হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ২য় পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ২য় পর্ব

coSam ২৯৭


হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

প্রথম দর্শনেই মাওলানা শামসুদ্দীন (রঃ) সাহেব তাঁর প্রতি কেমন যেন অনুপম ও আকর্ষন অনুভব করলেন।  তিনি প্রথমে সবকেই বুঝতে পারলেন যে উক্ত ছেলেটির মধ্যে বিরাট প্রতিভা লুকায়িয় আছে।  তিনি সানন্দে নিজাম উদ্দিনকে শিক্ষা দিয়ে মানুষ করলেন।  তখন ছিল প্রাচীনকাল।  আর সেই সময়টা ছিল  দিল্লীর অধিস্বর সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবান।  তিনি মাওলানা শামসুদ্দিন দামগানী এর তাঁর পাণ্ডিত্য, কামালিয়াত ও বু্যুর্গীয় খুবই শ্রদ্ধাবান ছিলেন।  তিনি তাঁর পাণ্ডিত্য ন্যায্য মূল্য স্বরূপ তাঁকে শামসুল মূলক উপাধিতে বিভূষিত করেছিলেন। 

ধর্মীয় শাস্ত্র ফিকাহ, উমমূল আকায়েদ, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার পর হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) হাদীস শরীফে উচ্চতর শিক্ষা লাভের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং তৎকালীন দিল্লীর সর্বশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ ও হাদিস বিশারদ হযরত মাওলানা কামালউদ্দিন (রঃ) এর খেদমতে হাজির হন এবং তাঁর  সাহচর্যে হাদিস বিষয়ক কিতাবাদি অধ্যয়নে ব্রতী হন ও সুখ্যাতির সাথে জ্ঞানর্জনে করেন।  তখন হাদীস বিশারদ মাওলানা আহমদ তাবারিজির স্থানও ছিল অতি উচ্চে।  তাঁর চেয়েও তিনি অধিক জ্ঞানী  বলে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।  শুধুমাত্র হাদীস শরীফেই তাঁর শিক্ষা সীমাবদ্ধ ছিল না। 

তিনি একাধরে যেমনি একজন সুপণ্ডিত ও শাস্ত্রকার ছিলেন তেমনি জ্যোতিবিদ্যা, গণিত শাস্ত্র, তফসীর, বালাগত, উমমূল ফিকাহ, আকায়েদ, ইতিহাস ও সাহিত্য সম্পর্কেও বিভিন্ন মাশায়েখ নিকট হতে প্রভুত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।  একই সাথে তাঁর তীক্ষ্ণ ধ্যান শক্তি প্রতুৎপন্ন সতিত্ব, অসাধারণ ধৈর্য ও সহনশীলতা মনজিলে মকসুদে পৌঁছে দিল।  তাঁর মধ্যে কোনরূপ আড়ম্বর প্রিয়তা ছিল না।  সবসময়ই তিনি সহজ সরল জীবন যাপন করতেন।  তাঁর অবাধ্য পাণ্ডিত্য সকলকেই বিমুগ্ধ করে তুলেছিল। 

তরিকতে বিশেষ বুৎপত্তি  লাভঃ মহান খোদা প্রিয় বান্দা মাহবুবে ইলাহী হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রঃ) এলমে জাহেরের সাথে সাথে এলমে বাতেনের প্রতিও আকৃষ্ট হয়ে পড়ে ছিলেন।  তিনি মনে করেছিলেন, কিতাবী জ্ঞান কেমন যেন অপূর্ণ রয়ে গেল।  জাহেরী ভাবে ধর্ম পুরোপুরি লাভ হয় না।  তাই একমাত্র বাতেনের মাধ্যমেই কিছু আধ্যাত্মা সাধনায় গভীর মনোযোগের সাথে আত্মনিয়োগ করেন।

তিনি ভাবলেন কিভাবে এলমে বাতেনের পরিপুর্ণতা লাভ করা যায়।  তজ্জন্য তিনি তৎকালী বাতেনের শিক্ষা লাভ করার জন্য শায়খ নাজিমউদ্দিন মুতাওক্কিল (রঃ) দিল্লীর বিখ্যাত তাশতদার মসজিদের হুজরাখানায় অবস্থান করতেন।  তিনি ছিলেন তদান্তীন সর্বশ্রেষ্ঠ অলিয়ে কামেল হযরত বাবা ফরিদউদ্দিন গঞ্জেশর্কর (রঃ)- এর ছোট ভাই।  তরিকতের ক্ষেত্রে তিনি গঞ্জেশর্কর (রঃ)-এর পথই অনুসরণ করে চলতেন।   

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ৩য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ৩য় পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া (রঃ) – ১ম পর্ব

ক্যাটেগরী