হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ১

coSam ১৮১


হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইহুদীদের ধারণা তারা হযরত ঈসা (আঃ)- কে শূল বিদ্ধ করে হত্যা করেছে। তদের এ মিথ্যা ধারণা খন্ডন করে, আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন-

তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। আর আল্লাহ কৌশল করে তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্রের প্রভাব হতে দূরে রেখেছেন। ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে ইহুদী হযরত ঈসা আঃ কে হত্যা করবার জন্য তাঁর ঘরে প্রবেশ করেছিল। আল্লাহ পাক ইহুদীদের হাতেই প্রেরিত ইহুদী ব্যক্তিকে চরমভাবে হত্যা করেছেন। আর তাকে আকাশে তুলে নিয়েছেন। খ্রীষ্টানরা মনে করে হযরত ঈসা (আঃ) কে গুলী বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পুনঃ জীবন দান করে তাঁকে আকাশে তুলে নেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাদের এ ভ্রান্ত ধারণাকে খন্ডন করে আল্লাহ পাক বলেন-

- তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলবিদ্ধও করেনি। তবে তাদেরকে সন্দেহে পতিত করা হয়েছিল।

এ আয়াতাংশ দ্বারা প্রমাণিত হল যে, নাসারাদের ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক অসত্য ও ভিত্তিহীন। পক্ষান্তরে মুসলমানদের ঈমান হল যে, আল্লাহ হযরত ঈসা আঃ কে জীবিত অবস্থায় সশরীরে আসমানে তুলে নিয়েছেন। এমন তিনি দ্বিতীয় আসমানে অবস্থান করছেন।

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ হতে বর্ণিত আছে যে, মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন হযরত জিবরাঈল আঃ এর সাথে আসমান সমূহ একের পর এক অতিক্রম করে করে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যে গমণ করছিলেন – এমতাবস্থায় যখন দ্বিতীয় আসমানে উপনীত হন তখন সেখানে হযরত ইয়াহইয়া আঃ ও হযরত ঈসা আঃ কে দেখতে পেলেন। তাঁর সাথে তাঁদের উপয়ের সালাম কালাম হয়। কিয়ামতের কিছুকাল পূর্বে হযরত ঈসা আঃ পুনরায় দুনিয়াতে অবতরণ করবেন।

হযরত নাওয়াস বিন সেমআন রাঃ হতে বর্ণিত আছে যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাঃ দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি আফসোস করে বলেন যে, দজ্জালের আবির্ভাবের সময় যদি আমি তোমাদের মধ্যে থাকতাম তবে তোমাদের পক্ষ হতে আমিই তাকে প্রতিরোধ করতাম। কিন্তু তার আবির্ভাবকালে আমি তোমাদের মাঝে থাকব না। তদুপরি আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমানকে সাহায্য করবেন।

তিনি বলেন, দজ্জাল বয়সে যুবক হবে। তার মাথায় কুকড়ান চুল এবং চোখ দুটি এমন হবে যে উপরে উঠান দুটি গোশতের টুকরা। তার দেহ আবদুল ওযযা বিন কাতানোর সদৃশ হবে। সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থানে কোন এক রাস্তায় আত্ন প্রকাশ করবে। রাস্তার উভয় পার্শ্বে ফিতনা ফাসাদের সৃষ্টি করবে। এভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সামনে অগ্রসর হবে। তার ফিতনা সৃষ্টির প্রথম দিন এক বছরের ন্যায় দ্বিতীয় দিন একমাসের ন্যায় তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের ন্যায় আর অন্যান্য দিন সমূহ সাধারণ দিবসের ন্যায় হবে।

উপস্থিত সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন- হে আল্লাহর রাসূল। দাজ্জালের গতিবেগ কেমন হবে? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, আকাশের ধাবমান মেঘখন্ডের ন্যায়। মেঘখন্ড দ্রুত ধাবিত হলে যেমন তার পিছনে প্রবল বেগে বায়ুও প্রবাহমান বলে মনে হয়। দজ্জালের গতির দ্রুততাও তদ্রুপ হবে যে, তার পিছনে বাতাস প্রবাহমান বলে মনে হবে।

এভাবে সে কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে তাদেরকে তার প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানাবে। তারা তার প্রতি ঈমান আনবে। সে তখন আকাশের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিবে।

হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ঈসা (আঃ) কে আকাশে তুলে নিয়েছেন – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ঈসা (আঃ)-কে জীবন্ত আকাশে উত্তোলন - শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী