হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৫ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৫

coSam ১৭৬


হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইব্রাহীম (রঃ) বললেন, আমি তো বলছি, আমি অবাধ্য। এই বলে তিনি কিছুটা দূরে সরে গেলেন। তারপর নিজেকেই বলতে থাকেন, তুমি আশা করেছিলে যে, মক্কার দরবেশগণ তোমাকে স্বাগতম জানাবে। এবার যোগ্য শাস্তি পেলে তো। আল্লাহকে ধন্যবাদ, তুমি যেমনটি আশা করেছিলে তেমন ফলই পেলে।

পরে ঐ খাদেম অবশ্য তাঁকে চিনতে পেরে ক্ষমা চেয়ে নেন।

মকায় পৌঁছে তিনি স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস শুরু করেন। বহু লোক তাঁর কাছে দীক্ষা নেয়। জীবিকার জন্য তিনি বনে-জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন। কখনও কখনও শাক-সবজিও বিক্রি করতেন। রাখালের কাজও করতেন।

বলখ ছেড়ে আসার সময় তাঁর স্ত্রী ও এক শিশুপুত্র বর্তমান ছিল। বড় হয়ে ছেলেটি বাপের কথা জিজ্ঞেস করেন। মা তাঁকে সব কথা খুলে বলেন। তিনি যে এখন মক্কাবাসী তা-ও তাঁকে জানান। মায়ের অনুমতি নিয়ে পিতার সঙ্গে মিলিত হবার উদ্দেশ্যে চার হাজার হজ্জযাত্রীর যাবতীয় খরচ বহন করে, হজ্জযাত্রী ও জননীসহ তিনি একদিন এসে গেলেন মক্কায়। হরম জানালেন তিনিই তাঁদের দীক্ষাগুরু। এখন তিনি বনে গেছেন কাঠ কাটতে। সেগুলি বিক্রি করে আমাদের জন্য রুটি কিনবেন।

পিতার কথা শুনে পুত্র ছুটে যান বনের দিকে। দেখলেন একটা বুড়ো মানুষ এক বোঝা কাঠ নিয়ে বাজারে চলেছেন। তাকেই তাঁর পিতা ভেবে তিনি তাঁর পিছু লাগলেন। কান্নায় বুক ভেসে গেল তাঁর। বাজারে গিয়ে বৃদ্ধ এই বলে কাঠ বেচতে লাগলেন; হালাল জিনিসের বদলে কে হালাল জিনিস কিনতে চায়? তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে এক ব্যক্তি কাঠগুলি কিনে নিয়ে তার বদলে কয়েকখানি রুটি দিল। আর রুটি এসে তিনি তাঁর শিষ্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। তারপর নামাজ আদায় করে সবাই মিলে খেলেন।

আদহাম পুত্র সব দেখলেন। কিন্তু নিজের পরিচয় দিলেন না। সশিষ্য আদহাম (রঃ) যখন কাবা ঘর তাওয়াফ করছিলেন, তখন তিনিও কাবা প্রদক্ষিণ শুরু করলেন। একবার মুখোমুখি হলেন দুজনে। পিতার চোখ পড়ল পুত্রের চোখে। তিনি অপলকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

কাজটি তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। শিষ্যগণ অবাক হলেন।

তাওয়াফ শেষ হলে শিষ্যরা জিজ্ঞেস করেন আপনি আমাদের উপদেশ দিয়েছেন, শ্মশ্রুহীন যুবক ও অপরিচিতা নারীর দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। অথচ আপনি ঐ ধরনের এক যুবকের দিকে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়েছিলেন। এর কারণ কি?

তিনি বললেন, বলখ ছেড়ে আসার সময় আমি আমার এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে রেখে এসেছিলাম। মনে হল যুবকটি বোধহয় আমার সেই শিশু পুত্র।

তাঁর কথাটি শিষ্যদের মাথায় রইল। পরদিন একজন মুরিদ বলখ থেকে আগত হজ্জযাত্রীদের তাঁবুগুলি খুঁজতে শুরু করলেন। এক রেশমী কাপড়ের তাবুর ভেতরে তিনি তরুণকে দেখলেন। দামী আসনে বসে তিনি একমনে পবিত্র কোরআন পাঠ করছেন। তাঁকে তাবুতে ঢুকতে দেখে তরুণ তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আমি একটা জিনিস জানতে এসেছি। বলুন তো আপনি কার পুত্র? তরুণ কেঁদে ফেললেন। বললেন, আমি আমার পিতাকে দেখিনি। তবে গতকাল যে বৃদ্ধ লোকটিকে আমি কাঠের বোঝা নিয়ে যেতে দেখেছি, আমার মনে হয়েছে তিনিই আমার পিতা। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারলে হয়তো আমার সংশয় দূর হত। তাঁর নাম ইব্রাহীম আদহাম। মুরিদ বললেন আপনি আমার সঙ্গে আসুন।

তরুণ পুত্রকে তিনি নিয়ে এলেন হযরত আদহাম (রঃ)-এর কাছে।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৬ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৬

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ৪

ক্যাটেগরী