হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – শেষ পর্ব

coSam ২১৪


হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ৬ষ্ঠ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কোন কোন বর্ণনায় জানা যায় হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) ৮৯ বছর বয়সে রবিউল আখের চান্দের আঠার  তারিখে হিজরী ৭২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।  মৃত্যুর তারিখ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বিশ্লেষন করলে দেখা যায়।  যে ১১ তারিখে এবং ২৮ তারিখের মাঝে প্রভেদ পাওয়া যায় তবে যাই হোক, তিনি যে তারিখেই মৃত্যু বরণ করুক না কেন তাঁর মহা প্রস্থানে সারা ভারতীয় উপমহাদেশে জাতি-ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে সকলের মাঝেই যে শোকের ছায়া এবং বেদনার ধারা নেমে এসেছিল একথা বলার অবকাশ রাখে না।  মাহবুব ইলাহি হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) এর মৃত্যুকষ্ট বা যাতনার প্রকাশ পাওয়ার পর দিল্লীর সুলতান তঘলোক শাহ এবং বহু গুনগ্রাহী ব্যক্তি তাঁর চিকিৎসার জন্য অধীর হয়ে উঠলেন।  কিন্তু হযরত সুলতান আউলিয়া (রঃ) পার্থিব কোন চিকিৎসা কিংবা ওষুধের প্রতি মোটেই আগ্রহী ছিলেন না।  তিনি সর্বদাই আল্লাহ পাকের জিকির এবং স্মরণে নিমগ্ন থাকতেন।

জীবনের সকল অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী এবং হুকুম আহকাম পালন করার জন্য তিনি তৎপর থাকতেন।  পৃথিবীর কোন বস্তুর প্রতিই তাঁর কোন আকর্ষণ ছিল না।  এ জন্য সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত রাজ হেকিম যখন তাঁর নিকট চিকিৎসার জন্য উপস্থিত হল তখন তিনি বললেন, ভালবাসার ব্যাথায় পীড়িত ব্যক্তির একমাত্র ওষুধ হলো আশেকের দিদার লাভ করা।  এ ছাড়া কোন কিছুই তাঁকে সান্ত্বনা দিতে পারে না।  একথা বলার পর রাজ হেকিম চলে গেলেন।  এর কিছুক্ষন পরই হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) এর প্রাণ বায়ু দেহ পিঞ্জির ছেড়ে অমর ধামে প্রস্থান করল।  এই মৃত্যুর ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল।  সম্রাট মহাম্মদ তুঘলক এবং হযরত রকুনুদ্দিন সোহরাওয়ার্দী গিয়াসপুরে ছুটে আসলেন।  হযরত মাহবুব এলাহি (রঃ) এর জীবদ্দশায় সম্রাট  মোহাম্মদ তুঘলক কখনও তাঁর দরবারে হাজির হওয়ার অনুমতি পান নাই।  ফলে এ মহাপুরুষের মৃত্যুর পর তাঁর অন্তিম ক্রিয়ার অংশগ্রহণ করতে সুযোগ লাভ করে নিজেকে ধন্য মনে করেছিলেন।  এবং তাঁর চেহারা মোবারক এক নজর দেখে পরম স্বস্তি লাভ করেছিলেন। 

অসিয়ত অনুসারে তিনি তাঁকে যেন খানকায়ে সম্মুখে যে একটি বিরাট পুকুর বিদ্যামান ছিল সেই পুকুরের মাঝখানে যেন মৃত্যুর পরে দাফন করা হয়।  ফলে সম্রাট নির্দেশে অগণিত লোক পুকুর ভরাট করার কাজে যোগদান করল।  অল্প সময়েই মধ্যেই সুচারু রূপে উক্ত পুকুরটি ভরাট হয়ে গেল  এবং হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) এর অন্তিম জানাযা স্বয়ং সম্রাটসহ দিল্লীর এবং আশপাশের সকল শ্রেণীর নাগরিকগণ অংশগ্রহণ করে রুহে মাগফেরাত কামনা করে তাঁকে চির বিদায়ে সমাহিত করলেন।  

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
হযরত এমরান (রাঃ ) এর পিতা হযরত হুসাইন (রাঃ ) কে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ৬ষ্ঠ পর্ব

ক্যাটেগরী