হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – শেষ পর্ব

coSam ১২৪


হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইয়াজুজ মাজুজ সামনের দিকে চলতে থাকবে। অবশেষে বায়তুল মুকাদ্দাসের কাছে জাবালুল খমর নামক এক পাহাড়ের কাছে এসে পৌছাবে। পথিমধ্যে যাদেরকে পাবে হত্যা করতে থাকবে। এ পাহাড়ের কাছে এসে বলবে যে, ভূপৃষ্ঠের উপর বসবাসকারী সমস্ত মানুষকে আমরা হত্যা করে ফেলেছি। এখন রয়েছে আকাশ অধিবাসীরা। এ বলে তারা আসমানের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের তীরে রক্ত মেখে ভূপৃষ্ঠের দিকে ফেরত পাঠাবেন। তাদের ধারণা হবে যে, তারা আকাশের অধিবাসীদেরকেও হত্যা করেছে।

এদিকে হযরত ঈসা আঃ ও তাঁর অনুসারীরা তুর পর্বতে আবদ্ধ হয়ে রয়েছেন। পর্বতের উপর তাদের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে তাদের কাছে মওজুদ খাদ্য সম্ভার সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে এমন খাদ্যাভাব দেখা দিবে যে গরুর একটি মাথার মূল্য একশত দীনার পর্যন্ত হয়ে যাবে। উপায়ন্তর না দেখে হযরত ঈসা আঃ স্বীয় সাথীবর্গ নিয়ে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাদের দোয়া কবূল করবেন এবং ইয়াজুজ মাজুজের প্রতি আযাব পাঠাবেন।

তাদের গর্দানের উপর এক প্রকার পোকার আবির্ভাব হবে। পোকার কামড়ে তারা সকলে এক রাতে মৃত্যুবরণ করবে। অনন্তর হযরত ঈসা আঃ ও তাঁর অনুসারী পর্বত থেকে নিচে নেমে আসবেন। তারা নিচে নেমে দেখবেন যে, যমীন ইয়াজুজ মাজুজের মৃতদেহে পরিপূর্ণ। কোথাও পা ফেলবার স্থানটুকু পর্যন্ত নেই। তাদের মৃত দেহ পঁচে গলে গিয়ে চতুর্দিকে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে পেট ফুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হযরত ঈসা আঃ ও তাঁর অনুসারীরা আবার আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। আল্লাহ আরবী বড় বড় উটের ন্যায় পাখি পাঠাবেন।

পাখিরা তাদের ঠোঁট ও পায়ের মাধ্যমে মৃত দেহসমূহ উঠিয়ে নাবহাল নামক স্থানে নিক্ষেপ করবে। লাশ সরিয়ে ফেলার পর হযরত ঈসা আঃ ও তাঁর অনুসারীরা ইয়াজুজ মাজুজের তীরধনুক প্রভৃতি মাটিতে পড়া অবস্থায় দেখতে পাবেন। তারা এগুলো কুড়িয়ে নিবেন। ফলে তাদের কাছে এত অধিক লাকড়ী জমা হয়ে যাবে যে, তারা সাত বছর পর্যন্ত রান্না বান্না করতে পারবে।

অনন্তর আল্লাহ বৃষ্টি পাঠাবেন। সারা দেশে বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির পানিতে সমস্ত যমীন ধৌত হয়ে আয়নার মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। সারা দুনিয়া দুর্গন্ধমুক্ত হয়ে যাবে। যমীনকে লক্ষ্য করে বলা হবে- হে যমীন তুমি ফল উদগত কর। আবার তোমার বরকত প্রদর্শন কর। তখন শস্য কণা ও ফলে ফুলে এত বরক্ত হবে যে, একদল লোক একটি ডালিম খেয়ে তৃপ্তি লাভ করবে।

প্রতিটি ফল এত বড় আকারের হবে যে, ফলটি খাওয়ার পর এর অতিরিক্ত নিক্ষিপ্ত বাকলের নিচের ছায়ায় লোকজন বসে আরাম লাভ করতে পারবে। তখনকার গৃহপালিত পশুর দুধে এত বরকত হবে যে, মাত্র একটি গরুর দুধ এক সম্প্রদায়ের লোক পান করে তৃপ্তি লাভ করবে।

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
এনতাকিয়া শহরে তাবলীগ – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২

ক্যাটেগরী