হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৪ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৪

coSam ২৩০


হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) একটি ফলের বাগান পাহারা দিচ্ছেন। বাগানের মালিক তাঁকে কিছু মিষ্টি ডালিম আনতে বললেন, ডালিম আনা হল। মালিক সেগুলি কেটে ফেললেন। খুব টক। বললেন, তুমি তো বাগান পাহারা দাও। বাগানের ফলও খেয়ে দেখেছ। কোনটি টক আর কোনটি মিষ্টি, নিশ্চয় বলতে পারবে। কিন্তু যেগুলি এনে দিলে তা বেশ টক। এর কারণ কি? তিনি বললেন, আপনি বাগান পাহারা দেবার জন্য আমাকে নিযুক্ত করেছেন, ফল খাবার জন্য নয়। কাজেই কোনটি টক আর কোনটি মিষ্টি কি করে জানবো?

প্রহরীর কথায় মালিকের সন্দেহ হয়। তিনি বললেন, তোমার কথার সততার যে সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তোমাকে হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) মনে হচ্ছে। এ কথার উত্তর না দিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রহরার কাজ ছেড়ে চলে গেলেন।

গভীর রাত। হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) নিদ্রাচ্ছন্ন। চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখলেন। দেখলেন, হযরত জিব্রাইল (আঃ) হাতে একখানি বই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি ফেরেশতা প্রধানকে জিজ্ঞেস করবেন, কি ওখানা? আর এ দিয়ে আপনি কি করবেন? জিব্রাইল (আঃ) বললেন, এতে আল্লাহর বন্ধুদের নাম লেখব। ইব্রাহীম (রঃ) হতাশ না হয়ে বললেন, তা না হলেও আমি তাঁর বন্ধুদের বন্ধু তো বটে। তাঁর কথা শুনে হযরত জিব্রাইল (আঃ) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। পরে বললেন, আমি আপনার নামটিই সর্বপ্রথম লেখাবার নির্দেশ পেয়েছি।

এ স্বপ্ন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করেছেন স্বয়ং ইব্রাহীম আদআম (রঃ)।

আর এক রাতের ঘটনা। তিনি রয়েছেন বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে। মসজিদে কাউকে রাত কাটাতে দেওয়া হত না। তিনিও তা জানতেন। তাই নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন, চাটাইয়ের মধ্যে। রাত তখন দুপুর। হঠাৎ মসজিদের দরজা খুলে যায়। আর চল্লিশ জন জোব্বা পরিহিত অনুচর সঙ্গে নিয়ে এক বৃদ্ধ দরবেশ মসজিদে ঢুকে পড়লেন। তাঁর পরনে জোব্বা। প্রথমে তাঁরা দু’রাকাত নামাজ পড়লেন। তারপর বৃদ্ধ দরবেশ তাঁর সঙ্গীদের দিকে মুখ করে বসলেন। এ সময় কেউ বললেন, আজ মসজিদে আর একজন লোক আছে। দরবেশ বললেন, হ্যাঁ। সে ইব্রাহীম ইবনে আদহাম (রঃ)। আজ চল্লিশ ধরে সে এবাদতে কোন স্বাদ পাচ্ছে না।

এবার চাটাই থেকে বেরিয়ে এলেন ইব্রাহীম আদহাম (রঃ)। বললেন, আপনার কথা সম্পূর্ণ সত্য জবাব। কিন্তু দয়া করে এর কারণটা বলুন। দরবেশ বললেন, আপনি একদিন বসরা শহরে খেজুর কিনেছিলেন। খেজুর বিক্রেতা যখন খেজুর ওজন করছিল, তখন একটি খেজুর নিচে পড়ে যাওয়ায় আপনি আপনার প্রাপ্য মনে করে সেটি খেয়েছিলেন। আপনি যে এবাদতে স্বাদ পাচ্ছেন না, তার এই হল কারণ। দরবেশের কথা শুনে তিনি ভোরেই বসরা চলে যান আর খেজুর বিক্রেতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, খেজুর বিক্রেতা তার ক্ষমা প্রার্থনার কারণ শুনে অবাক হয়ে যান। সে বলে, পরের দ্রব্য হরণের অপরাধ যদি এতই গুরুতর হয়, তাহলে আমি না জানি কত অসংখ্য অপরাধ করেছি। এই বলে সে খেজুরের ব্যবসা ছেড়ে দেয়। আর তওবা করে আল্লাহর এবাদতে অত্মনিয়োগ করে। পরবর্তীকালে সে এক বিখ্যাত সাধকে পরিণত হয়। একজন সৈনিকের সঙ্গে তাঁর একদিন কথোপকথন হয়।

সৈনিক। আপনি কে?

আদহাম (রঃ) একজন দাস।

আপনার বারী কোথায়?

আপনি আমার সঙ্গে উপহাস করছেন? এই বলে তাঁর গলায় দড়ি বেঁধে বেত্রাঘাত করতে করতে রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। লোকেরা সৈনিককে বলল, তুমি কার সঙ্গে কী ব্যবহার করছ। উনি ইব্রাহীম ইবনে আদহাম (রঃ)।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৫

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৩

ক্যাটেগরী