হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৪ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৪

coSam ৯৫


হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এদিকে হযরত ইউসুফ (রঃ) দৈববাণী শুনলেন, সেই অনুতপ্ত যুবককে খোঁজ করার নির্দেশ পেলেন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে বেহুঁশ অবস্থায় কবরস্থানে পাওয়া গেল। তিনি তার কাছে বসে পরম যত্নে মাথাটি কোলের ওপর তুলে নিলেন।

অনেকক্ষণ পড়ে যুবক চোখ মেলে তাকাল। দেখলো, হযরতের কোলে মাথা রেখে সে শুয়ে আছে। এমন নিশ্চিত আশ্রয় এ জীবনে এর আগে সে কখনও খুঁজে পায়নি।

নিশাপুরের এক বিত্তশালী বণিক। হাজার টাকায় একবার কিনে আনল এক রূপসী বাঁদী। ঠিক এই সময় বণিকের এক খাতক টাকা শোধ না দেবার অভিপ্রায়ে শহর ছেড়ে চলে গেল। তাকে খোঁজ করা খুবই জরুরী। কিন্তু মুশকিল হল বাঁদীকে নিয়ে। এমন রমণী রত্ন তিনি কার কাছে রেখে যাবেন? তেমন আস্তাশীল বিশ্বস্ত মানুষ শহরে কে-ই বা আছে আর! শেষ পর্যন্ত সে সওদাগর আবু ওসমান জাবরীর হেফাযতেই মেয়েটিকে রাখল। আবু ওসমান প্রথম রাজি হননি। কিন্তু পরে তার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলেন না। নিশ্চিত হয়ে বণিক এবার খাতকের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল।

কিছুদিন কেটে গেল। হঠাৎ একদিন আবু ওসমানের নজর পড়ল সুন্দরী বাঁদীর ওপর। আর সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠল কামনার আগুন। অনন্যোপায় হয়ে অস্থির আবেগে তিনি ছুটে গেলেন তাঁর পীর আবু হাফস হাদ্দাদের কাছে। সব কথা খুলে বললেন। তিনি তাঁকে হযরত ইউসুফ (রঃ)-এর কাছে যেতে বললেন। আবু ওসমান দেরী না করে তাঁর সন্ধানে গেলেন। হযরতের বাসভবনের কাছাকাছি গিয়ে লোকজনকে তিনি যখন তাঁর বাড়ীর নিশানা জিজ্ঞেস করলেন, তখন একবাক্যে সবাই বলতে লাগল, সে তো খুব বাজে একটা লোক। আপনাকে ভদ্রলোক বলেই মনে হচ্ছে। তার কাছে আপনার কী দরকার? আমরা মনে করি, ওরকম বদ লোকের সঙ্গে দেখা না করে আপনার বাড়ি ফিরে যাওয়া ভালো।

লোকের কথায় প্রভাবিত হয়ে আবু ওসমান হযরতের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে এলেন। আর তাঁর অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললেন পীর আবু হাফস হাদ্দাদকে। আবু হাফস খুবই অবশ্যই হযরত ইউসুফ (রঃ)-এর সঙ্গে একবার দেখা করেন।

অগত্যা আবু ওসমান আবার বললেন, হযরতের সঙ্গে দেখা করতে। আর প্রতিবেশীদের বাঁধা, গালমন্দ উপেক্ষা করে হাজির হলেন হযরতের দরজায়। দেখলেন, দশ দিক আলো করে বসে আছেন অপূর্ব জ্যোতির্ময় পুরুষ হযরত ইউসুফ (রঃ)। আর তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে আশ্চর্য সুন্দর এক কিশোর। আর কাছেই রয়েছে একটি শরাবের সোরাহী ও পানপাত্র। আবু ওসমান তাঁকে সালাম জানালেন। তারপর শুরু হল কথাবার্তা। হযরতের সুমিষ্ট ভাষণে ও বিনয়পূর্ণ আচরণে অভিভূত হলেন আবু ওসমান। পরে, বললেন, আপনি আল্লাহর ওলী, মহাজ্ঞানী। একটা কথা জিজ্ঞেস করার বড় ইচ্ছে আমার। কিন্তু সংকোচবোধ করছি।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৫

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৩

ক্যাটেগরী