হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ১

coSam ১৬৩


ইসলামের ইতিহাসে মুতাজেলা সম্প্রদায়ের আবির্ভাব একটি বিশেষ ঘটনা। তেমনি আশআরিয়া সম্প্রদায়ের আন্দোলনও উল্লেখের দাবী রাখে। এ ব্যাপারে মুসলিম জগতে বহু মতভেদ আছে। যেমন- মুতাজেলা গোষ্ঠী বলেন, কোরআন আল্লাহর সৃষ্ট বস্তু। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে সহমত পোষণ করতেন না।   

এমন একজন সুপ্রসিদ্ধ আলেম হলেন হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ)। তিনি বলেন, কোরআন সৃষ্ট নয়। আর এই জন্য বাগদাদের শাসক তাঁকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। তাঁর ওপরে এক হাজার বার বেত্রাঘাত করা হয়। তাঁর পরনের পাজামা খুলে পড়ার উপক্রম হয়। কিন্তু আল্লাহ অলৌকিক দু’খানি হাত সৃষ্টি করে তাঁর ইজ্জত রক্ষা করেন। হাত দু’খানি পুনরায় তাঁর পাজামা পরিয়ে দিয়ে মিলিয়ে যায়। কিন্তু এত নিগ্রহ সহ্য করেও তিনি তাঁর বিশ্বাস ও মতবাদে অটল থাকেন।

কথিত আছে, তাঁকে যখন বন্দী করে আনা হয়, তখন দরবারের এক দারোয়ান তাঁকে একান্তে বলল, আপনার কোন ভয় নেই। আপনি আপনার মতে অবিচল থাকবেন। দারোয়ান আরও বলে, একবার চুরির দায়ে আমারও হাজার বেত্রদণ্ড হয়। তবুও আমি আমার অপরাধ স্বীকার করিনি। শেষ পর্যন্ত মিথ্যার ওপর অনড় হয়ে দাঁড়িয়েও আমি মুক্তিলাভ করি। কিন্তু আপনি তো দাঁড়িয়ে আছেন সত্যের ওপর। অতএব আল্লাহর রহমতে আপনার জয় সুনিশ্চিত। দারোয়ানটির কথা হযরত আহমদ (রঃ) আজীবন ভোলেন নি। কেননা, সত্যিই সেদিন তিনি মুক্তি লাভ করেছিলেন। অবশ্য একথা ঠিক, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঐ বেত্রাঘাতের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইসলামের ইতিহাসে এ ঘটনা বড়ই দুঃখজনক।

মৃত্যুকালে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, যারা আপনাকে এভাবে প্রাণপণ বাধ্য করল, তাদের সম্পর্ক আপনার অভিমত কি? তিনি জবাব দেন, তারা আমাকে গোমরাহ মনে করেই এরূপ করেছে। কাজেই রোজ কিয়ামতে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানাব না।

সুতরাং তাঁর বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেওয়া হল, তিনি তা থেকে মুক্ত ছিলেন। ধর্মনিষ্ঠার দিক দিয়ে তাঁর মর্যাদা যেমনি ছিল প্রশ্নাতীত, নির্যাতন হয়ে অকালে তেমনি ছিলেন অসাধারণ মেধার অধিকারী। আল্লাহর প্রতি আত্মনিবেদিত এই মানুষটি অকারণে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হন।

ধর্মাচরণে তিনি কতখানি সতর্ক ছিলেন তা একটি ঘটনার অনুমান করা হয়। তাঁর পুত্র একবার একটি হাদিস পাঠ করে হাত বাড়িয়ে তাঁর শ্রোতাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। হাদিস হল- আল্লাহ স্বয়ং হযরত আদম (আঃ)-এর দেহের মাটির খামীর করেছিলেন। হযরত আহমাদ (রঃ) তাঁর পুত্রকে বললেন, তুমি যখন এ হাদিসটির ব্যাখ্যা করবে, তখন কখনও ওভাবে হাত বাড়িয়ে তার অর্থ বোঝাবে না।

বাতের অসুখে ভুগছেন এক বৃদ্ধা। ওঠা-বসার ক্ষমতা নেই। তিনি তাঁর পুত্রকে পাঠালেন ইমাম আহমাদ (রঃ)-এর কাছে। তিনি যদি দোয়া করেন তাহলে আল্লাহ হয়তো তাঁকে রোগমুক্ত করবেন। পুত্র হযরতের দরবারে এসে মায়ের কথা নিবেদন করল। তিনি ওযু করে নামাজে নিমগ্ন হলেন। আর এ ফাঁকে তাঁর এক সেবক যুবকের কানে কানে বললেন, তুমি এখন চলে যেতে পারে। তোমার মাকে দোয়া করার জন্যেই তিনি নামাজে মশগুল হয়েছেন। তাঁর কথা শুনে যুবক বাড়িতে ফিরল। আর অবাক হয়ে দেখল, মা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব  ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী