হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মৃত্যুর আকর্ষণীয় কাহিনী | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মৃত্যুর আকর্ষণীয় কাহিনী

coSam ৫৭


মালাকুল মউত আত্মা কবজ করার জন্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে হাজির হলাে। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাকে বললেন, হে মালাকুল মউত! কোন বন্ধু কি তার বন্ধুর আত্মা কবজ করতে পারে? মালাকুল মউতের নিকট এ মর্মে নির্দেশ এল যে তুমি ইব্রাহীম (আঃ) কে একথা জিজ্ঞেস কর যে আপনার দৃষ্টিতে কি এমন লােক আছে যিনি তার বন্ধুর সাক্ষা লাভ পছন্দ করে না? হযরত  ইব্রাহীম (আঃ) ঐ জবাব শুনে উদ্বেলিত হয়ে পড়লেন এবং বলতে লাগলেন, হে মালাকুল মউত! তুমি এক্ষণ আমার রুহ কবজ করে না। (আহমদ) 

(২) হযরত আনাস (রাঃ) একথা বর্ণনা করেন রাসূল (সাঃ) আমাকে বলেছেন যদি তুমি আমার উপদেশ স্মরণ রাখতে চাও তাহলে জেনে তাহলে জেনে রাখ তোমার নিকট মৃত্যুর চাইতে অন্য কোনো বস্তু প্রিয় হতে পারে না। (ইস্পাহানী)

(৩) হযরত সহল ইবনে আবদুল্লাহ তসতরী (রহঃ) বলেন, মৃত্যুর কামনা তিন প্রকারের লােক করে থাকে। এক, যে ব্যক্তি মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, দুই, যে ব্যক্তি তাকদির থেকে পালিয়ে যেতে চায় । তিন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতের আগ্রহ রাখে। (ইবনে সাদ)

(৪) হযরত হিববান ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) ফরমান মৃত্যু এমন একটি সেতু যেটি অতিক্রম করে একজন বন্ধু তার অপর বন্ধুর নিকট পৌছে যায় । (ইবনে সাদ)

(৫) হযরত আবু উসমান (রাঃ) বলেন, ভােগ-বিলাসের মাঝে থেকেও মৃত্যুকে প্রিয় ভাবতে জানা আলহের প্রমাণ বহন করে। (ইবনে সাদ)

হযরত যুননুন মিশরী (রহ.) বলেন, আগ্রহ হলো একটি উঁচু পর্যায়ের স্তর। বান্দা যখন এ স্তরে উপনীত হয় তখন তার প্রভুর সাক্ষাতের জন্যে তার মাঝে উদদীপনা সৃষ্টি হয় এবং দর্শনের সুন্য সে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে। (ইবনে আসাকির)

(৭) সাহাবী হযরত আবু উতবা খাওলানীকে (রাঃ) বলা হল যে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মালেক মহামারির ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে, একথা শুনতেই তিনি ইন্নালিল্লাহ পাঠ করলেন আর বলতে লাগলেন এমন একটি কথা শ্রবণ করার জন্যে বেঁচে থাকব এটা আমি ভাবতেই পারিনি, শুন! আমি তােমাদেরকে এই সকল অভ্যাসের কথা বলে দিচ্ছি যেগুলাে তোমাদের ভাইয়েরা। গ্রহণ করেছিল। এক, আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া তাদের নিকট খুবই প্রিয় ছিল। দুই, কম হােক বেশি হােক শত্রুকে তারা ভয় করত না। তিন, তাদের পার্থিব প্রয়ােজন মিটবে কি মিটলে না। এ জন্যে তারা ভীত ছিল না। কারণ আল্লাহ তাআলা রিযিকদাতা একথার উপর তাদের তীব্র ভরসা ছিল। চার কোন অঞ্চলে মহামারি দেখা দিলে তারা সেখানেই অবস্থান করত এবং আল্লাহ তা'আলার ফয়সালার অপেক্ষায় থাকত । (ইবনে আসাকির)।

(৮) ইবনে আবদে রাব্বিহী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত মকহুলকে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাত কি আপনার নিকট প্রিয়? তিনি বললেন, এমনকি কেউ আছে যার নিকট জান্নাত প্রিয় নয়। তিনি বললেন, বিষয়টি যদি তাই হয় তাহলে মৃত্যুর সাথে আপনার মহব্বত থাকা চাই, কেননা মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না কস্মিনকালেও। (আবু নায়ীম)।

(৯) আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ ইবনে জাবের (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আবি জাকারিয়া (রহঃ) বলে বেড়াতেন আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় হবে এমন একশত বছরের আয়ু এবং এক্ষুণি মৃত্যুবরণ করতে হবে এ দুটি বিষয়ের যে কোনাে একটি গ্রহণ করার অনুমতি যদি আমাকে দেওয়া হয় তাহলে আমি এক্ষুণি মৃত্যুবরণ করাকে গ্রহণ করে নেব। কারণ আল্লাহ ও তার রাসূল এবং পুণ্যাত্মাদের সাক্ষাত আমার নিকট খুবই আগ্রহের বিষয়।

(১০) আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারী বর্ণনা করেন আমি আবু আবদুল্লাহ নিবাজী থেকে শুনেছি তিনি বলতে ছিলেন দুনিয়ার সৃষ্টি পর্ব থেকে শুরু করে
অদ্যাবধিকাল পর্যন্ত সকল উপভোগ্য সামগ্রী গ্রহণ এবং এক্ষুণি মৃত্যুবরণে মাঝে যদি আমাকে অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে এক্ষুণি মৃত্যুবরণ করাকে আমি গ্রহণ করে নেব। অন্যথায় এটাতাে খুবই বিস্ময়ের বিষয় যে আমরা যার উপাসনা করি তার দর্শন পছন্দ করি না। (ইবনে আসাকির)।

(১১) আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি আবু আওয়ার সালামীর মজলিশে বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা'আলা আমার নিকট মৃত্যুর। চাইতে প্রিয় কোনাে বস্তু সৃষ্টি করেননি। আবু আওয়ার একথা শুনে বলল, লাল উট হস্তগত হওয়ার চাইতে এটা আমার নিকট অধিক প্রিয় যে আমি তােমার মতো হব। (ইবনে মােবারক)

লাল উট আরবদের নিকট খুবই প্রিয় এবং তাদের সর্বোত্তম সম্পদের মাঝে এটি একটি। আবু আওয়ারের কথার মর্ম হল লাল উট আমার হস্তগত হওয়ার চাইতে তােমার মত মৃত্যুকেও আমার কাছে প্রিয় বলে মনে হােক।

পরবর্তী গল্প
উম্মে সালামা (আরবের বিধবা)-১ম পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
মত্যুকে বেশি করে স্মরণ করতে হবে

ক্যাটেগরী