হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – তৃতীয় পর্ব

হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – ২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তারা ভেবেছিল অত্যন্ত জালিম প্রজাদের সবকিছু খেয়ে তাদেরকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। তারা ভেবেছিল যে, বাদশাহর মৃত্যুর পর এ অত্যাচারের অবসান হবে। এখন যখন তারা দেখল বাদশাহের পুত্র পুনঃজীবন লাভ করেছে। জুলুম বন্ধ হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তা দূরীভূত হয়েছে। কাজেই এখন তো জুলুম আরও অধিক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই তারা নবজীবিত রাজপুত্রকে হত্যার জন্য অস্ত্র শস্ত্রসহ আক্রমণ করে বসল। তারা জানতে পারল যে, হযরত ঈসা (আঃ) এর দোয়ার ফলে সে পুনরায় জীবন লাভ করেছে। তাই তারা হযরত ঈসা (আঃ) কেও হত্যার পরিকল্পনা করল।

তখন তিনি এ এলাকা পরিত্যাগ করে আবার বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে রওয়ানা হলেন। পথে একদল ইহুদীর সাথে তাদের সাক্ষাত হল। তারা হযরত ঈসা (আঃ) কে দেখতে পেয়ে তাঁকে ও তাঁর মাতাকে গালি দিল। তিনি তাদের জন্য বদদোয়া করলে ইহুদী দলের প্রত্যেকে শুকর হয়ে গেল। অন্যান্য ইহুদীদের ঘটনার সংবাদ পৌঁছালে তারা হযরত ঈসা (আঃ) কে হত্যা করবার জন্য একমত হল। কিন্তু তারা খুব ভয় করছিল যে, যদি তাকে হত্যা করা হয় তা হলে বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকার শাসক এর বিচার করে কিনা? কেননা, তখন সেখানে ইহুদীদের শাসন কায়েম ছিল না। বরং প্রতিমা উপাসকদের শাসন কায়েম ছিল। ইহুদীরা সর্বদাই প্রতিমা পূজকদের শাসনকে ঘৃণা করে এর বিরোধিতা করে আসছিল। আজ দেশের শাসনকর্তা ইহুদীদের বিচার করার কোন সুযোগ পেলে অবশ্যই হাতছাড়া করবে না।

তাই তারা মুর্তিউপাসক রাজা পিলাতীসকে স্বপক্ষে আনার পরিকল্পনা করল। দলবদ্ধ হয়ে পিলাতীসের দরবারে উপনীত হল। হযরত ঈসা (আঃ)-এর বিরোধিতার জন্য মূর্তি উপাসক মুশরিক রাজার আনুগত্য স্বীকার করে নিতে কুণ্ঠাবোধ করল না। তারা রাজা পিলাতীসের দরবারে হাজির হয়ে বলল-জাঁহাপানা। এ ব্যক্তি ধীরে ধীরে এমন একটি দল গড়ে নিচ্ছে যা সমূহ ক্ষতির সম্মুখিন হবেন। সে আশ্চর্যজনম বিষয়সমূহ দেখিয়ে জনসাধারণের মনজয় করে চলেছে। এভাবে সে যে কেবল দেশবাসীকে পার্থিব দিক থেকেই পথভ্রষ্ট করছে তা নয় বরং আমাদের দ্বীনকেও পরিবর্তন করে ফেলেছে। জনসাধারণকে বে-দ্বীন বানিয়ে ফেলছে। সুতরাং এখনই যদি তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন তবে শীঘ্রই চরম আকার ধারণ করবে। সুতরাং দেশের বাদশাহ হিসেবে এ আপনারই দায়িত্ব।

হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – ২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।