হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – দ্বিতীয় পর্ব

হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত মারইয়াম বলেন- তোমার স্বামীকে বল সে যেন এ বিষয়ে কোন চিন্তা না করে। আমি আমার ছেলেকে বলব সে যেন আল্লাহর দরবারে তোমাদের জন্য দোয়া করে। আল্লাহ তোমাদের অভাব দূর করে দেবেন। জালেম বাদশাহের জুলুম হতে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন। অতঃপর তিনি হযরত ঈসা (আঃ) এর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতে বলেন। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন- আমি যদি এ কাজ করি তবে পরিণাম ভাল হবে বলে আমার মনে হয় না। হযরত মরিয়ম বলেন, এর পরওয়া করও না। তারা যেহেতু আমাদের উপকার করেছে। সুতরাং তাদের জন্য তো দোয়া করতেই হয়। অগত্যা মায়ের কথায় হযরত ঈসা (আঃ) রাজী হলেন এবং বলেন যে, আহারের সময় হলে হাড়ীতে ও মদের মটকাতে পানি রেখে আমাকে সংবাদ দিবেন। এ ব্যক্তি তাঁর নির্দেশ অনুসারে মটকাতে ও মদের হাড়িতে পানি রেখে আমাকে সংবাদ দিবেন। এ ব্যক্তি তাঁর নির্দেশ অনুসারে মটকাতে ও মদের হাড়িতে পানি ভরে হযরত ঈসা (আঃ) কে সংবাদ দিল। হযরত ঈসা (আঃ) দোয়া করলেন। হাড়ির পানি গোশত ও ঝোলে পরিণত হল। মটকার পানি পরিণত হল মদে অনন্তর সে ব্যক্তি হাড়ি ভর্তি খাদ্য ও মটকা ভর্তি মদ নিয়ে বাদশাহের দরবারে উপস্থিত হল। বাদশাহ ও তার সেনাদল আহারের পর মদ্য পান করল। কিন্তু আজকের মদ ভিন্ন এক ধরনের মদ। বাদশাহ জীবনে না কখনও এমন মদ পান করেছে। আর না এমন মদের কথা কখনও শুনেছে।

বাদশাহ জিজ্ঞেস করল, এ মদ তুমি কোথা থেকে এনেছ? লোকটি কোন এক এলাকার নাম উল্লেখ করে বলল যে, অমুক এলাকা হতে এনেছি। বাদশাহ বলল, এ এলাকার মদ তো এমন নয়। তখন সে ব্যক্তি অন্য এক এলাকার নাম বলল যে অমুক এলাকা থেকে এনেছি। বাদশাহ বলল, এ এলাকার মদ তো এমন নয়। অতঃপর লোকটি অন্য একটি এলাকার নাম বলল। এতে বাদশাহের সন্দেহ হল। বাদশাহ তাকে বার বার এ মদের সত্যিকার পরিচয়ের জন্য চাপ দিতেছিল। চাপের মুখে লোকটি সত্য কথা বলতে বাধ্য হল। সে বলল, আমার কাছে এক যুবক রয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে যা চান আল্লাহ তাঁকে তাই দান করেন। তিনি আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার দোয়ার ফলেই আল্লাহ পানি মদে পরিণত করেছেন। এ বাদশাহের একটি পুত্র ছিল। সে বাদশাহর খুব প্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর পর পুত্রকে স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তার সে প্রিয় পুত্র মারা যায়। বাদশাহ মনে মনে ভাবল যে, এ যুবকের দোয়ায় যখন পানি মদে পরিণত হয়েছে তখন তার দোয়ায় তার পুত্রের পুনর্জীবন লাভ করাও সম্ভব হবে। তাই সে হযরত ঈসা (আঃ) কে তার দরবারে ডেকে এনে তার সাথে তার পুত্রের পুনর্জীবন সম্পর্কে কথাবার্তা বলল। হযরত ঈসা (আঃ) বাদশাহের কথা শুনে বলেন, আপনি এ চিন্তা পরিত্যাগ করুন কেননা, এতে দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। বাদশাহ তাঁর কথায় কান না দিয়ে বলল যে, আমি এর পরোয়া করি না। কোন অসুবিধা যদি হয়, তবে আমি তা সামলিয়ে নিতে পারব।

বাদশাহের পুনঃপুন অনুরোধ প্রত্যাক্ষান করা সম্ভব হল না। তিনি বুঝতে পারলেন যে, দোয়া তাঁকে করতেই হবে। তাই তিনি এক শর্ত আরোপ করলেন। যে যদি আমার দোয়ার ফলে আপনার পুত্র পুনঃ জীবন লাভ করে তা হলে আমাকে ও আমার মাতাকে যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে বাধা দিতে পারবেন না। বাদশাহ এ শর্ত মেনে নিল। অনন্তর হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন। রাজপুত্র পুণরায় জীবন লাভ করল। দেশের প্রজারা যখন দেখল যে, বাদশাহের পুত্র জীবন লাভ করেছে তখন তাদের টনক নড়ল। কেননা, বাদশাহ ছিল অত্যন্ত জালিম সে প্রজাদের সবকিছু খেয়ে তাদেরকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে।

হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।