হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১২

coSam ১২৪


হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এক দরবেশের তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিভাবে কোথা থেকে জীবিকা সংগ্রহ করেন?

দরবেশের জবাব দেন, সেটা আমার জানার কথা নয়। যিনি আমাকে জীবিকা দেন, বরং তাঁকেই জিজ্ঞেস করুন।

একবার তিনি একটি দাস ক্রয় করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? সে বলল, আপনি যে নাম ধরে ডাকবেন।

তুমি খাবে কি?

আপনি যা খেতে দেবেন।

তুমি কি পরবে?

আপনি যা পরতে দেবেন।

তোমার নিজের কী ইচ্ছা, বল না। ক্রীতদাসের আবার ইচ্ছা-অনিচ্ছা।

তার এ ধরণের কথাবার্তা শুনে মনে মনে তিনি নিজেকেই ধিক্কার দিলেন। তাঁর মনে হল, প্রকৃত দাসত্ব কাকে বলে, এখনও তাঁর শেখা হয়নি। প্রবল কান্না এল তাঁর। আর এভাবে কাঁদতে কাঁদতে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন।

কিভাবে তাঁর সময় কাটে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাঁর চারটি বাহন আছে। যেমন (১) কৃতজ্ঞতা- আল্লাহ যখন কিছু দান করেন, তখন কৃতজ্ঞতার বাহনে চড়ে তিনি আল্লাহর দরবারে হাজির হন।

(২) বিশুদ্ধ প্রেম- যখন এবাদতের উদ্দেশ্যে গমন করেন, তখন তাঁর বাহন হল বিশুদ্ধ প্রেম।

(৩) ধৈর্য্য- যখন কোন বিপদ আসে জীবনে, তখন ধৈর্য্যের বাহনে চড়ে তিনি অগ্রসর হন।

(৪) তাওবা- আর যখন কোন পাপ কাজ করে ফেলেন, তুমি যে পর্যন্ত নিজের স্ত্রীকে বিধবা, সন্তানদের এতিম আর রাতের বিছানাকে কবর মনে না করবে, সে পর্যন্ত তুমি নিজেকে সাধক পর্যায়-ভুক্ত বলে মনে করবে না।

একবার এক সাধক- সমাবেশে গিয়ে বসতে যাবেন, তাঁরা তাঁকে এই বলে বাধা দিলেন যে, তাঁর শরীরে এখনও বাদশাহীর গন্ধ আছে। দ্বিরুক্ত না করে তিনি দূরে গিয়ে বসলেন।

আল্লাহর তরফ থেকে মানুষের মনের ওপর পর্দা পড়ে কেন? তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বললেন, আল্লাহ যা ভালোবাসেন, মানুষ তার বদলে অন্য কিছু ভালোবাসে, তাই।

তাঁর উপদেশ- একমাত্র আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে। আর সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বর্জন করবে। এক লোককে তিনি বললেন, তুমি যা বেঁধে রেখেছে, তা খুলে ফেল, আর যা খোলা আছে তা বেঁধে রাখো। সে বলল, একটু খুলে বলুন হুজুর। বুঝতে পারছি না। তিনি এবার পরিষ্কার করে বললেন, বন্ধ টাকার থলে খুলে দান কর। আর অশ্লীল কথা বলা বন্ধ কর। তাওয়াফ রত অবস্থায় তিনি এক লোককে বললেন, সে পর্যন্ত না তোমার ভিতরের চারটি বস্তু বর্জন করে অন্য চারটি বস্তু অর্জন করবে, সে পর্যন্ত তুমি পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। যেমন

(১) ধনদৌলত ও প্রভুত্ব ছেড়ে দাসত্ব ও ফকিরী গ্রহণ কর।

(২) মান-সম্মানের আশা ছেড়ে দাও। অপমান ও হীনতা স্বীকার কর।

(৩) নিদ্রা ও আলস্য ত্যাগ কর, কর্মতৎপর হও।

(৪) অহমিকা বর্জন বিনয়ী হও।

সত্য- সন্ধিৎসু এক ব্যক্তির প্রতি তাঁর উপদেশ

(১) তুমি যদি পাপকর্ম কর, তাহলে আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক খাবে না।

লোকটি বলল, রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ। তাঁকে বাদ দিয়ে আর কার কাছ থেকে রিজিক গ্রহণ করব? হযরত আদহাম (রঃ) বললেন, তা ঠিক। তবে তুমি তাঁর রিজিক খাবে অথচ তাঁর অবাধ্য হবে, তা হয় না।

(২) তুমি যদি পাপ করতে চাও। তাহলে আল্লাহর রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাও। কেননা, যারা রাজ্যে বাস করবে তার বিরুদ্ধাচরণ করবে, এ হতে পারে না।

লোকটি বলে, আল্লাহর রাজ্য ছাড়া অন্য কারও রাজ্য আছে কি? তিনি বললেন, তা যদি বুঝে থাক, তবে যেভাবে যা করা দরকার তাই কর।

(৩) তুমি যদি একান্তই পাপ করতে চাও, তাহলে এমন জায়গায় গিয়ে তা কর, যেন তিনি না দেখেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম আদহাম (রঃ) – পর্ব ১১

ক্যাটেগরী