হযরত খাদীজার বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্বে আল আমিন | আমার কথা
×

 

 

হযরত খাদীজার বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্বে আল আমিন

coSam ১১৮


রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ন্যায়নিষ্ঠা, সততা, সাধুতা, সভাবগত চারিত্রিক মাধুর্যতা প্রভৃতি গুণরাজির সমাহারে এক অন্যন্য মানব হিসেবে সর্বত্র তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। সর্বত্র আল আমীন উপাধীতে খ্যাত হতে থাকেন।

তখনই একদিন হযরত খাদিজা নিজের এক লোককে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে তাঁর সাথে জরুরী কথাবার্তা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি হযরত খাদিজা (রাঃ) এর গৃহে উপস্থিত হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনার সততা, সত্যনিষ্ঠতা, বিশ্বস্ততা এবং চরিত্র মহিমা সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবগত হওয়ায় আপনাকে স্মরণ করেছি। আপনি আমার বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনার ভার গ্রহণ করলে আমি অত্যন্ত বাধিত হব।

এজন্য আমি আপনাকে অন্যের চেয়ে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক প্রদান করব। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক উত্তর না দিয়ে তিনি তার চাচা আবূ তালেবের সাথে পরামর্শক্রমে জানাবেন বলে স্থান ত্যাগ করেন। তিনিগৃহে প্রত্যাবর্তন করে সব বিষয় চাচাকে অবহিত করেন। চাচা আবূ তালেব হযরত খাদীজার প্রস্তাবের কথা শুনে যারপরনাই আনন্দিত হন। একে তো আবূ তালিবের পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক, তদুপরি সে বছর আরবে অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভিজ্ঞ বিরাজ করছিল।

এ অবস্থায় আবূ তালেব হযরত খাদীজার প্রস্তাবকে অদৃশ্য শক্তির সহযোগিতা বলে মনে করেন। তখনকার দিনে আরবের বুকে হযরত খাদীজার বাণিজ্য কাফেলার কর্তৃত্ব লাভ বৈষয়িক বিচারে বিরাট এক সৌভাগ্যের বিষয় বলে বিবেচিত হত। ঐতিহাসিক ইবনে সাদ প্রমুখের মতে, তখনকার দিনে হযরত খাদীজার বানিজ্য সম্ভার অন্য সকলের সম্মিলিত বাণিজ্য সম্ভারের সমান হত।

এসব বিষয়ে নানাবিধ চিন্তা ভাবনা করে আবূ তালিব অত্যন্ত আগ্রহের সাথে হযরত খাদীজা (রাঃ) তাঁর বিশ্বস্ত ভৃত্য মায়সারাকে দেন এবং তাকে কাফেলার পরিচালক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আদেশ নিষেধ মেনে কাজ করতে বিশেশভাবে তাগিদ করেন। নির্দিষ্ট দিন কাফেলা রওয়ানা হয়ে গেল। কাফেলা যথারীতি সিরিয়ায় উপনীত হয় এবং অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি লাভে এবং কম সময়ে বাণিজ্য সম্ভার বিক্রি করে মক্কায় ফিরে আসে।

* হযরত খাদীজা (রাঃ) নিজে ছিলেন অতিশয় বিদূষী, বিচক্ষণা, সূক্ষ্ণদর্শিনী, বুদ্ধিমতি ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রমণী। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সততা, বিশ্বস্ততা, আমানতদারী, বিণয়-নম্রতা, ব্যক্তিত্ব, সচ্চরিত্রতা ও ন্যায়-নিষ্ঠা প্রভৃতি গুণ দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তিনি যেন তাঁর প্রতি কেমন একটা হৃদয়ের টান অনুভব করতে লাগলেন। এসময় তিনি মনে মনে ভাবছিলেন, যদি ইনি শেষ নবী হন, আর আমি যদি তাঁকে স্বামীত্বে বরণ করে তাঁর দাসীরুপ স্ত্রী হতে পারি, তবে আমার মত সৌভাগ্যবতী নারী সারা বিশ্বে আর কে হতে পারে? তিনি সহচরী নাফিসার মাধ্যমে আল আমীনের কাছে প্রস্তাব পাঠান।

নাফিয়া এসে আল আমীনকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি বিয়ে করছেন না কেন? জবাবে তিনি বলেন- বিয়ের সামর্থ আমার নেই। নাফিসা বলেন- যদি তার সুব্যবস্থা হয়? মুহাম্মদ (সাঃ) পরিচয় জানতে চাইলে নাফিসা পূর্ণ বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রশ্ন করলেন- আপনি এ প্রস্তাব কিভাবে করলেন? নাফিসা বলেন- আমি এ প্রস্তাব করেছি এবং তা বাস্তবায়নও আমিই করব। নবীজী (সাঃ) থেকে বিদায় হয়ে নাফিসা খাদীজা তাহেরাকে নবীজী (সাঃ) এর সাথের কথাবার্তা শুনান।

ওদিকে নবীজী (সাঃ) তাঁর অভিভাবক চাচা আবূ তালিবকে নবীজী (সাঃ) এর সাথের কথাবার্তা শুনান। হযরত খাদীজার ব্যক্তিগত আগ্রহের কথাও প্রকারান্তরে আবূ তালিবকে জানিয়ে দেন। আবূ তালিব খাদীজার চাচা আমর বিন আসাদের কাছে বিয়ের পয়গাম পাঠান। উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে আলাপ আলোচনাক্রমে মহরানা নির্ধারিত হয়ে নির্দিষ্ট দিন তারিখে উভয় পক্ষের আত্নীয় স্বজন ও কুরাইশ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

  

পরবর্তী গল্প
হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে তীব্র বিতন্ডা

পূর্ববর্তী গল্প
আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী