হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৫ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৫

coSam ৮৭


হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিনি বললেন, যদি তুমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাক তবে তা একবার লক্ষণ যে, আল্লাহও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট আছেন। 

প্রশ্ন এমন কে আছে যে আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্ট  অথচ মারেফতের দাবী করে?

উত্তরঃ যে আল্লাহর নেয়ামতসমূহের প্রতি শিথিল তা প্রদর্শন কর তাঁর গজবে পতিত হয় সেই তো তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট।

প্রশ্নঃ রোজ কিয়ামতের মাঠে সবচেয়ে নির্ভীক কে হবে?

উত্তরঃ যে দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু,

প্রশ্নঃ মানুষ তাওয়াক্কুলের নিকটবর্তী কখন হয়।

উত্তরঃ যখন সে সব কাজে আল্লাহর প্রতি নির্ভর হতে পারে?

ধনী কে?

উত্তরঃ যে সব ছেড়ে শুধু আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে।

প্রশ্নঃ আরফে কে?

উত্তর যে নিজেকে ভুলে যায়।

সাধকত্ব কি?

আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার অন্য বস্তু থেকে মুখ ফিরিয়ে দেওয়া।  তিনি বলেন, হাশরের মাঠে

 কে ধনী কে গরীব তা ওজন কত করে দেখা হবে না।  অবশ্য ধৈর্য ও কৃজ্ঞতার ওজন হবে।  তাই গরিবের ধৈর্য অবলম্বন ও ধনীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা কর্তব্য।

প্রশ্নঃ ত্যাগে দৃঢ় কে?

উত্তরঃ ধর্মে যার আস্থা অধিক।

প্রশ্ন প্রেমের লক্ষণ কি?

উত্তরঃ পূন্য কর্মে খুব বেশী আগ্রহ প্রদর্শন ও দুনিয়ার ক্ষতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা হযরত ইয়াহইয়া (রঃ)-এর প্রার্থনা মর্মমূল কাঁপিয়ে দেয়।  তিনি প্রার্থনা করতেন-দয়াময়,

পুণ্য কর্মের প্রতিদানের বদলে আমি আপনার ক্ষমাই বেশী চাই।  কেননা, আমি আমার উপাসনা ও আপনার সন্তুষ্টি কোন ভরসাই করতে পারি না এই কারণে যে, আমি নানা বিপর্যের ব্যতি-ব্যস্ত।  কী করে আমি আপনার এবাদত ইখলাসের সঙ্গে আদায় করব? অবশ্য আমি আমার পাপরাশির জন্য আপনার ক্ষমতালাভের দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করি।  আর তা কেনই বা লাভ করব না, যখন আপনি পরম কৃপাময় ও করুণাময়।

হে প্রভু! আপনি আমার প্রিয় হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত হারুন (আঃ)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছেলনে।  তখন তাঁর সঙ্গে শান্ত হয়ে কমল কথা বলতে বলেছিলেন।  হে প্রভু! আল্লাহ বলে যে দাবী করল।  এমন পাষন্ডের প্রতি আপনার যখন এতখানি দয়া, তখন যেব্যক্তি মনে-প্রাণে আপনার ধ্যান ও এবাদত করে, না জানিয়ে তাঁর প্রতি আপনার কতই না দেয়।

প্রভু গো! যে ফেরাউনের বলেছিল, আমিই তোমাদের প্রধান আল্লাহ, তাঁর মতো পাপীর প্রতি আপনার এ ধরনের কৃপাদৃষ্টি থাকলে জানি না, যে বলে, আমার মহাপ্রভু পবিত্র তাঁর প্রতি আপনার দয়া কতখানি হবে।

হে মাবুদ! ধন বলতে এই কম্বলখানা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই।  এও আমার অতি প্রয়োজনীয় বস্তু বটে, তবুও যদি অভাবী মানুষ সেটি নিতে আসে, আমি খুশী মনে তাঁকে তা দান করব। 

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৬ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৬

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৪

ক্যাটেগরী