হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১১

coSam ৪২৯


হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১০ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পৃথ্বিরাজের উপর খাজা সাহেবের অভিশাপঃ ইতিহাস বেত্তারা বলেন, প্রথম তারাইনের যুদ্ধে মুহাম্মাদ ঘুরী পরাজিত হয়ে পুনরায় দ্বিতীয়বার যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। অতীত সত্য কথা যে, এই যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ বিপুল সৈন্যবাহিনী নিয়ে পরাজিত ও নিহত হলেন। ইতিহাসবিদ্গণ ও ইসলামী জ্ঞানতাপসগণ বলেন, দ্বিতীয় তারাইনের যুদ্ধের পশ্চাতে সূফী কুলের শিরমণি হযরত খাজা সাহেব-এর অভিশাপ খুবই কার্যকারী হয়েছিল।

প্রথমতঃ সাধককুলের শিরমণি হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রঃ) সাহেব পৃথ্বিরাজকে ইসলাম গ্রহণ করবার জন্য এক চিঠিতে দাওয়াত দিয়েছিলেন। খাজা সাহেব তার মূল্যবান চিঠির মধ্যে উল্লেখ করেন যে, পৃথ্বিরাজ একথা সর্বজন বিদিত যে, মূর্তি অচেতন পদার্থ তার কোন শক্তি নেই। সে মানব জাতির কোন প্রকার সার্থকতা থাকতে পারে না। মহান করুণার আঁধার আল্লাহ্‌ জাল্লা শানুহ এক, অদ্বিতীয় তার কোন শরীক নেই। অতএব, তুমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সোনালী ইতিহাসের নির্মল আদর্শ অনুযায়ী জীবন গঠন কর। তোমার উপর আল্লাহ্‌র রহমতের করুণা বর্ষিত হবে। খাজা সাহেবের চিঠি পেয়ে পৃথ্বিরাজ ক্রোধে উন্মাদ হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়তঃ পৃথ্বিরাজ খাজা সাহেবের এক ভক্ত মুরীদ কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকুরী হতে বরখাস্ত করায় খাজা সাহেব একথা শুনে এক টুকরা কাগজে লিখে পাঠান আমি তোমাকে জীবিত অবস্থায় মুসলিম সৈন্যদের হাতে সোপর্দ করলাম। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ রুহানী জগতের খাঁটি প্রজ্ঞাদাতা খাজা সাহেবের এই অভিশাপ সে সত্যে পরিণত হয়েছে, তা একটু খেয়াল দিয়ে শুনুন এবং চিন্তা করে দেখুন খাজা সাহেব কতদূর আল্লাহ্‌ ওয়ালা ছিলেন।

চিশতীর তরীকারঃ একথা সর্বজন বিদিত যে ইলমে মারেফাতের অনেকগুলি তরীকার মধ্যে চারটি তরীকাই আসল, যথাঃ চিশতীয়, কাদিরীয়া, নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায় চিশতী হিন্দুস্থানের একটি গ্রামের নাম। সাধক কুলের শিরোমণি সত্যের সৈনিক হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রঃ) ও তরীকার অধিকাংশ তাপসগণ এই গ্রামে অবস্থান করতেন বলে তার নামানুসারে তাদের প্রবর্তিত তরিকার নাম চিশতীয়া তরীকা হয়েছে। ইতিহাস বেত্তারা বলেন, চিশতীয়া তরিকা যদিও খাজা সাহেবের আগেই প্রচলিত ছিল। কিন্তু এই তরীকার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ লাভ করে তারই সময় হতে। এই তরিকার অজিফা ও আমল অত্যন্ত সহজ ও সরল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ অতি সহজে এই তরীকার চর্চা ও অনুসরণ করতে সক্ষম হয়।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রঃ) – পর্ব ১০

ক্যাটেগরী