হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ২

coSam ১৪৫


হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব  ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

একবার এক লোক উঁচু জায়গায় বসে ওযু বানাচ্ছে। এমন সময় এলেন ইমাম আহমদ (রঃ)। তিনি এক নিচু জায়গায় বসে ওযু করতে শুরু করলেন। লোকটিও তখন নিচে নেমে এসে ওযু সম্পন্ন করল। এই লোকটির মৃত্যুর পর অন্য একজন তাকে স্বপ্নে দেখে। সে বলে, সেদিন ইমাম সাহেবের তাযীমের প্রতি সে লক্ষ্য করেছিল বলে আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দেন।

হযরত একদিন এক বনে পথ হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ এক বেদুঈনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তার কাছে রাস্তা জানতে চাইলে সে আপন মনে বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকে। তারপর কাঁদতে শুরু করে। ইমাম আহমাদ (রঃ)-এর মনে হয়, বেদুঈন বুঝি ক্ষুধার্ত। তাই তিনি তাকে কিছু খাবার দিতে চাইলেন। তাতে সে বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি কি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল নন? আপনি যে আমাকে আল্লাহর বদলে খাবার দিতে চাইছেন? অথচ আপনি নিজেই এক পথাহারা পথিক।

হযরত আহমদ (রঃ) বুঝলেন্ম আল্লাহ তাঁর পুণ্যবান প্রিয় দাসদের এভাবে এখানে সেখানে লুকিয়ে রাখেন। আর তাঁর মনের এই একান্ত গোপন কথাটাও বেদুঈন ধরে ফেলল। বলল, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অবস্থা এরূপ যে, তাঁরা যদি আল্লাহর কাছে সমগ্র জমিনকে স্বর্ণে পরিণত করে দেওয়ার জন্য বলেন, তবে তাই হয়ে যায়।

তাঁর এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে হযরত ইমাম আহমদ (রঃ) যখন চোখে তুলে তাকালেন তখন দেখলেন, সারা প্রান্তর স্বর্ণময় হয়ে উঠেছে। আর ঠিক এ সময় অদৃশ্য শব্দ ধ্বনিত হল- হে আমার অত্যন্ত প্রিয় বান্দা। এ যদি আমাকে বলে তবে তৎক্ষণাৎ সমগ্র সৃষ্টিকে এর পদানত করতে পারি। হে আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ)! এমন লোকের সঙ্গে তোমার দেখা হল বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

এরপর আর কখনও তুমি এর দেখা পাবে না।

ইমাম আহমদ (রঃ)-এর পুত্র এক বছর স্পেনে কাজী পদে নিযুক্ত ছিলেন। একদিন ইমাম আহমদ (রঃ)-এর বাবুর্চি পুত্রের আটার খামীরের সঙ্গে আরও কিছু আটা মিশিয়ে রুটি বানিয়ে তাঁকে খেতে দেয়। ইমাম সাহেবের কানে কথাটা কিভাবে চলে যায়। তিনি নিজে সে রুটি না খেয়ে তা গরীব-দুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দেবার জন্য খানসামাকে নির্দেশ দিলেন। আর এও বললেন, খানসামা সেন তাদের বলে দেয়, এ রুটি স্পেনের পূর্বতন কাজীর এবং ইমাম কেউই রুটি নিল না। অগত্যা তা ফেলে দেওয়া দজলা নদীতে। আর সেদিন থেকে ইমাম আহমদ (রঃ) দজলা নদীর মাছ খাওয়াই ছেড়ে দিলেন।

আগেই বলা হয়েছে, ধর্মাচরণে তিনি অত্যন্ত সজাগ থাকতেন। তিনি যদি দেখতেন কোন সুরমাদানী রূপার তৈরি, তাহলে তিনি আর তার ধারে কাছেও যেতেন না।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী