হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২

coSam ১৩৮


হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তখন আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে। আর সাথে সাথে যমীন হতে গাছপালা উদগত হবে। এ সম্প্রদায়ের গৃহপালিত পশুরা নব উদগত গাছপালা খেয়ে রিষ্ট পুষ্ট হয়ে যাবে। আর এদের স্তন সমূহ দুধে পরিপূর্ণ হবে। এভাবে অন্য এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে আহ্বান জানাবে তাকে খোদা বলে বিশ্বাস করবে। কিন্তু এ সম্প্রদায়ের লোকেরা তার উপর ঈমান আনবে না এবং তাকে খোদা বলে মেনে নিবে না।

দজ্জাল তাদের থেকে ফিরে যাবে। সম্প্রদায়ের লোকেরা পরদিন সকালে ঘুম থেকে দেখবে তদের গৃহে কোন প্রকার মাল সম্পদ নেই সব গৃহ একেবারে শূন্য। তাদের এলাকা সম্পূর্ণরূপে উজাড় হয়ে যাবে। দজ্জাল পুনরায় তাদের কাছে আসবে। সে উজাড় ভূমির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বলবে, - হে যমীন! তোমার নীচে গচ্ছিত সম্পদ বের হয়ে তার পিছু পিছু চলতে থাকবে।

এমতাবস্থায় সে এ সম্প্রদায়ের এক যুবককে ডেকে এনে তলোয়ার দ্বারা তাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলবে। কোন স্থান হতে তীর নিক্ষেপ করলে সাধারণভাবে তীর যতটুকু পথ অতিক্রম করে দজ্জাল এ যুবকের খন্ডিত দেহের টুওরা দুটিও ততদূর নিক্ষেপ করবে।

অতঃপর দজ্জাল যুবকের খন্ডিত দেহের টুকরাদ্বয়কে ডাক দিবে। টুকরাদ্বয় এসে একত্রে মিলিত হলে যুবক পুনরায় জীবন লাভ করবে। সে তখন হাসতে থাকবে। দজ্জাল যখন এসব কান্ড করতে থাকবে তখন আল্লাহ হযরত ঈসা আঃ কে পাঠাবেন। হযরত ঈসা আঃ দামেষ্কের মসজিদের পূর্ব পার্শ্বের সাদা মিনারের কাছে অবতরণ করবেন। যাফরান দ্বারা রঞ্জিত পোষাক পরিহিত অবস্থায় দুজন ফেরেশতার ডানায় ভর দেয়া অবস্থায় নেমে আসবেন।

তিনি যখন মস্তক নিচু করবেন তখন ঘর্মাক্ত হয়ে পড়বেন। আবার যখন মস্তক উপরের দিকে তুলবেন তখন মনিমুক্তার ন্যায় রৌপ্য সদৃশ বস্তু তার মুখমন্ডল হতে ঝরে পড়বে। কোন কাফেরের গায়ে তার শ্বাস পড়ামাত্র কাফের মরে যাবে। চোখের দৃষ্টি যত দূর যাবে তার শ্বাসের প্রভাবও ততদূর যাবে। তিনি আবির্ভূত হয়ে দজ্জালের খোঁজে বেরিয়ে পড়বেন। অবশেষে সিরিয়ায় অবস্থিত লুদ পর্বতের নিকটবর্তী এক স্থানে তাকে পাবেন এবং সেখানে তাকে হত্যা করবেন।

এমতাবস্থায় কোন এক সম্প্রদায়ের লোকজন হযরত ঈসা আঃ এর সাথে স্বাক্ষাত করতে আসবে। আল্লাহ তাদেরকে দজ্জালের হাত হতে নিষ্কৃতি দান করবেন। তারা দজ্জালের হাত হতে নিষ্কৃতির জন্য পেরেশান ছিল। তিনি তাদের মুখমন্ডলের ধূলাবালি হাত দিয়ে পরিষ্কার করতে থাকবেন আর বেহেশতে তাদের কি মর্যাদা হবে বলতে থাকবেন। তখন তাঁর উপর ওহী নাযিল হবে যে, হে ঈসা! আমার এমন কতগুলো বান্দা আগমন করছে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। সুতরাং আপনি আমার বান্দাহদেরকে নিয়ে তুরপাহাড়ে চলে যান যাতে তারা এ দুর্ধর্ষ লোকদের হাত হতে নিরাপদ থাকতে পারে। আল্লাহর এ বান্দাহরা হল, ইয়াজুজ মাজুজ।

আল্লাহ পাক ইয়াজুজ মাজুজের সম্মুখ হতে এত দিনের সুরক্ষিত প্রাচীরে প্রতিবন্ধক দূর করে দিবেন। তারা দলে দলে দৌড়ে বেরিয়ে আসবে। তাদের প্রথম দলটি এতবড় হবে যে, তারা তাবরিয়া নামক একটি উপসাগরের পার্শ্ব দিয়া অতিক্রম করার সময় পিপাসা দূর করবার জন্য তা থেকে পানি পান করতে করতে উপসাগরের সমস্ত পানি পান করে ফেলবে। ফলে সাগরটি শুষ্ক হয়ে যাবে। অপর দলটি এখানে উপস্থিত হয়ে পরষ্পর পরষ্পরকে বলতে থাকবে যে, হয়তবা এখানে কোন দিন পানি ছিল।

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ১

ক্যাটেগরী