হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ২

coSam ৩২৪


হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সাররী সাকতী (রঃ) বললেন, তিনি তোমার পিতার প্রতি কী ন্যায়বিচার করেছেন এবং আমার ওপরই বা কী অনুগ্রহ করেছেন? জুনায়েদ (রঃ) বললেন, আপনি যে ফকিরী অর্জন করেছেন, এটি তাঁরই অনুগ্রহ; আর আমার পিতাকে দুনিয়ার ধনে ধনী করে সংসারী করেছেন। এটিই তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার। এখন ইচ্ছা হলে আপনি এ মাল গ্রহণ করতে পারেন আর না করলে আমার বলার কিছু নেই। হযরত সাররী সাকতী (রঃ) ভাগ্নের কথায় খুবই সন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন, যাকাত গ্রহণের আগে আমি তোমাকেই গ্রহণ করছি। এই বলে তিনি দরজা খুলে দিলেন এবং আদরের ভাগ্নেকে হৃদয়ের মধ্যে স্থান দিলেন।

জুনায়েদের বয়স যখন সাত, তখন তাঁকে নিয়ে হযরত সাকতী (রঃ) হজ্জ্বে গমন করেন। ঐসময় কাবা ঘরে চারশ জ্ঞানী ব্যক্তি সমবেত হন। একদিন তাঁদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞতা বিষয়ে আলোচনা হয়। সবাই যে যার অভিমত প্রকাশ করেন। অবশেষে হযরত সাকতী (রঃ) শিশু জুনায়েদ (রঃ)-কে কিছু বলতে বলেন। জুনায়েদ (রঃ) কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নিচু করে সবিনয়ে বললেন, আল্লাহ্‌ আমাদের যেসব কিছু দান করেছেন, তা লাভ করে আমরা যেন তার অবাধ্য না হই। আর তার অবদানকে পাপের উপকরণে বা কারণে পর্যবসিত না করি। এটাই হল আমাদের প্রকৃত কৃতজ্ঞতা। শিশুর কথা শুনে সবাই একবাক্যে তারীফ করে বললেন, তার কথাটাই সঠিক ও সর্বোত্তম।

হযরত সাকতী (রঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এ কথা কোথা থেকে শিখলে? তিনি বললেন, আপনার সাহচর্যে থেকেই শিখেছি।

হযরত সাকতী (রঃ) বাগদাদে ফিরে এসে হযরত জুনায়েদ (রঃ) কাচের ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর দোকানের সামনে একখানি পর্দা টাঙানো থাকত। তিনি পর্দার আড়ালে দৈনিক চারশো রাকায়াত নফল নামাজ আদায় করতেন। কিছুদিন পর ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে হযরত সাররী সাকতী (রঃ)-এর বাড়ির সামনে এক কোঠায় বসে আল্লাহ্‌র ধ্যানে মগ্ন হন। ক্রমে ক্রমে তিনি এমন বিভোর হয়ে যান যে, তাঁর সামনের নিন্মভাগ হতে জায়নামাজ সরিয়ে ফেলতেন, যেন আল্লাহ্‌র ধ্যান ছাড়া তাঁর মনে আর কোন ভাবনার উদয় না হয়।

এভাবে কেটে যায় চল্লিশ বছর। এর মধ্যে ত্রিশ বছর কাটে বিচিত্রভাবে। এই দীর্ঘ সময় এশার নামাজের পর তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আল্লার ধ্যান করেছেন। আর এশার ওজুতেই ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। একদিন তিনি অদৃশ্য আওয়াজ শুনতে পেলেন। এখন তোমার বুত পোরস্তীর পৈতা দেখাবার সময় হয়েছে। তিনি বলেন, দয়াময়, জুনায়েদের কী পাপ হয়েছে বলুন। তখন আবারও শব্দ এল, তুমি এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। এখনও তুমি নিজেকে ডুবিয়ে দাওনি। এর চেয়ে তুমি আর কী পাপ দেখতে চাও? তখন একটি দীর্ঘশ্বাস টেনে লজ্জায় মাথা ঝুলিয়ে দিতে তিনি বললেন, আহা!

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন 


পরবর্তী গল্প
হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী