত নূহ (আঃ)- এর জাহাজ তৈরি -১ম অংশ

হজরত নূহ (আঃ) আল্লাহ তা’য়ালার তরফ থেকে জাহাজ তৈরির কড়া নির্দেশ পেয়ে হয়রান হয়ে গেলেন। তিনি চতুর্দিকে ছুটাছুটি করতে আরাম্ভ করলেন। কোথায়  লোকজন, কোথায় প্রয়োজনীয় মালপত্র, কিছুই তার জোগাড় নেই। তবুও আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ যথা সত্তর কার্যকারী করতে হবে। তাই তিনি তার গুটি কয়েক অনুসারীকে খবর দিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশ সম্বন্ধে অবগত করলেন। তৎপর তাদেরকে সহযোগিতা করতে বললেন। সকলে আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে সর্ব রকম সাহায্য সহানুভুতির আশ্বাস প্রদান করলেন।  হযরত নূহ (আঃ) তার রোপা গাছটির নিকট গিয়ে অবাক হলেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সে ক্ষুদ্র ডালটি এক বিশাল বৃক্ষে রুপ নিয়েছে।  গাছটি ছয়শত গজ লম্বা এবং চারশত গজ বিস্তৃত হয়ে মানুষের একটি প্রদর্শনী বস্তুতে পরিণত হয়েছিল।  বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসে গাছটি দর্শন করত।  

হজরত নূহ (আঃ)-এর ভক্তদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অসাধারণ শক্তির অধিকারী । তার নাম ছিল আহাম। সে এক সাথে কয়েক শত মানুষের সাথে লড়তে ভয় পেত না। হজরত নূহ (আঃ) যখন গাছ কাটার জন্য সেখানে উপস্থিত হলেন তখন আহামও তার সাথে ছিল । গাছটি কাটার সময় এলাকার বহু লোক এসে গাছটি কাটতে বাধা প্রদান করল।  হযরত নূহ (আঃ) বললেন, গাছ কাটার জন্য তিনি আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ পেয়েছেন। অতএব গাছটি তাকে কাটতে হবে।  তখন কতিপয় ছেলে আসে হযরত নূহ (আঃ)-এর হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিল। আহাম এই দৃশ্য দেখে পাঁচটি ছেলেকে আছড়ে মেরে ফেলল এবং নিজ হাতে অস্ত্র ধরে অল্প সময়ের মধ্যে ভূপাতিত করল। এ অবস্থা দেখে স্থানীয় লোকেরা আর কেউ বাধা প্রদান করতে সাহস পেল না।

হজরত নূহ (আঃ) কয়েক দিন বসে গাছ কেটে তক্তা বের করলেন এবং ছোট শাখা কেটে পেরেগ বানিয়ে নিলেন। তারপর নবীর সারা জীবনের হেদায়েতের ফসল মাত্র চল্লিশ জন উম্মত নিয়ে জাহাজ তৈরির কাজে হাত দেন। এক হাজার গজ লম্বা ও চারশ গজ প্রস্ত এক জাহাজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ আরম্ভ করলেন।  নবী তার উম্মতদেরকে নিয়ে দিবারাত্র কাজ করতেন । এ জাহাজ তৈরির কাজে নবী ও তার সঙ্গীরা এত সাফল্য লাভ করলেন যাতে সাধারণ মানুষ অবাক হয়ে গেল ।  এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’য়ালা হয়ত ফেরেস্তা দ্বারা সাহায্য করেছিলেন। যাতে করে প্রতি দিন কয়েক শত মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব ছিল না, তা তারা সমাধা করে ফেলতেন। চল্লিশ দিন কাজ করার পর দেখা গেল জাহাজের কাজ প্রায় শেষ । তবে কিছু তক্তার অভাব পড়েছে । তখন নবী আল্লাহর দরবারে আরজ করে  বললেন তাদের কাঠের অভাব যেন তিনি অনতি বিলম্বে দূর করে দেন।

এ সময় হজরত জিব্রাইল (আঃ) হাজির হয়ে নবীকে বললেন, নীল নদের তল দেশে কিছু গাছ আছে তা উত্তোলন করে উহা দ্বারা অপূরণ তক্তার কাজ সমাধা করুন।

হযরত নূহ (আঃ) জিব্রাইলের কথা শুনে আর এক সমস্যার সম্মুখীন হলেন। নদীর তলদেশ থেকে কিভাবে সে কাঠ সংগ্রহ করবেন।  উম্মতদেরকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন ।  উম্মতের মধ্য থেকে একজনে প্রস্তাব দিলেন, উজবিন ওনক বর্তমানে আমাদের দেশে আছে। সে সর্বদা সমুদ্র থেকে অনায়াসে মাছ ধরে খায় । অতএব তাকে কিছু খাবার দিলে, সে সহজে কাঠগুলো তুলে দিতে সম্মত হবে।

যরত নূহ (আঃ) এর জাহাজ তৈরীর ঘটনা-দ্বিতীয় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।