হযরত ইমরান (রাঃ) এর আমীর হইতে অস্বীকার করা | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইমরান (রাঃ) এর আমীর হইতে অস্বীকার করা

coSam ২০৪


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সামেত (রাঃ) বলেন, যিয়াদ হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) কে খোরাসানের আমীর নিযুক্ত করিতে চাহিল। তিনি অস্বীকার করিলেন, তাহার সঙ্গীগণ বলিল, আপনি খোরাসানের মত এলাকার আমীর হওয়ার সুযোগ ছাড়িয়া দিলেন? তিনি বলিলেন, আল্লাহর কসম, আমার জন্য ইহা কোন আনন্দদায়ক বিষয় নয় যে, আমার জন্য ইহা খোরাসানের গরম দিক হইবে আর যিয়াদ ও তাহার সঙ্গীদের জন্য শীতল দিক হইবে। (অর্থাৎ আমি তো আমীর হইয়া সেখানে কষ্টক্লেশ সহ্য করিতে থাকিব আর যিয়াদ ও তাহার সঙ্গীরা সেখানকার আমদানী দ্বারা আমোদ প্রমোদ করিতে থাকিবে।)

আমার এই আশংকা হয় যে, আমি যখন শত্রুর মোকাবেলায় দাঁড়াইব তখন আমার নিকট যিয়াদের এমন কোন পত্র আসিবে যাহার উপর আমল করিলে আমি ধ্বংস হইয়া যাই, আর আমল না করিলে ( যিয়াদে পক্ষ হইতে) গর্দান উড়াইয়া দেওয়া। তারপর যিয়াদ হযরত হাকাম ইবনে আমর গিফারী (রাঃ) কে খোরাসানের আমীর হওয়ার জন্য বলিল। তিনি উহা গ্রহণ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত ইমরান (রাঃ) এই সংবাদ পাইয়া বলিলেন, কেহ আছে কি, যে হাকামকে আমার নিকট ডাকিয়া আনিবে?

হযরত ইমরান (রাঃ) এর পক্ষ হইতে লোক গেল হযরত হাকাম (রাঃ) তাহার নিকট আসিলেন। হযরত ইমরান (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই এরশাদ করিতে শুনিয়াছেন যে, আল্লাহ তায়ালার নাফরমানীর বিষয়ে এই এরশাদ করিতে শুনিয়াছেন যে, আল্লাহ তায়ালার নাফরমানীর বিষয়ে কাহাকেও মান্য করা যায়েয নাই? হযরত হাকাম ( রাঃ) বলিলে, হ্যাঁ। হযরত ইমরান (রাঃ) আলহামদুলিল্লাহ বলিয়া আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করিলেন, অথবা আল্লাহু আকবর বলিয়া খুশী প্রকাশ করিলেন

হযরত হাসান (রাঃ) এর রেওয়াতে এরুপ বর্ণিত হইয়াছে যে, যিয়াদ হযরত হাকাম গিফারী কে এক বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করিল। হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) তাহার নিকট আসিলেন এবং লোকজনের উপস্থিতিতে তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। তারপর বলিলে, আপানি জানেন, আমি আপনার নিকট কেন আসিয়াছি? হযরত হাকাম (রাঃ) বলিলেন, (আপনিই বলুন,) আপনি কেন আসিয়াছেন? হযরত ইমরান (রাঃ) বলিলেন, আপনার স্মরণ আছে কি যে, এক ব্যক্তিকে তাহার আমীর বলিয়াছিল, নিজেকে আগুনে নিক্ষেপ কর।

(সে উহার জন্য প্রস্তুত হইয়াছিল কিন্তু লোকেরা তাহাঁকে আগুনে ঝাপ দেওয়া হইতে বাধা দিল এবং ধরিয়া ফেলিল। পরবর্তীতে এই ঘটনা বলিয়াছিলেন, যদি এই ব্যক্তি আগুনে পড়িত তবে সে ও তাহাকে আদেশদাতা আমীর উভয়ের দোযখে যাইত। আল্লাহ তায়ালার নাফরমানীর বিষয়ে কাহাকেও মান্য করা জায়েয নাই। হযরত হাকাম (রাঃ) বলিলেন, স্মরণ আছে। হযরত ইমরান (রাঃ) বলিলেন, আমি শুধু আপনাকে এই হাদীস স্মরণ করাইয়া দেওয়ার ইচ্ছা করিয়াছি।

পরবর্তী গল্প
হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আবান (রাঃ) এর ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু বকর (রাঃ) এর হাদীস

ক্যাটেগরী