হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৩

coSam ৯১


হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ২  পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একদিন পবিত্র কোরআন পাঠকালে, তিনি যখন এই আয়াতে পৌঁছালেন আমরা নিখিল বিশ্বের  প্রতিপালকের প্রতি ঈমান গ্রহণ করলাম।  তখন তিনি বলে উঠলেন, আহা! এক মুহূর্তের ঈমান যদি যুগযুগান্তর কুফরী দুর করতে পারে।  তাহলে আমার সত্তর বছরের ঈমান সত্তর বছরের পাপরাশিকে নষ্ট করে দিতে পারবে না কেন?

একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, আল্লাহ যদি আমার হতে জাহান্নামে কর্তৃত্বভার দিতেন, তাহলে আমি কোন প্রেমিককে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করতাম না।   কেননা, সে তো প্রতি মুহূর্তে প্রেমের আগুনে জ্বলে পূড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়।  এক ব্যক্তি বলল, যে যদি পাপে লিপ্ত হয় তবুও?

তিনি বললেন, তবুও তাঁকে আগুনে ছুড়ে দেওয়া হবে না।  কেননা, আল্লাহ প্রেমিক কখনও স্বেছায় পাপ কাজ করবে না।  সেগুলো অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়ে থাকে।  তিনি আরও বলেন, যারা আল্লাহর আলো পায়, দুনিয়ার সব প্রাণীর চোখই তাঁর দ্বারা আলোকিত হয়।

তিনি বললেন, রোজ কিয়ামতে আল্লাহ যখন আমাকে প্রশ্ন করবেন, তুমি কি চাও? তখন আমি বলব, আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে অন্য জাহান্নামীদের জন্য জাহান্নামকে একটু ঠাণ্ডা করে দিন।  যেমন আপনারই ঘোষনা রয়েছে যে, মুমিনন্দের নূরের জ্যোতি জাহান্নামের অগ্নি-শিখাকে নিস্তেজ করে দেয়।

তাঁর অমূল্য উপদেশ বাণী সমূহঃ

(১) অবশই রোজ কিয়ামতে আরেফদের আল্লাহর দীদার লাভ হবে।

(২) তোমরা যেন আল্লাহ কে ভয় কর, সৃষ্টিজগতও তেমনি তোমাদের ভয় করে।  তুমি নিজেকে যেমন আল্লাহর সেবায় বিলিয়ে দাও, তেমনি অন্য সবাই তোমার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে।

(৩) এবাদতের সময় যে আল্লাহর লজ্জাবনত অবস্থায় দাঁড়ায়, আল্লাহও তেমনি তাঁকে জাহান্নামে ফেলতে লজ্জাবোধ করবেন।

(৪) আল্লাহর প্রতি সুন্দর ধারণা রাখা মানুষের যেকন ধারণা থেকে উত্তম।  তেমন ধারণা সৃষ্টি হয় পুণ্য কর্মের মাধ্যমে।

(৫) সেই সর্বাধিক ক্ষতি-গ্রস্ত, বৃথা ও মন্দ কাজে যার সময় ব্যয় হয়, এবং যে নিজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।  এঁরা মরবে।  কিন্তু পাপ থেকে বিরত হওয়ার সুযোগ পাবে না। 

(৬) দুনিয়াতে অসংখ্য উপদেশ আছে।  কিন্তু যে উপদেশ গ্রহণ করে না তাঁর জন্য একটিও নেই। 

(৭) তিন ধরনের লোক থেকে নিজেকে রক্ষা করা চাইঃ

(১) উদাসীন আলেম, (২) অলস ও (৩) পথ- ভ্রষ্ট দরবেশ।

(৮) তাপসগণের তিনটি গুণ যথাঃ (১) সর্ববিষয়ে আল্লাহ নির্ভরতা (২) যেকোন ব্যক্তি বা বস্তুর মুখাপেক্ষী না হওয়া ও (৩) সব কিছুকেই আল্লাহর তরফ থেকে বলে মনে করা।

(৯) মৃত্যুকে বস্থাবন্দী করে যদি প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হত, তাহলে পরকালে প্রার্থীদের পক্ষে এই বস্তু ছাড়া আর কিছু কেনা সঙ্গত হত না।

(১০) বিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনটি কাজ করা দরকার।  যেমন (১) মনের মধ্যে দ্বেষ- বিদ্বেষ না রেখে উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমীর ও বড়লোকদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করা (২) নিস্কাম অন্তরে নারীদের কৃপার চোখে দেখা।  (৩)  অহমিকা-শুণ্য অবস্থায় সবিনয়ে দরবেশের সঙ্গে সাক্ষাত করা।

(১১) যে গোপনে আল্লাহর আমানত নষ্ট করে, আল্লাহ প্রকাশ্যে তাঁর পর্দা তুলে দেন। 

(১২) যে আল্লাহর হক আদায় করে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করেন।

(১৩) যার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে, ধন-সম্পদ লাভ করা আল্লাহর হাতে, সে চিরধণী।  আর যে মনে করে জ্ঞান, বুদ্ধি, সামার্থ্য ও উপার্জন দ্বারা ধনী হওয়া যায়, সে চির দরিদ্র।

(১৪) আল্লাহা এত পবিত্র ও রুচিশীল যে, তাঁর দাস পাপে লিপ্ত হয়, আর তিনি তা দেখে লজ্জা পান।

(১৫) যে আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, সে শয়তানের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৪

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ২

ক্যাটেগরী