হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – পর্ব ১

হযরত ঈসা (আঃ) অবিবাহিত ছিলেন। আর বসবাসের জন্য ঘরও বানান নি। তিনি শহরে শহরে, গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষকে আল্লাহর বাণী শুনিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব পালন করতেন। রাত হলে বিছানাপত্র ছাড়াই বিশ্রামের জন্য শুয়ে পড়তেন। তিনি দৈহিক ও আত্নিক উভয় দিক দিয়ে জীবের উপকার করতেন। ফলে তিনি যেখানেই উপস্থিত হতে হাজার হাজার লোক ভক্তি সহকারে সেখানে জড় হয়ে যেত। কিন্তু ইহুদীরা তাঁর এ জনপ্রিয়তা সইতে পারল না। হিংসা বিদ্বেষে তারা জ্বলে পুড়ছিল। নানাভাবে তারা পেরেশান করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে দেশ থেকে বের করে দিল।

তাফসীরে খাযেনে একটি বর্ণনা আছে- তা হল, ইহুদীরা তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার পর তিনি স্বীয় মাতাকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে এক গ্রামে এসে উপনীত হলেন। সেখানে তারা এক ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় নিলেন। এ ব্যক্তি তাদের মেহমানদারী করল এবং তাদের সাথে খুব ভাল আচরণ করল। সে এলাকার রাজা ছিল এক সীমালংঘণকারী যালেম।

একদিন সে গৃহ কর্তা বিষণ্ণ মনে গৃহে প্রবেশ করল তার মনের বিষণ্ণতার ছাপ তার মুখ মন্ডলে বিরাজমান। হযরত ঈসা (আঃ) এর মাতা হযরত মারইয়াম গৃহ কর্তার স্ত্রীর কাছে বসা ছিলেন। হযরত মারইয়াম (আঃ) তার স্ত্রীকে তার স্বামীর বিষণ্ণতার কারণ জিজ্ঞেস করলে তার স্ত্রী বলল, এ সম্পর্কে বলে আর কি হবে? হযরত মারইয়াম বলেন-আমার কাছে খুলে বল, হয়তবা আল্লাহ এর কোন সুরয়া করে দিতে পারেন।

সে ব্যক্তির স্ত্রী বলল- আমাদের এলাকার বাদশাহ বড় অত্যাচারী এ যালেম বাদশাহ তার ভরণপোষণের ভার প্রজাদের উপর ন্যস্ত করেছে। প্রতিদিন এক একজন তার এবং তার সেনাবাহিনীর আহারের ব্যবস্থা করতে হয়। এবং তাদেরকে মদপান করাতে হয়। যদি কেউ তা না করতে পারে তবে তাকে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। আজ আমাদের পালা। অথচ তাদের আহারের মদ পানের ব্যবস্থা করার মত আমাদের কোন ব্যবস্থাই নাই।

হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।