হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ২

coSam ৯০


হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সে তিনটি বাসনা, হল (১) আমি যেন একটি পুণ্যস্থানে বসবাস করতে পারি। ২) আল্লাহ যেন আমাকে একজন উত্তম সেবক দেন, যে  আমাকে ঠিক মতো ওযুর পানি যোগাড় করে দেবে আমার আশাও পূর্ণ হয়েছে, (৩) আমার তৃতীয় কামনাটি এই যে, মৃত্যুর পূর্বে একবার যেন তোমার সঙ্গে আমার সেখা হয়, আশা করছি, আল্লাহ এটিও অপূর্ণ রাখবেন না।

চিটি পেয়ে হযরত ইয়াহইয়া (রঃ) উত্তর দিলেন, ভাই! তোমার চিঠি পেয়েছি।  জবাবে আমি যা লিখলাম, মনোযোগ দিয়ে পড়ো আর সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করো।  তুমি লিখেছ, পবিত্র স্থানে বাস করার আশা করেছি, সে আশা পূর্ণ হয়েছে।  মনে হয় তুমি ধন্য হয়েছ।  কিন্তু শোন, তোমার নিজের পুন্যবান হওয়া চাই।  কেননা, নিজে পুন্যবান না হয়ে পুণ্যস্থানে বাস করলে তাতে কোন লাভ নেই।  পূন্যস্থান তাঁর অধিবাসীকে কখন পুন্য করে না বরং পুণ্যবান মানুষের দ্বারা পবিত্র স্থানগুলো পবিত্র হয়ে থাক।  তুমি লিখেছ, তোমার দ্বিতীয় আকাঙ্ক্ষা ছিল, একটি উত্তম সেবল লাভের, তাও তুমি পেয়েছ।  সে ব্যাপারে তোমার জানা উচিৎ, যদি তোমার সূক্ষ্ম কান থাকত, তাহলে তুমি আল্লাহর এক বান্দাকে তোমার সেবক পরিণত করে আল্লাহর এবাদত থেকে তাকে  বঞ্চিত করে তোমার হুকুম তামিলে নিয়োগ করতেন না।  আসলে এরুপ মনিব হওয়া অপেক্ষা তোমারই গোলাম হওয়া উচিৎ ছিল। 

কেননা, মালিকানার ব্যাপারটি আল্লাহর নিজস্ব; আর দাসত্ব মানুষের ব্যাপারে আর এ কথাও ঠিক যে, দাসের দাসত্ব করাই শোভনীয়তা না করে যদি আল্লাহর নিজস্ব বস্তুর আশা করা হয়, তবে তাঁকে ফেরাউনের আশার তুল্য বলা যেতে পারে।  

তুমি তোমার তৃতীয় অভিলাষের কথা লিখেছ, আমার সহিত সাক্ষাৎ করা এ বিষয়ে দুটি কথা   শোন।  তুমি যদি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দিকে দৃষ্টিপাত করতে, তাহলে আমি তো তোমার খেয়ালেই আসতাম না।  তোমাকে বলছি, তুমি মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তোমার ভাই- বোনের কথা স্মরণ না হয়।  তুমি না জান এমন নয়, যেখানে নিজের প্রাণধিক প্রিয় পুত্র কোরবানি করা হয়, সেখানে ভাইয়ের কথা তো ওঠতেই পারে না।  যদি তুমি আল্লাহকে লাভ করে থাকে, তবে আমার দ্বারা আর কি প্রয়োজন? তিনি তাঁর এক বন্ধুকেও এই মর্মে চিঠি দেন যে, মনে রেখো, এ পৃথিবী স্বপ্ন-সদৃশ।  আর পরকাল জাগ্রতের মতো।  যেব্যক্তি স্বপ্ন দেখবে সে তো রোদন করবে, তাঁর অর্থ হল, সে জাগ্রত অবস্থায় হাসবে ও খুশি হবে।  কাজেই তোমার স্বপ্ন জগতে বেশী ক্রন্দন করা চাই।  তাহলেই বাস্তবে জীবনে বেশী করে হাসবে ও সন্তুষ্ট হতে পারবে।  অর্থাৎ স্বপ্ন জগতে তথা দুনিয়ার যারা বেশী হাসবে, বাস্তবে জগতে তথা পরকালে বেশী কাঁদবে।

একবার তিনি তাঁর ভাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর গ্রামে বেড়াতে যান।  সে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য্যের দিকে দৃষ্টিপাত না করে স্বীয় অন্তর জগতের দিকে দেখ।  একটি প্রদীপ নিভাতে দেখে তিনি স-খেদে বলে উঠেন, অলসতা ও পাপের কারণে যেন তাঁর একত্ববাদী বিশ্বের জ্যোতি এভাবে হঠাৎ নিভে না যায়।  এক ব্যক্তি বলেন, মৃত্যু এ জগত সংসারের মূল্য একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে।  তিনি বলেন, না তা নয়।  বরং মৃত্যু এমন একটি পুল, যা পেরিয়েই বন্ধু বন্ধুর কাছে উপনীত হয়। 

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী